খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

রেকর্ড ভাঙল অভিবাসন: ইইউতে ৬.৪২ কোটি বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষ

প্রবাস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২৬ অপরাহ্ণ
রেকর্ড ভাঙল অভিবাসন: ইইউতে ৬.৪২ কোটি বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষ

ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) অভিবাসীর সংখ্যা ২০২৫ সালে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। “ল্য জুরনাল দ্যু দিমান্শ” সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস অন মাইগ্রেশন-এর প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক গবেষণা অনুযায়ী, ইইউ অঞ্চলে বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৪২ লক্ষে। অর্থাৎ এসব মানুষ এমন, যারা নিজ দেশের বাইরে জন্ম নিয়ে পরবর্তীতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে বসবাস করছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লক্ষ বেশি। ইউরোস্ট্যাট এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষণাটি তৈরি করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ২০১০ সাল থেকে ইইউতে অভিবাসীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে- তখন এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৪ কোটি।

ইউরোপে অভিবাসীদের প্রধান গন্তব্য হিসেবে জার্মানি এখনও শীর্ষে রয়েছে। দেশটিতে প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষ বসবাস করেন, যাদের মধ্যে ৭২ শতাংশই কর্মক্ষম বয়সের। শ্রমবাজার ও জনসংখ্যাগত চাহিদার কারণে জার্মানি দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসীদের প্রধান গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

অন্যদিকে স্পেনে সবচেয়ে দ্রুত অভিবাসী বৃদ্ধির হার দেখা গেছে। গত বছরে প্রায় ৭ লক্ষ নতুন অভিবাসী যুক্ত হওয়ায় দেশটিতে মোট অভিবাসীর সংখ্যা বেড়ে ৯৫ লক্ষে পৌঁছেছে। গবেষণার সহলেখক তোমাসো ফ্রাত্তিনি বলেন, ‘জার্মানি ইউরোপে অভিবাসীদের প্রধান গন্তব্য হিসেবেই রয়ে গেছে, মোট সংখ্যা এবং জনসংখ্যার অনুপাতে- উভয় ক্ষেত্রেই।’

প্রতিবেদনটি ইইউর অভ্যন্তরে অভিবাসনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বৈষম্যও তুলে ধরেছে। লুক্সেমবার্গ, মাল্টা ও সাইপ্রাসের মতো ছোট দেশগুলোতে মোট জনসংখ্যার তুলনায় অভিবাসীর হার অনেক বেশি।

আশ্রয় প্রার্থনার আবেদনও কয়েকটি দেশে কেন্দ্রীভূত। স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স ও জার্মানি মিলেই ইইউতে জমা পড়া প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আশ্রয় আবেদন গ্রহণ করে। শরণার্থী সুরক্ষার ক্ষেত্রেও জার্মানি শীর্ষে রয়েছে, যেখানে প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষ আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পেয়েছেন।

অভিবাসনের এই প্রবণতা ইউরোপজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। ফ্রান্সের ডানপন্থী ন্যাশনাল র‍্যালি দলের এমপি ম্যাথিয়াস রেনো সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করেন, ইইউতে প্রথম প্রজন্মের অভিবাসীর সংখ্যা এখন ৬৪ মিলিয়ন, যা ২০১০ সালের তুলনায় ২৫ মিলিয়ন বেশি এবং ইইউ জনসংখ্যার প্রায় এক-সপ্তমাংশ।

এদিকে স্পেন সরকার অবৈধভাবে বসবাসরত প্রায় ৫ লক্ষ বিদেশিকে বৈধতা দেওয়ার একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। সরকারের দাবি, শ্রমবাজারের ঘাটতি পূরণ এবং সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতেই এই পদক্ষেপ।

তবে এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন ফ্রান্সের ডানপন্থী দল লে রেপ্যুব্লিক্যাঁর নেতা ব্রুনো রেতাইয়ো। এলসিআই টেলিভিশনে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত ‘ইউরোপীয় চেতনার পরিপন্থী’ এবং এমন নীতি অব্যাহত থাকলে তা ইউরোপে অভিবাসন চাপ আরও বাড়াতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন, শ্রমবাজারের চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক সংকট মিলিয়ে অভিবাসন ইস্যু আগামী বছরগুলোতেও ইউরোপীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে থাকবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

জোড়া গোলে দুটি রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপে, পেছনে পড়লেন মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ
জোড়া গোলে দুটি রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপে, পেছনে পড়লেন মেসি

পেনাল্টি না পাওয়ার ঠিক কয়েক মুহূর্ত পরই ফ্রান্সকে এগিয়ে নিলেন কিলিয়ান এমবাপে। তাতে ফ্রান্সের শীর্ষ গোলদাতা হিসেবে অলিভার জিরুদের পাশে বসেন তিনি। ওখানেই শেষ নয়। দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমে আরেকটি গোল। তাতে এককভাবে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়ে গেলেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

এছাড়া বিশ্বকাপে নিজের ১৪তম গোলটি করে সাবেক ফরাসি লিজেন্ড জাস্ট ফন্টেইন ও আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসিকেও ছাড়িয়ে গেলেন তারকা স্ট্রাইকার। বলাবাহুল্য, বিশ্বমঞ্চে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি।

আর তিনটি গোল করলে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হবেন তিনি। ১৬ গোল করে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা সবার উপরে। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করার তালিকায় এমবাপে যৌথভাবে তিন নম্বরে। ১৪ গোল করে গার্ড মুলারের পাশে তিনি।

ডি-বক্সের বাইরে থেকে মাইকেল অলিসের এক দারুণ অ্যাসিস্ট সেনেগালের রক্ষণব্যুহকে ভেঙে দেয়। আর ছয় গজ বক্সের প্রান্ত থেকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে এদুয়ার মেন্দির পাশ দিয়ে বল জালে জড়ান এমবাপে।

ফ্রান্সের জার্সিতে এটি ছিল তার ৫৭তম গোল। তারপর বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জাদুকরী শটে দ্বিতীয় গোল করেন তিনি

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ফ্রান্সের গোলপোস্ট কাঁপিয়ে বিরতিতে সেনেগাল

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ২:১৩ পূর্বাহ্ণ
ফ্রান্সের গোলপোস্ট কাঁপিয়ে বিরতিতে সেনেগাল

শক্তিশালী ফ্রান্সের বিপক্ষে ২৪ বছর পর মাঠে নামল সেনেগাল। ২০০২ সালের সেই অঘটনের স্মৃতি অনুপ্রাণিত রেখেছিল তাদের। প্রথমার্ধে তারাই গোল করার সবচেয়ে ভালো সুযোগগুলো পেয়েছিল। দুর্ভাগ্য যে এগিয়ে যেতে পারল না। প্রথমার্ধ শেষে স্কোর গোলশূন্য।

নিকোলাস জ্যাকসন গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। তার শট পোস্টে গিয়ে আঘাত করে। এছাড়া প্রথমার্ধের খেলা শেষের ঠিক আগমুহূর্তে ইসমাইলা সার-ও গোল করার একটি বিশাল সুযোগ হাতছাড়া করেন।

অন্যদিকে ফ্রান্সকে বেশ ক্লান্ত দেখা গেছে। সেনেগালের রক্ষণ ভাঙতে বেশ সংগ্রাম করেছে।

গত দুইবারের ফাইনালিস্ট কোনো ধরনের অঘটনে না পড়তে চাইলে দ্বিতীয়ার্ধে নিশ্চিতভাবেই আরও অনেক ভালো পারফরম্যান্স করতে হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

চট্টগ্রামে এমপির অনুদান পেলেন আত্মীয়, ঘনিষ্ঠজন ও কর্মচারীরা

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ২:০৫ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রামে এমপির অনুদান পেলেন আত্মীয়, ঘনিষ্ঠজন ও কর্মচারীরা

চট্টগ্রাম-১২ আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে দেওয়া অনুদান বণ্টনকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য বরাদ্দকৃত এ তহবিলের অর্থ একই এলাকার বাসিন্দা, সংসদ সদস্যের আত্মীয়, ঘনিষ্ঠজন এবং তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিলের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা বিভিন্ন ব্যক্তির অনুকূলে অনুদান মঞ্জুরির প্রস্তাব করা হয়। তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, সুবিধাভোগীদের একটি বড় অংশ পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের কৈয়গ্রাম এলাকার বাসিন্দা এবং তারা একে অপরের সঙ্গে পারিবারিক ও আত্মীয়তাসহ ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত।

তালিকায় থাকা বুলু আকতার (স্বামী: আহমদুল হক), হাসনা খাতুন (পিতা: আজিজুর রহমান), হোসনেরা বেগম (পিতা: আহমদ মিয়া), মুছাৎ হোসনেরা বেগম (পিতা: মোহাম্মদ ইউনুছ মিয়া), রাজিয়া আকতার (স্বামী: আমিরুল হক), হানিফাতুল মোজাহেবা (স্বামী: হাফেজ আজগর হোসেন), আজিজুল হক (পিতা: আব্দুল হক) এবং মরিয়ম বেগম (পিতা: মোহাম্মদ মুছা) একই এলাকার বাসিন্দা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সূত্রে তাদের অনেককে সংসদ সদস্যের আত্মীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া, তালিকায় এমপি এনামের চাকতাই এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আলম ট্রেডিংয়ের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন কর্মচারীর নামও রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন— জসিম উদ্দিন (পিতা: মোহাম্মদ ছৈয়দ), মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ (পিতা: নুরুল ইসলাম), মোহাম্মদ শাকেল (পিতা: মোহাম্মদ সেলিম), মো. ওমর ফারুক (পিতা: মো. নূরুল ইসলাম) এবং পিকলু চৌধুরী (পিতা: রতন চৌধুরী)।

এ ছাড়া, সংসদ সদস্যের বাড়ির কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীর (পিতা: মোহাম্মদ আবুল কালাম) এবং বাড়ির টি-বয় তানজিমুল হক আহাদকে (পিতা: আহমদুল হক) তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ঐচ্ছিক তহবিলের অর্থ বণ্টনে স্বজনপ্রীতি হয়েছে। একই গ্রাম ও ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে অধিকাংশ অর্থ বরাদ্দ দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে জানতে সংসদ-সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক ও পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।

এ বিষয়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ইদ্রিস মিয়া  বলেন, আমি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি। তাছাড়া এটা আমাদের ঊর্ধ্বতন নেতাদের জানানো হবে

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি