খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে শূন্য খরচে কর্মী নিতে মালয়েশিয়ার ‘এআই’ প্রযুক্তি চালুর উদ্যোগ

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে শূন্য খরচে কর্মী নিতে মালয়েশিয়ার ‘এআই’ প্রযুক্তি চালুর উদ্যোগ

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে শ্রম অভিবাসন নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত পুনরায় চালুর বিষয়ে উভয় দেশ সম্মত হয়েছে। এর পাশাপাশি, কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় শূন্যে নামিয়ে আনতে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ন্ত্রিত নতুন প্রযুক্তিনির্ভর নিয়োগ ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দিয়েছে মালয়েশিয়া।

গত ৯ এপ্রিল মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। মালয়েশিয়ার পক্ষে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রী দাতো শ্রী রামানান রামাকৃষ্ণান। অন্যদিকে, বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, এমপি। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

বৈঠক শেষে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার দ্রুত পুনরায় খোলার বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে। একটি সুষ্ঠু, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এটি সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমানো, অভিবাসন ব্যয় হ্রাস করা এবং আটকে পড়া কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুততর করার জন্য কাঠামোগত সমস্যাগুলোর সমাধানের বিষয়েও বৈঠকে জোর দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় নির্ভরযোগ্য এবং যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে কাজে লাগানো হবে।

বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল কর্মী নিয়োগে মালয়েশিয়ার নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার। মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়, কর্মী প্রেরণকারী সকল দেশের জন্যই তারা একটি প্রযুক্তি-নির্ভর ও এআই-ভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) নির্দেশিকা অনুযায়ী ‘এমপ্লয়ার পেজ প্রিন্সিপল’ (নিয়োগকর্তা কর্তৃক সম্পূর্ণ ব্যয় বহনের নীতি) মেনে এই ব্যবস্থা পরিচালিত হবে। এর ফলে অভিবাসন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং কর্মীদের জন্য ‘শূন্য খরচ’ বা জিরো কস্ট নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশ এই বৈশ্বিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বাস্তবায়নে মালয়েশিয়ার সাথে একযোগে কাজ করার আগ্রহ ও পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেছে।

কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে মানব পাচার সংক্রান্ত চলমান আইনি মামলাগুলো নিয়েও দুই দেশের প্রতিনিধিরা আলোচনা করেছেন। মালয়েশিয়া জানায়, তাদের আন্তর্জাতিক সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে পারে এমন যেকোনো ভিত্তিহীন বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকাণ্ড মোকাবেলার প্রয়োজন রয়েছে। এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ আইনের শাসন, জবাবদিহিতা ও দ্রুত বিচার নিশ্চিতে নিজস্ব অবস্থান ও প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।

এছাড়া অনিয়মিত কর্মীদের বিদ্যমান সমস্যা সমাধান এবং শ্রমবাজারের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও সনদায়ন বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করে।

নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে উভয় দেশের কর্মকর্তারা তাদের দীর্ঘস্থায়ী এবং পারস্পরিক সুবিধাজনক অংশীদারিত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে এই গঠনমূলক সম্পৃক্ততা বজায় রাখার সিদ্ধান্তে উভয় পক্ষ বৈঠকে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। পুত্রজায়ায় এই বৈঠক আয়োজন ও উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল মালয়েশিয়া সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছে।

কালের আলো/এম/এএইচ 

হঠাৎ ছাপাখানায় শিক্ষামন্ত্রী, যাচাই করলেন বইয়ের মান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫০ পূর্বাহ্ণ
হঠাৎ ছাপাখানায় শিক্ষামন্ত্রী, যাচাই করলেন বইয়ের মান

রাজধানীর বিভিন্ন ছাপাখানা মধ্যরাতে আকস্মিক পরিদর্শন করে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ছাপা পাঠ্যবইয়ের গুণগত মান যাচাই করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সোমবার দিবাগত রাত ১২টার পর রাজধানীর ছয়টি ছাপাখানা পরিদর্শনে যান শিক্ষামন্ত্রী। এ সময় মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তাও তার সঙ্গে ছিলেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী পাঠ্যবই ছাপার বিভিন্ন ধাপ সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি বই তৈরিতে ব্যবহৃত কাগজের মান, মুদ্রণের গুণগত মান এবং নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বিপুলসংখ্যক পাঠ্যবই ছাপানো হয়। এসব বইয়ের কাগজ ও ছাপার মান নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি বিনামূল্যে বিতরণের পাঠ্যবইয়ের ছাপার মান নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ওঠায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর অংশ হিসেবে ছাপাখানাগুলোতে আকস্মিক পরিদর্শন করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান।

পরিদর্শনের সময় শিক্ষামন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের কাছে বই ছাপার কাজে ব্যবহৃত কাগজ, মুদ্রণের মান ও সামগ্রিক গুণগত মান সম্পর্কে জানতে চান।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্মত পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাই বই ছাপার ক্ষেত্রে নির্ধারিত মান ও শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকি করা প্রয়োজন।

পাঠ্যবই ছাপার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং নির্ধারিত মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তারা। পাঠ্যবইয়ের মান নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি অব্যাহত থাকবে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

কিয়াকতাও শহরে বিমান হামলায় ৩৩ জন নিহত আহত ৩৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ
কিয়াকতাও শহরে বিমান হামলায় ৩৩ জন নিহত আহত ৩৬

মিয়ানমারের সংঘাতকবলিত রাখাইন রাজ্যের কিয়াকতাও শহরে একটি বাজারের কাছে বিমান হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩৬ জন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আরাকান আর্মি (এএ) ও স্থানীয় এক ত্রাণকর্মীর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

আরাকান আর্মির দাবি, কিয়াকতাও শহরের একটি বাজারসংলগ্ন এলাকায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এ বিমান হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় একটি দাতব্য সংস্থার প্রধান ও ত্রাণকর্মী ওয়েই হুন অংও হামলায় ৩৩ জন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছেন।

ওয়েই হুন অং বলেন, কিয়াকতাও শহরটি চলমান সংঘাতের প্রধান এলাকাগুলো থেকে বেশ দূরে। শহরটির সঙ্গে যুদ্ধের সরাসরি কোনো সম্পর্কও নেই বলে জানান তিনি।

তবে হামলায় হতাহত হওয়ার সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স। এ বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্রের কাছ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মিয়ানমারের জান্তা সরকার এর আগে দাবি করে আসছে, বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সামরিক বাহিনী অভিযান পরিচালনার সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সংযম অবলম্বন করে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বরে রাখাইনের একটি হাসপাতালে বিমান হামলায় ৩০ জন নিহত হওয়ার পর এবারের হামলাটি ওই অঞ্চলের অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা।

২০২১ সালে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকেই মিয়ানমারে সশস্ত্র সংঘাত চলছে। বর্তমানে আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা: এজাহারভুক্ত আসামি মিজানুর গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ণ
নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা: এজাহারভুক্ত আসামি মিজানুর গ্রেফতার

রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকার দক্ষিণ মানিকদীর নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলার অন্যতম আসামি মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে পশ্চিম মাটিকাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে ডিবি গুলশান বিভাগের একটি দল।

ডিবি গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) আ ফ ম আনোয়ার হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলার ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় করা মামলায় মিজানুর রহমান এজাহারভুক্ত ৯ নম্বর আসামি। গত ২৭ সেপ্টেম্বর মামলাটি করা হয়।

মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯, ৩৮০, ৪২৭, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এ ঘটনা চলে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীদের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায় বলে স্থানীয়রা জানান।

ওই রাতে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতেও ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে স্টুডিওটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি