খুঁজুন
                               
, ,
           

যে সিদ্ধান্তে থেমে যায় ভাগ্যশ্রীর ক্যারিয়ার

বিনোদন ডেস্ক:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৪ অপরাহ্ণ
যে সিদ্ধান্তে থেমে যায় ভাগ্যশ্রীর ক্যারিয়ার

বলিউডে অনেক অভিনেত্রীর গল্প শুরু হয় স্বপ্নের মতো—প্রথম ছবিতেই সাফল্য, দর্শকের ভালোবাসা আর একের পর এক বড় ছবির প্রস্তাব। কিন্তু সেই সাফল্যের পথ সবসময় দীর্ঘ হয় না। কখনো কখনো ব্যক্তিগত জীবনের কোনো সিদ্ধান্তই বদলে দেয় পুরো ক্যারিয়ারের গতিপথ। অভিনেত্রী ভাগ্যশ্রীর জীবনও যেন তেমনই এক গল্প।

সালমান খানের বিপরীতে ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ ছবিতে অভিনয় করেই রাতারাতি তারকা বনে গিয়েছিলেন ভাগ্যশ্রী। ১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটি বক্স অফিসে বড় সাফল্য পাওয়ার পাশাপাশি ‘প্রেম-সুমন’ জুটিকে দর্শকের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তোলে। স্বাভাবিকভাবেই এরপর ভাগ্যশ্রীর সামনে খুলে যায় বলিউডের বড় বড় দরজা।

কিন্তু যে সময় ক্যারিয়ারকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল, ঠিক তখনই জীবনের অন্য এক অধ্যায়কে অগ্রাধিকার দেন তিনি। প্রেম, বিয়ে, সংসার ও মাতৃত্বের সিদ্ধান্তে বদলে যায় তার অভিনয়জীবনের গতিপথ।

ছবি>সংগৃহীত

অভিনয়ে আসার পরিকল্পনাই ছিল না

মহারাষ্ট্রের সাংলির পট্টবর্ধন রাজপরিবারে জন্ম ভাগ্যশ্রীর। ছোটবেলা থেকেই তিনি বেড়ে উঠেছেন বেশ নিয়ন্ত্রিত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে। অভিনয় যে একদিন তার পেশা হবে, এমন পরিকল্পনা কখনোই ছিল না। বরং পড়াশোনা শেষ করে বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছাই ছিল তার। কিন্তু ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায় হঠাৎ করেই।

টেলিভিশন সিরিয়াল ‘কাচ্ছি ধূপ’-এর মাধ্যমে ক্যামেরার সামনে অভিনয়ের শুরু। ২০২৬ সালের এক সাক্ষাৎকারে ভাগ্যশ্রী জানান, সিরিয়ালের মূল অভিনেত্রী শেষ মুহূর্তে সরে যাওয়ার পর পরিচালক-অভিনেতা অমল পালেকর তাকে অভিনয়ের সুযোগ দেন। সেই সুযোগ থেকেই শুরু হয় তার অভিনয়যাত্রা।

‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ বদলে দিল সবকিছু

টেলিভিশনের পর বড় পর্দায় সুযোগ আসে সূরজ বরজাতিয়ার ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ ছবিতে। সালমান খানের বিপরীতে সুমনের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন ভাগ্যশ্রী। ছবির প্রেমের গল্প, গান এবং সালমান-ভাগ্যশ্রীর পর্দার রসায়ন তখন ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ভাগ্যশ্রীও হয়ে ওঠেন বলিউডের আলোচিত নতুন মুখ।

ছবিটির অভাবনীয় সাফল্যের পর তার কাছে একের পর এক বড় ছবির প্রস্তাব আসতে থাকে। ভাগ্যশ্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় বড় পরিসরে নির্মিত কিংবা পরবর্তী সময়ে সফল হওয়া অনেক ছবির প্রস্তাবই প্রথমে তার কাছে এসেছিল।

অর্থাৎ বলিউডে নিজের অবস্থান শক্ত করার জন্য তার সামনে তখন ছিল বিশাল সুযোগ।

ছবি>সংগৃহীত

ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিল প্রেম

কিন্তু ঠিক এই সময়েই ব্যক্তিগত জীবনের সিদ্ধান্তকে সামনে নিয়ে আসেন ভাগ্যশ্রী। স্কুলজীবন থেকেই হিমালয় দাসানির সঙ্গে তার পরিচয় ছিল। সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক প্রেমে রূপ নেয়। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে শুরুতে এই সম্পর্ক মেনে নেওয়া হয়নি। পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত হিমালয়কেই বিয়ে করেন ভাগ্যশ্রী।

বিয়ের সময় বয়সও ছিল খুব কম। ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’র সাফল্যের পর যে সময়ে একজন নতুন অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারে একের পর এক বড় সুযোগ আসার কথা, ঠিক তখনই তিনি সংসার ও পরিবারের দিকে মনোযোগ দেন।

একের পর এক ছবি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন

ভাগ্যশ্রী বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, সেই সময়কার সামাজিক বাস্তবতায় একই সঙ্গে সংসার, সন্তান এবং অভিনয়জীবন সামলানো তার কাছে কঠিন মনে হয়েছিল। ফলে অনেক ছবির প্রস্তাব পেয়েও তিনি সেগুলো গ্রহণ করেননি। তারকা হওয়ার পরও কেন তিনি নিজেকে বলিউড থেকে সরিয়ে নিলেন—এ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ভাগ্যশ্রী বারবার নিজের পারিবারিক অগ্রাধিকারের কথাই বলেছেন। তার কাছে তখন ক্যারিয়ারের চেয়ে প্রেম, বিয়ে এবং পরিবার বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। আর এই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত তার অভিনয়জীবনের গতি অনেকটাই থামিয়ে দেয়।

ছবি>সংগৃহীত

পর্দায় ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়েও ছিল বিশেষ শর্ত

বিয়ের পর ভাগ্যশ্রীর ক্যারিয়ারে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত প্রভাব ফেলে। তিনি সিদ্ধান্ত নেন, পর্দায় অন্য কোনো নায়কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করবেন না। এমন দৃশ্য থাকলে তার বিপরীতে স্বামী হিমালয় দাসানিকেই রাখতে হবে। এরপর ‘কাইদ মে হ্যায় বুলবুল’, ‘পায়েল’ এবং ‘ত্যাগী’-এর মতো ছবিতে দুজনকে একসঙ্গে দেখা যায়। কিন্তু এসব ছবি ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’র মতো সাফল্য পায়নি।

পরে ভাগ্যশ্রী নিজেই স্বীকার করেছেন, সেই সময় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ক্যারিয়ারে এর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা তিনি খুব একটা ভেবে দেখেননি।

‘ফোন থামত না’, তবু পরিবারকেই বেছে নিয়েছিলেন

‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’র পর ভাগ্যশ্রীর জনপ্রিয়তা কতটা ছিল, তা বোঝাতে গিয়ে তিনি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, কাজের প্রস্তাবে তার ফোন প্রায় থামতই না।

কিন্তু সেই জনপ্রিয়তার সময়টাকে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ হিসেবে দেখার পরিবর্তে তিনি পরিবারকে সময় দেওয়াকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

দীর্ঘ বিরতির পর যখন আবার দর্শকদের সামনে ফিরতে শুরু করেন, তখনই নাকি তিনি উপলব্ধি করেন—প্রথম ছবির সাফল্য কতটা বড় ছিল এবং সেই সময় তার সামনে কতটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।

অভিনয় থেকে পুরোপুরি হারিয়ে যাননি

তবে ভাগ্যশ্রীর গল্প পুরোপুরি বিরতির নয়। দীর্ঘ সময় মূলধারার ছবির বাইরে থাকলেও তিনি অভিনয় থেকে একেবারে সরে যাননি।

পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ভাষার সিনেমায় কাজ করেছেন। হিন্দি ছবিতেও ধীরে ধীরে ফিরে আসেন। ‘থালাইভি’-সহ বেশ কিছু ছবিতে দেখা গেছে তাকে।

তার সন্তানরাও পরবর্তী সময়ে তাকে আবার অভিনয়ে ফিরতে উৎসাহ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

২০২৬ সালে রিতেশ দেশমুখের ‘রাজা শিবাজি’ ছবিতে জিজাবাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করেও নতুন করে আলোচনায় আসেন তিনি।

ছবি>সংগৃহীত

অতীতের সিদ্ধান্ত নিয়ে নেই অনুশোচনা

ভাগ্যশ্রীর ক্যারিয়ারের গল্প তাই শুধু একজন অভিনেত্রীর সাফল্য কিংবা ব্যর্থতার গল্প নয়। এটি একই সঙ্গে ব্যক্তিগত পছন্দ, পারিবারিক অগ্রাধিকার এবং পেশাগত সম্ভাবনার গল্প। প্রথম ছবিতেই রাতারাতি তারকা হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সামনে ছিল অসংখ্য বড় সুযোগ। কিন্তু সেই সময় ক্যারিয়ারের বদলে তিনি বেছে নিয়েছিলেন ভালোবাসা, বিয়ে, সংসার ও মাতৃত্বকে। সময়ের বিচারে সেই সিদ্ধান্ত তার অভিনয়জীবনের গতিপথ বদলে দিয়েছে—এ কথা বলাই যায়। তবে ভাগ্যশ্রী নিজে অতীতের সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুতপ্ত নন।

ছবি>সংগৃহীত

বরং তার কাছে জীবনের সেই সময়ের অগ্রাধিকারগুলোই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রাজপরিবারে বেড়ে ওঠা থেকে হঠাৎ অভিনয়ে আসা, প্রথম ছবিতেই তুমুল সাফল্য, তারপর প্রেম-বিয়ে-মাতৃত্বের কারণে দীর্ঘ বিরতি—সব মিলিয়ে ভাগ্যশ্রীর বলিউডযাত্রা নিঃসন্দেহে অন্যরকম।

তার ক্যারিয়ার হয়তো অন্য পথে এগোতে পারত। কিন্তু ভাগ্যশ্রী যে পথ বেছে নিয়েছিলেন, সেটিই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে তার জীবনের গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি

কালের আলো/জেএন

৪৮ ঘণ্টায় ব্যস্ত সময়, ১৪ কর্মসূচিতে মীর হেলাল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
৪৮ ঘণ্টায় ব্যস্ত সময়, ১৪ কর্মসূচিতে মীর হেলাল

গত ৪৮ ঘণ্টায় ১৪টি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল। ২২ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসব কর্মসূচিতে অংশ নিতে সড়কপথে মোট ৪৬০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন তিনি।

২২ সেপ্টেম্বর সকালে সচিবালয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে তার কর্মসূচি শুরু হয়। পরে হাটহাজারীর কাটিরহাট বাজারে আয়োজিত একটি বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেন তিনি।

এরপর খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় একটি মসজিদের ভবন ও খাগড়াছড়িতে একটি ব্রিজ উদ্বোধন করেন মীর হেলাল। পাশাপাশি জেলা পরিষদের নবনিয়োগপ্রাপ্ত সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আয়োজিত বিশেষ সভায় অংশ নেন।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী ও নারীদের সেলাই মেশিন বিতরণ করেন তিনি। এছাড়া গিরিপুর শিশুসদন ছাত্রাবাস, বেতছড়ি মুখ খালের ওপর গার্ডার ব্রিজ, দীঘিনালার একটি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করেন।

পরে কংলাক পাহাড়ে ওঠার নবনির্মিত সিঁড়ি এবং সোলার প্রযুক্তির মাধ্যমে গৃহস্থালি পানি সরবরাহ ও কৃষি সেচ সুবিধা বৃদ্ধির প্রকল্প উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।

সবশেষে রাঙামাটির বনরূপায় জেলা আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স উদ্বোধন এবং চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মিছিলে অংশ নেন তিনি।

মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচি অনুযায়ী, ৪৮ ঘণ্টায় মোট ১৪টি কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে সড়কপথে যাতায়াত করেছেন মীর হেলাল। এ সময় তার সড়কযাত্রার মোট দূরত্ব দাঁড়ায় ৪৬০ কিলোমিটার।

কালের আলো/এমএসআইপি 

কারণ না জানিয়েই জাবি ছাত্রদল নেত্রী আঞ্জুমান ইকরাকে বহিষ্কার

কাম্পাস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
কারণ না জানিয়েই জাবি ছাত্রদল নেত্রী আঞ্জুমান ইকরাকে বহিষ্কার

সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদলের নেত্রী আঞ্জুমান ইকরাকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ। তবে ঠিক কী ধরনের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষর করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেত্রী আঞ্জুমান ইকরাকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।

তবে আঞ্জুমান ইকরার বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে তার বহিষ্কারের কারণ নিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যেও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনিক বলেন, ‘ইকরাকে বহিষ্কার কেন করা হয়েছে, এটা এখনো জানতে পারিনি।’

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বহিষ্কারের ফলে এখন থেকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্য পদেও থাকছেন না আঞ্জুমান ইকরা। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বা শৃঙ্খলাভঙ্গের নির্দিষ্ট ঘটনাটি প্রকাশ্যে না আসায় এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

আঞ্জুমান ইকরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের রাজনীতিতে তিনি সক্রিয় ছিলেন।

সর্বশেষ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেল থেকে সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদেও প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে এবার সেই নেত্রীকেই সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।

কালের আলো/এসএ

জাককানইবিতে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীই আবাসনের বাইরে, তিন বছরেও শেষ হয়নি দুই হল

শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১০ অপরাহ্ণ
জাককানইবিতে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীই আবাসনের বাইরে, তিন বছরেও শেষ হয়নি দুই হল

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) শিক্ষার্থীর তুলনায় আবাসন সুবিধা অপ্রতুল হওয়ায় ৭০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের বাইরে মেস ও ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে। এতে বাড়তি বাসাভাড়ার পাশাপাশি লোডশেডিং, পানির সংকট, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ও নিরাপত্তাসহ নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের।

আবাসন সংকট কমাতে প্রায় দেড়শ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি আবাসিক হল নির্মাণের কাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা শেষ হয়নি। এরই মধ্যে দুই দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ফলে নতুন হল দুটি কবে নাগাদ শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে জাককানইবিতে মোট শিক্ষার্থী রয়েছেন ৯ হাজার ৮১৪ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৪ হাজার ৮০৫ এবং ছাত্রী ৫ হাজার ৯ জন। বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ছাত্র ও দুটি ছাত্রী হলে মোট আসন রয়েছে ২ হাজার ৮৫৮টি।

অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর মাত্র ২৯ দশমিক ১২ শতাংশ আবাসিক হলে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন। ছাত্রদের জন্য রয়েছে ১ হাজার ৪৯৪টি আসন, যা মোট ছাত্রের প্রায় ৩১ দশমিক ০৯ শতাংশ। আর ছাত্রীদের জন্য রয়েছে ১ হাজার ৩৬৪টি আসন, যা মোট ছাত্রীর ২৭ দশমিক ২৩ শতাংশের সমান।

ফলে ৭০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের বাইরে থাকার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে গড়ে ওঠা মেস ও ভাড়া বাসাই এসব শিক্ষার্থীর প্রধান ভরসা। তবে সেখানেও স্বস্তিতে নেই তারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলে আসন পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেক শিক্ষার্থী দ্বিতীয় বর্ষে উঠেও আবাসিক হলে আসন পান না। এমনকি স্নাতকোত্তর পর্যায়েও অনেককে হলের আসনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।

ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেজাবিন চৌধুরী বলেন, হলে আসন না পাওয়ায় তাকে মেসে থাকতে হচ্ছে। মেসভাড়া, সিলিন্ডার গ্যাস ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি মাসে বড় অঙ্কের টাকা ব্যয় হচ্ছে। এর ওপর নিয়মিত লোডশেডিংয়ের কারণে পড়াশোনায়ও সমস্যা হচ্ছে। ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে বলে জানান তিনি।

নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফ আনাস বলেন, আশপাশের বাসাগুলোর সুযোগ-সুবিধার তুলনায় ভাড়া বেশি। এর সঙ্গে লোডশেডিং, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল ও বাড়িওয়ালাদের অসহযোগিতার কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট কমাতে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রায় দেড়শ কোটি টাকা ব্যয়ে এক হাজার ৬০০ আসনবিশিষ্ট দুটি ১০ তলা আবাসিক হলের নির্মাণকাজ শুরু হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি। পরে দুই দফা মেয়াদ বাড়ানো হলেও এখনো নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্মাণাধীন ভবন দুটিতে অল্পসংখ্যক শ্রমিক কাজ করছেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে একাধিক ভবনের নির্মাণকাজ চলায় শ্রমিক সংকটসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে হল দুটির কাজের গতি কমেছে। প্রকল্পটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সি এস আই কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।

অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের হল নির্মাণের কাজ শুরুর বেশ কিছুদিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের জন্য ১০ তলা বিশিষ্ট কোয়ার্টার নির্মাণের কাজ শুরু হয়। সেই কোয়ার্টারের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। গত জুলাই থেকে কর্মচারীরা সেখানে বসবাস শুরু করেছেন।

তবে কর্মচারীদের কোয়ার্টার নির্মাণ শেষ হয়ে ব্যবহার শুরু হলেও শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মাণাধীন দুটি হলের কাজ এখনো চলমান। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষও রয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ইঞ্জিনিয়ার জুয়েল মিয়া বলেন, ভবন দুটির অধিকাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার আশা করছেন তারা। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক পদে বারবার পরিবর্তন ও ফাইল আটকে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেন।

প্রকল্পের ধীরগতির বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সৈয়দ মোফাছিরুল ইসলাম বলেন, উপাচার্যের অনুমতি ছাড়া প্রকল্পের বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়। তবে বর্ধিত সময়সীমা অনুযায়ী ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলম বলেন, আবাসন সংকটের বিষয়টি প্রশাসনের জানা আছে। বর্তমানে চারটি হলের পাশাপাশি আরও দুটি হল নির্মাণাধীন। নতুন হল দুটি দ্রুত চালুর বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এগুলো চালু হলে আবাসন সংকট অনেকটাই কমবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোশারফ হোসেন বলেন, নতুন দুটি হলের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সেপ্টেম্বরেই ভবন দুটি হস্তান্তরের কথা রয়েছে। প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে আসন বরাদ্দ দেওয়ার আশা করছেন তিনি।

উপাচার্যের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন দুটি হলে প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা হবে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যের সঙ্গে চলতি বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের আসন দেওয়ার প্রশাসনিক আশার মধ্যে সময়ের পার্থক্য রয়েছে। ফলে নতুন হল দুটি কবে নাগাদ পুরোপুরি চালু হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।

এদিকে আবাসিক সুবিধার বাইরে থাকা বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে বাড়তি খরচে মেস ও ভাড়া বাসায় থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। বাসাভাড়া, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের পাশাপাশি লোডশেডিং, পানির সংকট, স্যানিটেশন ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যাও তাদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, নির্মাণাধীন দুটি হলের কাজ দ্রুত শেষ করে তা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে। নতুন আবাসিক হলগুলো চালু হলে একদিকে যেমন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর আবাসন নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে ক্যাম্পাসের বাইরে মেস ও ভাড়া বাসায় থাকার কারণে তাদের যে বাড়তি আর্থিক ও দৈনন্দিন চাপ তৈরি হচ্ছে, সেটিও অনেকটা কমবে।

কালের আলো/এসএ