খুঁজুন
                               
, ,
           

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে চাকরি, আবেদন শেষ ২১ অক্টোবর

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে চাকরি, আবেদন শেষ ২১ অক্টোবর
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকটি গ্রুপ ইন্টারনাল কন্ট্রোল অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স বিভাগে ইন্টারনাল অডিটর পদে জনবল নিয়োগ দেবে। গত ১২ অক্টোবর ২০২৬ থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীরা আগামী ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত প্রার্থীরা মাসিক বেতনের পাশাপাশি ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

পদের নাম ও শিক্ষাগত যোগ্যতা

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ইন্টারনাল অডিটর পদে জনবল নেওয়া হবে। তবে এ পদে কতজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে, তা নির্দিষ্ট করা হয়নি। আবেদন করতে হলে প্রার্থীকে যেকোনো বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারী হতে হবে।

অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য যোগ্যতা

ইন্টারনাল অডিটর পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীর কমপক্ষে ২ থেকে ৬ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণমূলক কমপ্লায়েন্স এবং ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষা বা রিস্ক-বেজড অডিটসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা থাকলে তা বাড়তি যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। নারী ও পুরুষ উভয় প্রার্থীই আবেদন করতে পারবেন। তবে বিজ্ঞপ্তিতে বয়সসীমা উল্লেখ করা হয়নি।

চাকরির ধরন, কর্মস্থল ও বেতন

এটি পূর্ণকালীন চাকরি। নির্বাচিত প্রার্থীকে ঢাকায় ব্যাংকের কার্যালয়ে কাজ করতে হবে। এ পদের বেতন আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারণ করা হবে। এ ছাড়া ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।

আবেদন করার নিয়ম ও শেষ সময়

আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। নিয়োগের বিস্তারিত তথ্য জানা এবং আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে ১২ অক্টোবর ২০২৬ থেকে। আবেদনের শেষ তারিখ ২১ অক্টোবর ২০২৬। তাই আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।

এক নজরে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে নিয়োগ ২০২৬

প্রতিষ্ঠানের নাম মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি। পদের নাম ইন্টারনাল অডিটর। বিভাগ গ্রুপ ইন্টারনাল কন্ট্রোল অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স। পদসংখ্যা নির্ধারিত নয়। শিক্ষাগত যোগ্যতা যেকোনো বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি। অভিজ্ঞতা ২ থেকে ৬ বছর। চাকরির ধরন পূর্ণকালীন। কর্মস্থল ঢাকা। বেতন আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারিত হবে। আবেদন শুরুর তারিখ ১২ অক্টোবর ২০২৬ এবং শেষ তারিখ ২১ অক্টোবর ২০২৬। আবেদন করতে হবে অনলাইনে।

কালের আলো/এসএ

প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ৩ বছর, পিটিআইয়ের সক্ষমতা বাড়বে ৬ গুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ৩ বছর, পিটিআইয়ের সক্ষমতা বাড়বে ৬ গুণ
দেশের প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে শিক্ষক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রশিক্ষণের মেয়াদ আড়াই থেকে তিন বছর পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) বার্ষিক প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বর্তমানের প্রায় ৭ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৪২ হাজারে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এসব পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, শিক্ষকদের আধুনিক শিখনপদ্ধতিতে দক্ষ করে তোলা, প্রযুক্তিনির্ভর শ্রেণিকক্ষ গড়ে তোলা এবং প্রাথমিক শিক্ষার সামগ্রিক মান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে।

সাক্ষাৎকারে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ, মিড-ডে মিল, ডিজিটাল শিক্ষা এবং দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগের বিষয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রশিক্ষণের মেয়াদ বাড়ানোর পরিকল্পনা

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণব্যবস্থার নতুন কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানান, শিক্ষকদের দীর্ঘ সময় অপ্রশিক্ষিত অবস্থায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করার বর্তমান ধারায় পরিবর্তন আনতে চায় সরকার।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষকরা প্রথমে পিটিআইতে দুই মাসের আবাসিক বা ক্যাম্পাসভিত্তিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করবেন। এরপর শ্রেণিকক্ষে ফিরে পাঠদান শুরু করবেন। বাকি প্রশিক্ষণ নির্ধারিত সিলেবাস ও মডিউল অনুযায়ী অনলাইন ও অফলাইন পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে হবে।

প্রশিক্ষণের মডিউল ও পরীক্ষাগুলো পর্যায়ক্রমে শেষ করার জন্য আড়াই থেকে তিন বছর পর্যন্ত সময় নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তবে নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের জন্য এক বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরির কাজও এগিয়েছে। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) এ মডিউল তৈরির কাজ চূড়ান্ত করেছে বলে জানান তিনি। এ ব্যবস্থায় প্রথম দুই মাস পিটিআইতে সরাসরি প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর বাকি ১০ মাস অনলাইন ও অফলাইন পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হবে।

অর্থাৎ, একদিকে নতুন শিক্ষকদের জন্য এক বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণ মডিউল চালুর প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ কাঠামো আড়াই থেকে তিন বছর পর্যন্ত সম্প্রসারণের বিষয়টিও বিবেচনা করছে সরকার।

পিটিআইয়ের সক্ষমতা বাড়বে ছয় গুণ

বর্তমানে দেশের পিটিআইগুলোতে বছরে প্রায় ৭ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। এই সক্ষমতা বাড়িয়ে ৪২ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে বর্তমান সক্ষমতার তুলনায় ছয় গুণ বেশি শিক্ষককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণে শুধু পিটিআইয়ের ওপর নির্ভর করা হবে না। প্রয়োজনে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিভাগকেও এ কাজে যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষকদের আধুনিক শিক্ষণপদ্ধতি, শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা এবং শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক পাঠদানে দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়তে পারে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, নীতিগতভাবে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শিক্ষককে স্থায়ীভাবে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে নিয়োজিত রাখা যাবে না।

২০২৭ সালের মধ্যে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিলের লক্ষ্য

শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো, ঝরে পড়া কমানো এবং শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মিড-ডে মিল কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বর্তমানে দেশের ১৫০টি উপজেলায় এ কর্মসূচি চালু রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানান, বাকি উপজেলাগুলোতেও কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর কাজ শুরু হয়েছে। এ জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরির কাজ চলছে।

সরকারের লক্ষ্য, ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ শিশুর জন্য পুষ্টিকর দুপুরের খাবার নিশ্চিত করা।

কর্মসূচিটি দেশব্যাপী সম্প্রসারিত হলে বিদ্যালয়ে শিশুদের উপস্থিতি ধরে রাখা এবং পুষ্টির ঘাটতি মোকাবিলায় সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। তবে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, খাবারের মান নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ ও স্মার্ট ক্লাসরুম

প্রাথমিক শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ এবং ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি শুধু শিক্ষকদের হাতে ডিজিটাল ডিভাইস তুলে দেওয়ার প্রকল্প নয়; বরং শ্রেণিকক্ষের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ।

ববি হাজ্জাজ জানান, গুগলসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে শিক্ষকদের হাতে ট্যাব পৌঁছে দেওয়া হবে।

প্রযুক্তিনির্ভর এ ব্যবস্থার মাধ্যমে পাঠদানকে আরও আকর্ষণীয় করা, ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার এবং শিক্ষকদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি। প্রতিমন্ত্রী জানান, যেসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ নেই, সেসব প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন এবং ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ নিশ্চিত করার কাজ চলছে।

৩৬ হাজার ৯৬০ প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য, পদোন্নতির অপেক্ষা

দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ৩৬ হাজার ৯৬০টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকার বিষয়টিও সাক্ষাৎকারে উঠে আসে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির আইনি প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন আদালতের রায়ের চূড়ান্ত সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার অপেক্ষা রয়েছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে আগেই আলোচনা শুরু হয়েছে। রায়ের চূড়ান্ত কপি হাতে পাওয়ার পর প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নতুন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পথও উন্মুক্ত হবে। তখন বিপুলসংখ্যক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্রধান শিক্ষক পদে দীর্ঘদিনের শূন্যতা পূরণ করা গেলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম, শিক্ষক ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বইয়ের বোঝা কমিয়ে আনন্দদায়ক শিক্ষা

শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত বইয়ের চাপ কমিয়ে পাঠদানকে আনন্দদায়ক করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে (এনসিটিবি) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

পরিকল্পনায় গল্প বলার মাধ্যমে শেখানো এবং গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের মতো কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এর মাধ্যমে মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্রাথমিক স্তরে শিশুদের শেখার আগ্রহ তৈরি এবং শ্রেণিকক্ষে সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ানোকে এ উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হাওর, চর ও পাহাড়ে শিক্ষকদের জন্য বিশেষ সুবিধার ভাবনা

দেশের দুর্গম অঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক ধরে রাখা এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করাও সরকারের পরিকল্পনার অংশ। হাওর, চর ও দুর্গম পার্বত্য এলাকার শিক্ষকদের উৎসাহিত করতে বিশেষ ভাতা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

একই সঙ্গে এসব এলাকার শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সমস্যা কমাতে প্রয়োজনে আবাসিক বা রেসিডেন্সিয়াল স্কুল প্রতিষ্ঠা করা যায় কি না, তা নিয়েও নীতিগতভাবে ভাবছে সরকার।

দুর্গম এলাকার অনেক শিক্ষার্থীর জন্য বিদ্যালয়ে যাতায়াত বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। আবার যোগাযোগব্যবস্থা ও বসবাসের অসুবিধার কারণে এসব অঞ্চলে শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনও কঠিন হয়। বিশেষ ভাতা ও আবাসিক শিক্ষাব্যবস্থার মতো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।

বাস্তবায়নই হবে বড় চ্যালেঞ্জ

শিক্ষক প্রশিক্ষণের মেয়াদ ও সক্ষমতা বাড়ানো, সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল চালু, প্রযুক্তিনির্ভর শ্রেণিকক্ষ গড়ে তোলা এবং শিক্ষকস্বল্পতা কমানোর পরিকল্পনা প্রাথমিক শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তবে এসব উদ্যোগের সুফল পেতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত অর্থায়ন, প্রশিক্ষিত জনবল, মানসম্মত খাবার সরবরাহ, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং কার্যকর তদারকি। বিশেষ করে দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়গুলোকে সমান সুযোগের আওতায় আনা এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদের বাস্তব দক্ষতা বাড়ানো হবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সরকারের পরিকল্পনাগুলো নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়িত হলে প্রাথমিক শিক্ষার পরিবেশ ও পাঠদানের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। এখন এসব উদ্যোগের বাস্তবায়ন, অগ্রগতি এবং শিক্ষার্থীদের শেখার মানে এর প্রভাব কতটা পড়ে, সেদিকেই নজর থাকবে।

কালের আলো/এসএ

দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে পুলিশের বিশেষ নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে পুলিশের বিশেষ নির্দেশনা

শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপন এবং পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আয়োজক ও দর্শনার্থীদের জন্য একগুচ্ছ পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব যাচাই না করে শেয়ার না করা, মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা ও অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখা, নারী-পুরুষের জন্য পৃথক প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ নিশ্চিত করা এবং প্রতিমা বিসর্জনে নির্ধারিত পথ অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বুধবার পুলিশ সদরদপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি দুর্গাপূজা চলাকালে জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য সেবা পেতে কয়েকটি যোগাযোগ নম্বর প্রকাশ করা হয়েছে।

গুজব ছড়ানো ও যাচাইহীন তথ্য শেয়ার না করার আহ্বান

পূজাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো ঘটনার সত্যতা যাচাই না করে তা প্রচার করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। যাচাই না করে কোনো তথ্য লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়লে তা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। তাই কোনো ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে মন্তব্য করা বা তথ্য প্রচার না করার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

পূজামণ্ডপে নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরা ও অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র

পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ রাখার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি মণ্ডপে ব্যাগ, থলে বা পোটলা নিয়ে প্রবেশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা জোরদার করতে পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা ও অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে আর্চওয়ে গেট স্থাপন এবং মণ্ডপ ও প্রতিমা বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখার পরামর্শও দিয়েছে পুলিশ।

বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে যাতে নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত না হয়, সে জন্য সম্ভব হলে বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থা হিসেবে স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর বা চার্জার লাইট রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তায় স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের পরামর্শ

পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর। স্বেচ্ছাসেবকদের সহজে শনাক্ত করার জন্য তাঁদের আলাদা পোশাক, দৃশ্যমান পরিচয়পত্র এবং ‘স্বেচ্ছাসেবক’ লেখা আর্মব্যান্ড রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মণ্ডপে দর্শনার্থীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং প্রয়োজনে নিরাপত্তাকর্মীদের সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবকেরা ভূমিকা রাখতে পারেন। এ জন্য তাঁদের পরিচয় স্পষ্ট ও সহজে দৃশ্যমান রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান

দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের সময় অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। আজান ও নামাজের সময় মসজিদের পাশের পূজামণ্ডপে এবং প্রতিমা বিসর্জনের সময় শব্দযন্ত্রের ব্যবহার সীমিত রাখতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া আতশবাজি ও পটকা ফোটানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উৎসব উদ্‌যাপনের সময় পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে পুলিশের নির্দেশনায়।

প্রতিমা বিসর্জনে নির্ধারিত পথ অনুসরণের নির্দেশনা

প্রতিমা বিসর্জনের সময় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং জনদুর্ভোগ কমানোর জন্য নির্ধারিত পথ অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন নির্ধারিত স্থানে বিসর্জন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখার পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এসব নির্দেশনা অনুসরণের মাধ্যমে উৎসবের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।

জরুরি প্রয়োজনে +৭৬৪ নম্বরে ফোন করবেন

দুর্গাপূজা চলাকালে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা পেতে কয়েকটি নিয়ন্ত্রণকক্ষের যোগাযোগ নম্বর প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। নম্বরগুলো হলো—

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স কন্ট্রোল রুম: ০২২২৩৩৮০৬৬১, ০২২২৩৩৮১৯৬৭ ,০১৩২০০০১২৯৯, ০১৩২০০০১৩০০

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি): ০২২২৩৩৫৫৫০০, ০১৮১৭৬০২০৫০

ঢাকেশ্বরী মন্দির সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুম: ০২৯৬১১৩৫৩ ,০১৭০৫৫০৫৫২৯

এসআরবি কন্ট্রোল রুম: ০১৭৭৭৭২০০৯

ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুম: ০২২২৩৩৫৫৫৫৫, ০১৭১৩০৩৮১৮১, ০১৭১৩০৩৮১৮২, ০১৭৩০৩৩৬৬৯৯

২৪ ঘণ্টা জরুরি সহায়তায় ৯৯৯

পুলিশ জানিয়েছে, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে বিনা মূল্যে ফোন করে সহায়তা নেওয়া যাবে। এ সেবা ২৪ ঘণ্টা চালু রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা পাওয়া যায়।

এ ছাড়া জেলা পুলিশ সুপার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) যোগাযোগ নম্বর জানতে বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েবসাইট দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সন্ধানী বার্তা/ডিএইচ/এমএসআইপি

নিয়ন্ত্রণের বাইরে এআইয়ের ‘বটনেট’ আতঙ্ক

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৫ অপরাহ্ণ
নিয়ন্ত্রণের বাইরে এআইয়ের ‘বটনেট’ আতঙ্ক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে বাড়ছে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। এবার এআই মডেলগুলোর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেদের অনুলিপি তৈরি করে ইন্টারনেটজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক করেছে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। প্রতিষ্ঠানটির আশঙ্কা, নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া কোনো এআই একাধিক ইন্টারনেট-সংযুক্ত ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বটনেট তৈরি করতে পারে। এরপর সেটি বিভিন্ন ডিভাইসে ছড়িয়ে পড়া, বন্ধ করার প্রচেষ্টা এড়িয়ে যাওয়া এবং নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে ডেটা সেন্টারের কম্পিউটিং অবকাঠামোয় প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত অ্যানথ্রপিকের এক প্রতিবেদনে এ সম্ভাব্য ঝুঁকির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) কয়েকজন বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানটির উদ্বেগের সঙ্গে একমত হলেও অন্যদের কেউ কেউ এ ধরনের পরিস্থিতি কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভাব্য কোনো পরিস্থিতি আর বাস্তবে ঘটতে যাওয়া ঘটনা এক নয়।

কীভাবে নিজের অনুলিপি তৈরি করে ছড়িয়ে পড়তে পারে এআই?

অ্যানথ্রপিকের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে কিছু এআই মডেল নিজেদের অনুলিপি তৈরি, নতুন ডিভাইসে প্রবেশ এবং প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং ক্ষমতা সংগ্রহের মতো কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হতে পারে। এসব সক্ষমতা একত্র হলে কোনো নিয়ন্ত্রণহীন এআইয়ের পক্ষে একাধিক ডিভাইসে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে বটনেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বটনেট হলো ইন্টারনেটে যুক্ত একাধিক কম্পিউটার, সার্ভার বা অন্যান্য ডিভাইসের নেটওয়ার্ক, যেগুলো দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সাইবার অপরাধীরা সাধারণত এসব ডিভাইস ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

অ্যানথ্রপিকের আশঙ্কা, কোনো এআই যদি নিজেই এমন একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারে, তাহলে সেটিকে শনাক্ত করা ও নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে, যদি এআইটি কোনো একটি কেন্দ্রীয় সার্ভারের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন ডিভাইসে ছড়িয়ে থাকে, তাহলে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থা বন্ধ করে পুরো নেটওয়ার্ক নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব নাও হতে পারে।

মাঝারি আকারের এআই মডেল নিয়েও উদ্বেগ

অ্যানথ্রপিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির পরীক্ষায় ৩০ বিলিয়ন বা তার কম প্যারামিটারবিশিষ্ট মাঝারি আকারের এআই মডেলগুলো নিজেদের অনুলিপি তৈরি ও ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি পৃথক কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে পেরেছে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি নির্ভরযোগ্যভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে মডেলগুলোর এখনো সমস্যা রয়েছে।

প্যারামিটার হলো এআই মডেলের ভেতরে শেখা সংখ্যাগত মান, যেগুলোর মাধ্যমে মডেল ইনপুট বিশ্লেষণ করে ফলাফল তৈরি করে। সাধারণভাবে প্যারামিটারের সংখ্যা মডেলের আকার ও জটিলতার একটি ধারণা দেয়, যদিও শুধু এই সংখ্যা দিয়ে কোনো মডেলের সামগ্রিক সক্ষমতা নির্ধারণ করা যায় না।

অ্যানথ্রপিকের বক্তব্য অনুযায়ী, ইন্টারনেট-সংযুক্ত তুলনামূলক কম খরচের বিভিন্ন ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেগুলোর কম্পিউটিং ক্ষমতা একত্র করার সম্ভাবনাও বিবেচনায় নিতে হবে। এমনটি সম্ভব হলে কোনো একক শক্তিশালী কম্পিউটারের ওপর নির্ভর না করেও একটি এআই ব্যবস্থা বিভিন্ন ডিভাইসের সম্মিলিত সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারে।

তবে পরীক্ষায় পৃথক কিছু কাজ করতে পারা মানেই বাস্তব ইন্টারনেটে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারা নয়। এ ধরনের পরিস্থিতি বাস্তবে ঘটাতে আরও অনেক প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বাধা অতিক্রম করতে হবে।

২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সক্ষমতা বাড়ার পূর্বাভাস

অ্যানথ্রপিকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ছোট আকারের এআই মডেলগুলোর সক্ষমতা যদি আগের গতিতেই বাড়তে থাকে, তাহলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেদের অনুলিপি তৈরি ও ছড়িয়ে পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।

প্রতিবেদনে সম্ভাব্য আরেকটি ঝুঁকির কথাও বলা হয়েছে। সেটি হলো, নিজেদের বিস্তার ঘটাতে এআই মডেলগুলো আরও শক্তিশালী কম্পিউটিং অবকাঠামোর দিকে নজর দিতে পারে। এর মধ্যে ডেটা সেন্টারে ব্যবহৃত প্রসেসর ও অন্যান্য কম্পিউটিং সম্পদ থাকতে পারে। এসব অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে এআইয়ের হাতে আরও বেশি কম্পিউটিং ক্ষমতা চলে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে এ পূর্বাভাসকে নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি এআইয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির বর্তমান প্রবণতার ভিত্তিতে তৈরি একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির বিশ্লেষণ। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এমন ঘটনা ঘটবেই, এমন নিশ্চয়তা প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

অ্যানথ্রপিকের সতর্কবার্তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতভেদ

এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও অ্যানথ্রপিকের সতর্কবার্তার বাস্তবতা ও উপস্থাপন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারের সাবেক প্রধান সিয়ারান মার্টিন মনে করেন, ছোট আকারের এআই মডেলকে কম খরচের কোনো ডিভাইসে চালাতে পারা নিজে থেকেই বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকটের প্রমাণ নয়। তাঁর মতে, অ্যানথ্রপিকের প্রতিবেদন প্রযুক্তিগতভাবে আকর্ষণীয় হলেও এতে নিজেদের প্রযুক্তি বা পণ্যের গুরুত্ব বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতা থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের এই সংশয়ের পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি রয়েছে। বড় এআই মডেলগুলো সাধারণত আকারে বিশাল এবং সেগুলো চালাতে উল্লেখযোগ্য কম্পিউটিং ক্ষমতা প্রয়োজন হয়। ফলে একটি ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে মডেল সরিয়ে নেওয়া, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সংগ্রহ করা এবং দীর্ঘ সময় ধরে স্বাধীনভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়া সহজ নয়।

এ কারণে কোনো এআই মডেল কিছু নির্দিষ্ট কাজ করতে পারলেও সেটি বাস্তবে একটি বিস্তৃত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ বটনেট গড়ে তুলতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এআই ‘ওয়ার্মে’ পরিণত হওয়ার আশঙ্কা

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো ডেনভারের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ঝেংশিয়ং লি বিষয়টিকে উদ্বেগজনক বলে মনে করেন। তাঁর মতে, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পরিচালিত হলেও এ ধরনের পরীক্ষা সম্ভাব্য বিপদের ইঙ্গিত দেয়।

তিনি আশঙ্কা করছেন, এআই কোনো একক কেন্দ্রীয় সেবার ওপর নির্ভর না করে অসংখ্য ডিভাইসে ছড়িয়ে পড়তে পারলে সেটি কম্পিউটার ওয়ার্মের মতো আচরণ করতে পারে।

ওয়ার্ম হলো এক ধরনের ক্ষতিকর কম্পিউটার প্রোগ্রাম, যা নিজে থেকেই নিজের অনুলিপি তৈরি করে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্য ডিভাইসে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সাধারণ ভাইরাসের মতো সব সময় অন্য কোনো ফাইলের সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রয়োজন হয় না বলে ওয়ার্ম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

লি মনে করেন, এমন কোনো এআই যদি বিভিন্ন ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার নতুন উপায় খুঁজে বের করতে পারে এবং কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই কাজ চালিয়ে যায়, তাহলে সেটিকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তবে এ আশঙ্কাও এখনো সম্ভাব্য ঝুঁকির পর্যায়ে রয়েছে; বাস্তবে এমন একটি এআই নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে বলে এখানে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

নিয়ন্ত্রণহীন এআই নিয়ে বাড়ছে বৈশ্বিক উদ্বেগ

এআইয়ের স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে অ্যানথ্রপিকের প্রতিবেদন বৃহত্তর একটি নিরাপত্তা বিতর্কের অংশ। এআই ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয় সাইবার হামলা চালানো, মানুষের সীমিত তদারকিতে জটিল কাজ সম্পন্ন করা এবং বিদ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থার বাধা এড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রযুক্তি খাতে উদ্বেগ বাড়ছে।

এআই মডেলগুলোর সক্ষমতা যত বাড়ছে, ততই এসব ব্যবস্থার ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকি শনাক্তকরণ এবং ক্ষতিকর কার্যক্রম প্রতিরোধের উপায় নিয়ে আলোচনা জোরালো হচ্ছে। প্রযুক্তি খাতের কিছু কর্মকর্তা ও গবেষক নিয়ন্ত্রণহীন এআইয়ের দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেছেন।

তবে এআইয়ের সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বর্তমান সক্ষমতা, পরীক্ষাগারে পাওয়া ফলাফল এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনুমান—এই তিনটি বিষয়কে আলাদা করে দেখা জরুরি। কোনো কাজ পরীক্ষামূলকভাবে করা সম্ভব হওয়া আর বাস্তব পরিবেশে বড় পরিসরে তা সফলভাবে সম্পন্ন করা এক বিষয় নয়।

ঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড এমার্জিং টেকনোলজির জ্যেষ্ঠ গবেষণা বিশ্লেষক জেসিকা জি মনে করেন, গত তিন মাসে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া এআইয়ের কার্যকলাপ নিয়ে যেসব তথ্য সামনে এসেছে, সেগুলোর আলোকে মডেলগুলোর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা যুক্তিসংগত।

তবে এ ধরনের পরিস্থিতি বাস্তবে ঘটার সম্ভাবনা কতটা, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের মূল কথা হলো, এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা একেবারে শূন্য নয়, কিন্তু এটি যে ঘটবেই, তারও নিশ্চয়তা নেই।

সব মিলিয়ে, অ্যানথ্রপিকের প্রতিবেদন এআইয়ের ভবিষ্যৎ সক্ষমতা ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো, সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো আগেভাগে শনাক্ত করা, নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা এবং এআইয়ের উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিরোধের কার্যকর কৌশল তৈরি করা। তবে নিয়ন্ত্রণহীন এআই ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নিশ্চিত প্রমাণ এখনো নেই।

কালের আলো/এসএ