খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রখর খরতাপেও পথে পথে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে সেনাবাহিনী (ভিডিও)

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২০, ১০:০৭ অপরাহ্ণ
প্রখর খরতাপেও পথে পথে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে সেনাবাহিনী (ভিডিও)

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

চৈত্রের খরতাপে পুড়ছে দেশ। দেশের কোথাও এক ফোঁটা বৃষ্টি নেই। খরতাপ পুঞ্জীভূত হয়ে সৃষ্টি করেছে তাপপ্রবাহ। সেই তাপে পুড়ছে পুরো দেশ।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্বে এক মোহনায় দেশ, মানুষকে ‘সুরক্ষার যুদ্ধে’ সেনাবাহিনী

অস্বাভাবিক এই তাপমাত্রায় জনজীবন স্থবির না হলেও অলিখিত লক ডাউনেই মূলত থেমে গেছে জীবন। গণপরিবহন বা ট্রেন বন্ধ থাকায় ফাঁকা সড়ক, স্টেশন-টার্মিনাল।

আরও পড়ুন: করোনা নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর কর্মপরিকল্পনা, ডিসিরা রিকুইজিশন দিলে হবে ‘ক্যাম্প’ স্থাপন

প্রতিটি মানুষই অদম্য করোনা ভাইরাসের তান্ডব থেকে প্রাণে বাঁচতে সামাজিকতা বা কারবার ভুলে স্বেচ্ছায় বা সরকারি সিদ্ধান্তে ঘরবন্দি হয়েছেন। তবে হাটবাজারের চিত্র খানিকটা ভিন্ন। পেটের তাগিদেই ঘর ছেড়ে বের হচ্ছেন শ্রমজীবী মানুষেরা।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত; করোনাভাইরাস মোকাবেলায় মাঠে সেনাবাহিনী

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের কেনাকাটায় যারা বের হচ্ছেন তারা আবার দ্রুত সময়ের মধ্যেই বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। অবশ্য অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর ছেড়ে বের হচ্ছেন না। দেশের প্রতিটি জেলায় জেলায় সড়কে সড়কে সেনাবাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা চোখে পড়ার মতো।

আরও পড়ুন: বৃত্তের মাধ্যমে দূরত্ব চিহ্নিত; সেনাবাহিনীর কর্মযজ্ঞে দেশজুড়ে স্বস্তির সুবাতাস (ভিডিও)

যশোরের একটি বাজারের দৃশ্যই ধরা যাক না। সড়কের পাশে রিকশার অস্থায়ী গ্যারেজে মেরামত কার্যক্রম চালাচ্ছেন এক তরুণ মিস্ত্রি। মুখে মাস্ক ব্যবহার করলেও হাতে নেই হ্যান্ড গ্লাভস। এমন দৃশ্য দেখে থমকে দাঁড়ায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা। সবেমাত্র পাশের সড়কে করোনা ভাইরাস নিয়ে সচেতনতামূলক কাজ শেষে এই পথে যাচ্ছিলেন তারা।

সেনা সদস্যদের গাড়ি থেকে নামতে দেখেই যেন চোখ কপালে উঠলো তাঁর। চোখে মুখে ভয়-আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। কিন্তু মুহুর্তেই সেই ভুল ভেঙে দিলেন সেনা সদস্যরা। তার অস্থায়ী দোকানটির সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে এক সেনা সদস্য বললেন, ‘ভয় পাচ্ছেন কেন?

আপনার মুখে মাস্ক থাকলেও হ্যান্ড গ্লাভস নেই। দেশে করোনা সংক্রমণের বিস্তার নিয়ে সবাই অনেক শঙ্কিত। আপনারাও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা মেনে চলুন।’

নিজের কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওই রিকশা মেকানিকের হাত হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে পরিস্কার করে দিলেন। তুলে দেন সচেতনতামূলক প্রচারপত্র। সেনা কর্মকর্তাদের এমন অমায়িক আচরণের পরেও যেন বিস্ময়ের ঘোর কাটছিল না ওই তরুণের।

সেনা সদস্যদের প্রস্থানের পরেই স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা হয় ওই তরুণের। তিনি যে কথা বলেছেন তা প্রমিত বাংলায় দাঁড়ায়- ‘আমি সেনা সদস্যদের গাড়ি থেকে নামতে দেখে ভয় পেয়েছিলাম।

আমাদের মাঝে বদ্ধমুল একটি ধারণা ছিল তারা আচরণে কঠোর হবেন। কিন্তু তাদের এমন ভদ্র-বিনয়ী আচরণ আমাকে মুগ্ধ করেছে।’

বগুড়া শহরতলীর একটি উদাহরণ। ‘সাবান দিয়ে হাত ধুবো, জীবাণু থেকে মুক্ত হবো’ ‘বিদেশ ফেরত সকলে ঘরে অবস্থান করবেন’ এমন প্ল্যাকার্ড হাতে সড়কে হেঁটে যাচ্ছেন সেনা সদস্যরা। পথ চলতি এক রিকশা চালককে পেয়ে ঘরের বাইরে বের হওয়ার কারণ জানতে চাইলেন নম্র কন্ঠে।  

ভালোবাসার আবেশ ছড়িয়ে সেনা সদস্যরা তাঁর হাতে মাস্ক তুলে দিয়ে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাতের জীবাণু মুক্ত করে দিলেন।

সেখানকার একটি বাজারের পরিবেশ-পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে প্রবেশ করলেন সেনা সদস্যরা। সেখানে উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে চড়া সুরে নয়, অমায়িক ভদ্রতার আবরণে বিনয়ী বাক্যে কথা বলতে শুরু করেন একজন সেনা কর্মকর্তা।

‘আমরা সবাই গ্লাভস ও মাস্ক পড়ে ঘুরছি একটি কারণে। আমরা সচেতন আমরা আপনাদের উৎসাহিত করছি, আপনারাও সচেতন হোন। আপনারা নিজেরা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন। অযথা ঘরের বাইরে সময় কাটাবেন না।

যে কোন একজন আক্রান্ত হলে সবাই আক্রান্ত হবে। আমরা নেমেছি আপনাদের সুস্থতার জন্য। কেউ মাস্ক ছাড়া বাড়ি থেকে বের হবেন না।’

সেনা কর্মকর্তাদের ব্যবহারে নিজের মুগ্ধতা প্রকাশ করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরে ইনসান আলী (৫৫) বলেন, ‘সত্যিই আমাদের দেশের সেনা সদস্যরা দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের নিয়ে কত মিথ্যা প্রচারণা চলে। আজ আমিসহ অনেকেই স্বাক্ষী।

তারা আমাদের প্রতি কঠোর না হয়ে গভীর আন্তরিকতায় আমাদের সতর্ক করেছেন। নিজেকে নিরাপদ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তারাই পারবেন দেশের মানুষকে নিরাপদ করতে।’

শুধু যশোর বা বগুড়া নয়, দেশের ৬২ টি জেলাতেই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখে দিতে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় এভাবেই মাঠে মাঠে ছুটে বেড়াচ্ছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

এসব এলাকায় টহলের পাশাপাশি তারা মাইকিং করে বিদেশ ফেরতদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে জনসাধারণকে রাস্তায় বের না হয়ে ঘরে অবস্থান করার আহবান জানাচ্ছেন।

প্রবাসীরা ঠিকঠাক হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকছেন কীনা এই বিষয়টি তদারকি করতেও তাদের বাড়ি যাচ্ছেন। অনেকের হাতে তুলে দিচ্ছেন ফলমূল। আবার পথচলতি মানুষকে সুরক্ষার পরামর্শ দিয়ে ভালোবাসার প্রতীক ফুল তুলে দিচ্ছেন।

নিতপণ্যের বাজারে কীভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটা করতে হবে সেই পথও বাতলে দিচ্ছেন। সড়কে সড়কে তারা নিজেদের উদ্যোগে জীবাণু নাশক স্প্রে করছেন। সেনা সদস্যদের দেশজুড়ে টহল জনসমাবেশ এবং জনসমাগম কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করছে।

সবাইকে নিতান্ত প্রয়োজন ব্যতীত বাসায় থাকার জন্য সেনাবাহিনী অনুরোধ জানাচ্ছে। তাদের কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের মাঝে ইতিবাচক  সাড়া পড়েছে।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ ইবনে জায়েদ কালের আলোকে জানান, মঙ্গলবার(৩১ মার্চ) দেশের ৬২ টি জেলায় সেনাবাহিনীর ৪৯৬ টি দল করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে।

সেনা কর্মকর্তারাও বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা সবাই যেন ভেদাভেদ ভুলে একসাথে কাজ করি, এটিই সবার কাছে প্রত্যাশা। সেনাবাহিনী সব সময় কঠিন পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে।

বতর্মান করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে সরকারের নিদের্শনা বাস্তবায়ন করছে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী।

https://www.facebook.com/KalerAlo365/videos/216111272808009/

কালের আলো/এমএএএমকে

হোটেল-রেস্তোরাঁর জন্য ডলার রাখার নতুন সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪১ অপরাহ্ণ
হোটেল-রেস্তোরাঁর জন্য ডলার রাখার নতুন সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ নিজেদের বৈদেশিক মুদ্রা (এফসি) হিসাবে রাখতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, শপিংমলসহ বিদেশি পর্যটকদের পণ্য ও সেবা দেওয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য এ সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ (এফইপিডি) এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকে পাঠিয়েছে।

সার্কুলার অনুযায়ী, আন্তর্জাতিকভাবে ইস্যু করা কার্ড ও অন্যান্য অনুমোদিত পেমেন্ট পদ্ধতিতে বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ ব্যাংকগুলো অ্যাকোয়ারিং সেবার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে দেবে। এর সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের নামে খোলা বৈদেশিক মুদ্রার হিসাবে রাখা যাবে। বাকি অর্থ বাংলাদেশি টাকায় রূপান্তর করতে হবে।

এফসি হিসাবে রাখা বৈদেশিক মুদ্রা চলতি লেনদেনসংক্রান্ত বৈধ বৈদেশিক মুদ্রার দায় পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধও অন্তর্ভুক্ত। এ ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জারি করা এফইপিডি-১ সার্কুলার নং ৪০-এর নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, প্রযোজ্য কর ও ভ্যাট কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিষয়টি ব্যাংকগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক কার্ড ও অনুমোদিত অন্যান্য পেমেন্ট পদ্ধতিতে অর্থ গ্রহণের উপযুক্ত ব্যবস্থা রেখেছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।

এ ছাড়া গ্রাহক পরিচিতি (কেওয়াইসি), অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ (এএমএল/সিএফটি) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবেদন দাখিলের নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসংক্রান্ত গাইডলাইন্স, ২০১৮-এর ত্রয়োদশ অধ্যায়ের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদে আগে কেবল ডিপ্লোম্যাটিক বন্ডেড ওয়্যারহাউস বা শুল্কমুক্ত দোকানের নামে বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব খোলার সুযোগ ছিল। নতুন সার্কুলারের মাধ্যমে এ সুবিধা আরও বিস্তৃত করা হলো।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

অক্টোবরে ২৪ দিনে প্রবাসী আয় ২৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৫ অপরাহ্ণ
অক্টোবরে ২৪ দিনে প্রবাসী আয় ২৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা

চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ২৪ দিনে দেশে ২১৩ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৬৫ পয়সা হিসাবে এর পরিমাণ প্রায় ২৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের দপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০০ কোটি ২০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অক্টোবরের প্রথম ২৪ দিনে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ।

অর্থবছরের শুরু থেকেও রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট ১ হাজার ৭২ কোটি ৯০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৯৫৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, অর্থবছরের শুরু থেকে প্রবাসী আয়ে বছরওয়ারি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৯ শতাংশ। রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ও রিজার্ভের জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

শখের গাছেই বদলে গেল জীবন, মাসে লাখ লাখ টাকা আয় তানজিলার

মাদারীপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৯ অপরাহ্ণ
শখের গাছেই বদলে গেল জীবন, মাসে লাখ লাখ টাকা আয় তানজিলার

শখ করে ঘরের বারান্দায় গড়ে তুলেছিলেন ইনডোর প্ল্যান্টের ছোট্ট বাগান। সেই শখই একসময় হয়ে ওঠে জীবিকার উৎস। নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে নিজের পরিশ্রম ও পরিবারের সহযোগিতায় গড়ে তুলেছেন ইনডোর প্ল্যান্টের বাগান ‘ওয়ান্ডার গার্ডেন বিডি’। বর্তমানে এ বাগান থেকে মাসে প্রায় দুই লাখ টাকা আয় করছেন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার নারী উদ্যোক্তা তানজিলা আখি। কোনো কোনো মাসে তাঁর আয় তিন থেকে চার লাখ টাকায়ও পৌঁছায়।

তানজিলা একসময় ঢাকায় চাকরি করতেন। ২০১৯ সালের দিকে একটি ডিজাইনার হাউসে কাজ করার সময় গাছের প্রতি ভালোবাসা থেকে ঘরের বারান্দায় ইনডোর প্ল্যান্টের বাগান গড়ে তোলেন। তখন শখের বশে গাছ সংগ্রহ ও পরিচর্যা করলেও ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ যে তাঁর পেশা হয়ে উঠবে, তা ভাবেননি।

২০২০ সালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয় তাঁকে। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন সেই সময়ে বারান্দার গাছগুলো হয়ে ওঠে তাঁর সঙ্গী। গাছের পরিচর্যা করতে গিয়ে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর হয়। বাড়তে থাকে বিভিন্ন জাতের গাছ সংগ্রহের আগ্রহ।

একপর্যায়ে চাকরি ছেড়ে নিজের সংগ্রহের গাছগুলো নিয়ে স্বামীর কর্মস্থল নরসিংদীতে চলে যান তানজিলা। সেখানে নতুন করে বাগান গড়ে তোলেন। ধীরে ধীরে শখের বাগানকে ব্যবসায় রূপ দেন। শুরু করেন গাছের চারা বিক্রি এবং বিভিন্ন বৃক্ষমেলায় ইনডোর প্ল্যান্টের স্টল দেওয়া।

তবে ব্যবসার পথ সহজ ছিল না। ২০২৪ সালে নরসিংদীতে ভাড়া বাসায় থাকার সময় বাগান নিয়ে প্রতিবেশীদের আপত্তির মুখে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে সব গাছ নিয়ে শিবচরে ফিরে আসেন। নতুন করে শুরু করতে হয় সবকিছু।

পরিবারের সহযোগিতায় শিবচরে নিজেদের আট শতাংশ জমিতে গড়ে তোলেন ‘ওয়ান্ডার গার্ডেন বিডি’। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে গাছের সংগ্রহ, ক্রেতার আগ্রহ এবং ব্যবসার পরিধি।

বাগানে এক হাজারের বেশি প্রজাতির গাছ

বর্তমানে তানজিলার বাগানে রয়েছে ফিলোডেনড্রন, মনস্টেরা, অ্যাগলোনিমা, সিঙ্গোনিয়াম, থাই লিলি, অর্কিড, ফিটোনিয়া, পারলার পাম, বেগোনিয়া ও পথোসসহ বিভিন্ন ধরনের ইনডোর প্ল্যান্ট। তাঁর দাবি, বাগানে এক হাজারের বেশি প্রজাতির গাছ রয়েছে। এসব গাছের চারার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা।

বর্তমানে তাঁর এই উদ্যোগে কাজ করছেন দুজন কর্মচারী। বাগানকে আরও বড় করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।

নিজের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প বলতে গিয়ে তানজিলা আখি বলেন, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর গাছের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আরও গভীর হয়। সেখান থেকেই গাছ সংগ্রহ শুরু করেন। ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন ‘ওয়ান্ডার গার্ডেন বিডি’। ব্যবসা শুরু করার পর নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হলেও সেগুলো অতিক্রম করে এখন মাসে দুই লাখ টাকার বেশি আয় করছেন। আগামী মাস থেকে আরও একটি বাগান শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তানজিলার উদ্যোগে গর্বিত এলাকাবাসী

তানজিলার এই উদ্যোগে গর্বিত স্থানীয় বাসিন্দারাও। প্রতিবেশী মিলন বলেন, একজন নারী নিজের পরিশ্রমে এত সুন্দর একটি বাগান গড়ে তুলেছেন, যা এলাকাবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। তাঁর মতে, বাগানটি অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করতে পারে।

আরেক প্রতিবেশী সাজ্জাদ হোসেন খান বলেন, শিবচরের মতো এলাকায় এমন পরিবেশবান্ধব নার্সারি দেখে তিনি আনন্দিত। নতুন ও পুরোনো উদ্যোক্তাদের এ ধরনের উদ্যোগে উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলিমুজ্জামান খান বলেন, কৃষি ও নার্সারিভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ ধরনের উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে পাশে থাকবে কৃষি বিভাগ।

বারান্দার ছোট্ট বাগান থেকে বাণিজ্যিক নার্সারি গড়ে তোলা তানজিলা আখির এই উদ্যোগ দেখিয়েছে, ব্যক্তিগত শখও পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে আয়ের উৎস হয়ে উঠতে পারে। নিজের বাগানকে আরও বড় করার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছেন এই নারী উদ্যোক্তা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি