টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন মিরপুরের বিভিন্ন সড়ক, ভোগান্তি চরমে
সারাদেশের ন্যায় রাজধানী ঢাকাতেও টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে মিরপুরের বিভিন্ন সড়ক। মূল সড়ক থেকে শাখা সড়ক- সবখানে শুধু থইথই পানি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী, পথচারী, কর্মজীবী ও শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে মিরপুর ১০, ১১, মিরপুর ২, কাজীপাড়া রোড, শেওড়াপাড়া ও আগারগাঁওসহ আশপাশের বিভিন্ন সড়ক হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যায়।
জলাবদ্ধতার কারণে অনেক সড়কে যানবাহন চলাচল ধীর হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল পানিতে বিকল হয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে। অফিসগামীদের অনেকেই বৃষ্টির পানিতে হেঁটে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা হওয়ায় সড়কে রিকশা ও গণপরিবহনের সংকট দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা, খাল ও ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার না করা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে বছরের পর বছর এই দুর্ভোগ চললেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
কাজীপাড়ার এলাকার বাসিন্দা আমিনুল হক রিপন বলেন, ‘একটু ভারী বৃষ্টি হলেই মিরপুর ১০ থেকে শুরু করে আগারগাঁও পর্যন্ত সড়ক ডুবে যায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পথচারী ও কর্মজীবী মানুষদের।
তিনি আরও বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানি আটকে থাকে সড়কে। সরকারের কাউকে এ নিয়ে কোনো ভূমিকা রাখতে দেখা যায় না। সরকার চাইলে এর স্থায়ী একটি সমাধান করে নগরবাসীকে ভোগান্তি থেকে রক্ষা করতে পারে।’
শনিবার দিবাগত রাত থেকে হওয়া ভারী বৃষ্টিতে নিচতলার অনেক দোকানে বৃষ্টির পানি ঢুকে পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক ভবনের নিচতলার পার্কিংয়ে পানি প্রবেশ করায় বাসিন্দারাও পড়েছেন চরম বিপাকে।
নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবীব বলেন, কেবল ড্রেন পরিষ্কার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। রাজধানীর প্রাকৃতিক জলাধার ও খাল রক্ষা, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে প্রতি বর্ষায় রাজধানীবাসীকে একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এসব বিষয়গুলো আমরা গত কয়েক বছর ধরে সরকারকে বলে আসছি। নগর সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন এবং অন্যান্য সংস্থাকে বলছি। এরপরও কেউ শক্তভাবে তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বিশেষ করে রাজধানীতে যেসব খাল দখল করা হয়েছে, সেগুলো উদ্ধার করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে নগরীতে জলাবদ্ধতা দূর হবে।’
এদিকে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও দুই দিন ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা এবং জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কালের আলো/এসআর/এএএন


আপনার মতামত লিখুন
Array