ভিন্নরূপে ফিরলেন প্রসেনজিৎ, ‘ডাক্তার কাকু’তে বাবা-ছেলের টানাপোড়েন
পশ্চিমবঙ্গের বাংলা সিনেমায় কখনো পুলিশ, কখনো রহস্যভেদী কাকাবাবু—বিভিন্ন চরিত্রে দর্শকের সামনে এসেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। এবার তাঁকে দেখা গেল একেবারেই ভিন্নরূপে। প্রথমবারের মতো চিকিৎসকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। পাভেল পরিচালিত ‘ডাক্তার কাকু’ সিনেমাটি গতকাল প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে।
সিনেমাটিতে প্রসেনজিতের সঙ্গে অভিনয় করেছেন ঋদ্ধি সেন ও এনা সাহা। ছবির গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন বাবা ও ছেলে—দুজনই চিকিৎসক। তবে পেশা, চিকিৎসাবোধ এবং মানুষের প্রতি দায়িত্ব নিয়ে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গিতে রয়েছে বড় পার্থক্য। ব্যক্তিগত মতপার্থক্যের সঙ্গে যখন রোগীর জীবন বাঁচানোর দায়িত্ব যুক্ত হয়, তখন বাবা-ছেলের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও গভীর হয়ে ওঠে।
চিকিৎসাব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও উঠে এসেছে সিনেমাটিতে। ভালো চিকিৎসার জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন, চিকিৎসার বাণিজ্যিকীকরণ এবং পেশাগত নৈতিকতার সংকট—এসব বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ‘ডাক্তার কাকু’।
ছবিটির প্রচারে ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ওয়ালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রসেনজিৎ জানিয়েছেন, নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের কাছ থেকেও তিনি শিখতে চান। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত তরুণ অভিনেতা ঋদ্ধি সেন এই সিনেমায় তাঁর সহশিল্পী হওয়ায় ছবিটিতে অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ আরও বেড়েছিল।
প্রসেনজিৎ বলেন, ঋদ্ধির কোনো কাজ বা ভিডিও ভালো লাগলে তিনি মাঝরাতেও তাঁকে মেসেজ করেন। নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের নিজস্ব অভিনয়ের ভাষার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়াকেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। জটিল কোনো দৃশ্য থাকলে শুটিংয়ের আগে ঋদ্ধির সঙ্গে বসে স্ক্রিপ্ট পড়েছেন বলেও জানান তিনি।
‘ডাক্তার কাকু’তে প্রসেনজিতের চরিত্রটি শুধু একজন চিকিৎসকের পরিচয়ে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মধ্যবিত্ত জীবন, বাঙালিয়ানা, ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও আদর্শবোধ। ছেলের সঙ্গে সম্পর্কেও রয়েছে নানা টানাপোড়েন।
চরিত্রটি প্রসঙ্গে প্রসেনজিৎ বলেন, ছবিতে বাঙালি মধ্যবিত্ত জীবনের পরিচিত আবহ ও শিকড়ের কাছাকাছি থাকা বাঙালিয়ানা রয়েছে। চরিত্রটি পরিচিত মনে হলেও এমন চরিত্র তিনি আগে অভিনয় করেননি।
সংবাদ প্রতিদিনকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা জানান, তিনি আবেগপ্রবণ এবং নিজের শিকড় ও অতীতের সঙ্গে যুক্ত থাকতে ভালোবাসেন। তাঁর নিজের জীবনেও এমন একাধিক ‘ডাক্তার কাকু’ ছিলেন। তাই চরিত্রটির কথা শুনে তিনি অভিনয়ে রাজি হয়ে যান।
দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর প্রেক্ষাগৃহে এসেছে ‘ডাক্তার কাকু’। সিনেমাটির নির্মাণপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল করোনা মহামারিরও আগে। নানা কারণে দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর অবশেষে দর্শকের সামনে এল প্রসেনজিৎ অভিনীত এই সিনেমা।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array