অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে লিটন দাসকে দলে রাখতে চায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে পুরোপুরি চোটমুক্ত না হলেও তার পুনর্বাসনের অগ্রগতি বিবেচনায় নিয়ে প্রথম টেস্টের দলে রাখা হয়েছে এই উইকেটকিপার-ব্যাটারকে।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে লিটনকে পাওয়ার আশা করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু পায়ের পেশির (ক্যাফ) চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় সেসব সিরিজে খেলতে পারেননি তিনি। জুনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে চোট পাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি সিরিজ এবং জিম্বাবুয়ের পুরো সাদা বলের সিরিজও মিস করেন লিটন।
গত রোববার থেকে হালকা দৌড় শুরু করেছেন তিনি। এরপর দুটি ব্যাটিং সেশন সম্পন্ন করে গত রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে রওনা দেন এই ব্যাটার।
আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হতে যাওয়া প্রথম টেস্টে লিটনের খেলা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে বিসিবির বিশ্বাস, সফরের মধ্যেই পুনর্বাসনের শেষ ধাপ সম্পন্ন করে মাঠে ফেরার মতো প্রস্তুতি নিতে পারবেন তিনি।
বিসিবির একটি সূত্র জানায়, “এ ধরনের সিদ্ধান্ত খেলোয়াড়ের ইচ্ছা এবং দলের প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে। লিটনের উন্নতি ভালো হয়েছে এবং মেডিকেল পরীক্ষাতেও বড় কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। তার বর্তমান অবস্থার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
এর আগে জিম্বাবুয়ে সফরের সময় চোটের কারণে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি ছিল লিটনের। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন বলে মনে করছে বিসিবি। অস্ট্রেলিয়ায় হাতে থাকা সময়ের মধ্যে তার শারীরিক উন্নতির ওপর নির্ভর করবে প্রথম টেস্টে তার অংশগ্রহণ।
প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের ছাড়পত্র পাওয়ার পরই লিটনকে দলে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “শারীরিক বিষয়গুলো যারা দেখেন, তারাই মূল সিদ্ধান্ত দেন। আমরা দক্ষতার দিকটি দেখি। অবশ্যই দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে আমার মতামত থাকে, তবে তার আগে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পাওয়া হয়েছে বলেই তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”
লিটনের চোট ব্যাটিংয়ে কোনো সমস্যা তৈরি করেনি বলেও জানান হাবিবুল বাশার। তার মূল সমস্যা ছিল ক্যাফ ইনজুরি, যার কারণে দ্রুত দৌড়ানো ও টার্ন নেওয়ার সময় অসুবিধা হচ্ছিল।
বাংলাদেশ দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনও মনে করেন, টেস্ট ক্রিকেটে লিটনের এই চোট তুলনামূলক কম প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি বলেন, “টেস্ট ম্যাচে সাধারণত তিন-চার রান নেওয়ার ক্ষেত্রে গতি কম থাকে। উইকেটকিপিংয়ের সময়ও তাকে বেশি স্প্রিন্ট করতে হবে না। যদি সে খেলার মতো অবস্থায় থাকে, তাহলে অভিজ্ঞ একজন খেলোয়াড়কে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত যৌক্তিক।”
বিসিবি আপাতত পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় না থেকে সম্ভাব্য লাভের দিকটিকে গুরুত্ব দিয়েছে। প্রথম টেস্টে খেলতে না পারলেও দ্বিতীয় টেস্টে লিটনের ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।
অভিজ্ঞ এই ব্যাটারকে দলে রাখার সিদ্ধান্ত দেখাচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ সিরিজে দলের ভারসাম্য ও অভিজ্ঞতাকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ।
কালের আলো/এসএ
আপনার মতামত লিখুন
Array