খুঁজুন
                               
, ,
           

ত্রাণ বিতরণে সেনাবাহিনীর কৌশল, মানতে হবে সামাজিক দূরত্বের অনুশাসনও

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২০, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
ত্রাণ বিতরণে সেনাবাহিনীর কৌশল, মানতে হবে সামাজিক দূরত্বের অনুশাসনও

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো :

ঘেষাঘেষি করে ত্রাণদাতারা নিজেরাই নিয়ম ভাঙছেন। পরোয়া করছেন না নিতে আসা অসহায় ও দুস্থ সাধারণ মানুষও।

আরও পড়ুন: প্রখর খরতাপেও পথে পথে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে সেনাবাহিনী (ভিডিও)

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মাত্রা ও গতি কমিয়ে আনতে সামাজিক দূরত্ব অপরিহার্য হলেও নিয়ম না মানারই যেন অঘোষিত এক প্রতিযোগিতা চলছে রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি জেলার সামাজিক ও বেসরকারি সংগঠনগুলোর।

আবার কোন কোন ক্ষেত্রে ত্রাণ নিয়ে হুড়োহুড়ি ও বিশৃঙ্খলাও যেন নিত্যকার ঘটনা। ত্রাণ নিতে কোথাও কোথাও রীতিমতো ধস্তাধস্তি দেখে মনে হচ্ছে ‘বাঁচা-মরার’ লড়াইয়ে নেমেছেন একেকজন। ‘সামাজিক দূরত্ব’ শব্দটির বেলাতে প্রত্যেকের এমন উদাসীনতায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে সংক্রমণের ঝুঁকি।

আরও পড়ুন: সহায়তায় আর্মি এভিয়েশন; আকাশপথে সেনা সদস্যদের হাতে যাচ্ছে মেডিকেল সরঞ্জামাদি

এমন ভয়ঙ্কর স্রোতের বিপরীতেই শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতায় একের পর এক নজর কেড়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। প্রত্যেকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি জেলাতেই সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের কঠোর অনুশাসন তারা নিজেরা মানছেন।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্বে এক মোহনায় দেশ, মানুষকে ‘সুরক্ষার যুদ্ধে’ সেনাবাহিনী

একই সঙ্গে এই শব্দবন্ধটি সবাইকে মানতে উৎসাহী করছেন। দোকান বা বাজারের সড়কে রঙ দিয়ে সুরক্ষারেখা টেনে সেখান থেকে কেনাকাটা করতে পরামর্শ দিচ্ছেন।

আবার সামাজিক বিন্যাস ঠিক রেখেই সামাজিক দূরত্ব মেনেই তারা দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

আরও পড়ুন: করোনার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত যুদ্ধে সেনাবাহিনী, সেনাপ্রধানের বক্তব্যে আশার সঞ্চার

মানবিক এই কর্মযজ্ঞের ধারাবাহিকতায় দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেনা পরিবার কল্যাণ সমিতি (সেপকস) ও আর্মি অফিসার্স লেডিস ক্লাব বুধবার (০৮ এপ্রিল) রাজধানীতে এক হাজার দুস্থ মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে।

ঢাকা সেনানিবাসে সেনা পরিবার কল্যাণ সমিতি (সেপকস) ও আর্মি অফিসার্স লেডিস ক্লাবের পক্ষ থেকে রাজধানীর দিশেহারা দরিদ্র মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের সহধর্মিণী দিলশাদ নাহার আজিজ।

আরও পড়ুন: বৃত্তের মাধ্যমে দূরত্ব চিহ্নিত; সেনাবাহিনীর কর্মযজ্ঞে দেশজুড়ে স্বস্তির সুবাতাস (ভিডিও)

শুধু তাই নয়, এসব ত্রাণ সামগ্রী আবার নিম্নবিত্ত মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সেখানেও তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখে হেঁটে হেঁটে সেনা সদস্যরা ওইসব অভাবী ও খেটে খাওয়া মানুষের বাড়িতে বাড়িতে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন।

আরও পড়ুন: প্রকৃতিতে ফিরেছে প্রাণ, আতঙ্ক নয় প্রতিরোধের ডাক সেনা সদস্যদের (ভিডিও)

এদিন ওই দু’টি সেনা সংগঠনের ত্রাণ বিতরণের এমন সুশৃঙ্খল ও নজরকাড়া দৃশ্যের ছবি ভাইরাল হয়েছে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সেখানে কেউ কেউ লিখেছেন, ‘ত্রাণ বিতরণে বিশৃঙ্খলা ও সামাজিক দূরত্ব না মানাই যেখানে নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে সেখানে ব্যতিক্রমী উদাহরণ স্থাপন করেছেন আমাদের সেনা সদস্যরা।

আরও পড়ুন: ‘করোনা যোদ্ধা’ সেনা সদস্যদের এ যেন মানবতারই জয়গান! (ভিডিও)

নিজেরা সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে হেঁটে যেভাবে সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন, সেটি সামাজিক-বেসরকারি সব সংগঠনেরই অনুসরণ করা উচিত। দূরত্ব বজায় রেখেও এর মাধ্যমে প্রকারান্তরে তারা আলগা হওয়া সামাজিক বন্ধনকেই মজবুত করছেন।’

আরও পড়ুন: সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বেচাবিক্রি, অনুসরণ হচ্ছে ‘সেনাবাহিনী মডেল’ (ভিডিও)

আরও পড়ুন: দেশজুড়ে স্বাস্থ্য সেবাতেও এখন ভরসার নাম সেনাবাহিনী

একই বিষয়ে আবার কারও কারও ভাষ্য হচ্ছে-‘যে কোন দুর্যোগ বা মহামারী মোকাবেলায় এমন ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিত উদ্যোগই বেশি প্রয়োজন। আর সেটিই বারবার আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে দেশ মাতৃকার কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ সেনা সদস্যরা।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একই অনুষ্ঠানের ভাইরাল হওয়া আরেকটি ছবির বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে এমন-‘ত্রাণ বিতরণে নিয়ম-শৃঙ্খলা কেমন হওয়া উচিত সেই বিষয়ে একটি ধারণা মিলবে প্রয়াসের পৃষ্ঠপোষক ও সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের স্ত্রী দিলশাদ নাহার আজিজসহ ত্রাণবিতরণকারী অন্যান্য অতিথি ও ত্রাণ গ্রহীতাদের ছবি দেখে।

আরও পড়ুন: সহায়তায় আর্মি এভিয়েশন; আকাশপথে সেনা সদস্যদের হাতে যাচ্ছে মেডিকেল সরঞ্জামাদি

নিজেরা ফেইস মাস্ক, গ্লাভস পড়ে দূরত্ব বজায় রেখেছেন। যিনি ত্রাণ নিতে এসেছেন তিনি নির্ধারিত বৃত্তে দাঁড়িয়েছেন একই রকম সুরক্ষা সামগ্রী পরিধাণ করেই। এরপর তার হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে ত্রাণ সহায়তা।

করোনা প্রতিরোধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাই এভাবে উদ্যোগী হলেই কমিউনিটি ট্রান্সমিশন ঠেকিয়ে দেওয়া সম্ভব।’

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, গোটা বিশ্বকে একরকম গ্রাসই করেছে কোভিড-১৯। চীন, স্পেন, ইতালি পেরিয়ে আমেরিকা হয়ে এশিয়ায় এসে এখন বড় রকমের ধাক্কার মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে বাংলাদেশেও। সম্ভাব্য এই বিপর্যয় রুখে দিতেই একে অন্যের নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব বজায় অপরিহার্য।

ইতালি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বিলম্ব করেছে। এখন তাদের চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। কিন্তু এখনও হুঁশ ফিরছে না বাংলাদেশে। সড়কে বা বাজারে কোথাও মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্বের রীতি নীতি। সামাজিক দূরত্ব শব্দটির সঙ্গেই যেন কারও পরিচয়ই ঘটেনি এতোদিনেও!

সচেতন মহল বলছেন, সবাইকে সুরক্ষিত রাখতেই ত্রাণ বিতরণে সেনাবাহিনীর এমন কর্মকান্ডের কৌশল রপ্ত করতে হবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে সতর্কতার সঙ্গেই সবাইকে স্বাস্থ্য বিষয়ক এমন নির্দেশনা মানতেই হবে।

আক্ষরিক অর্থেই এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্যই সরকারি ও বেসরকারি সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় ও নিয়মিত তদারকি বাড়ানোর ওপরও মত দিয়েছেন অনেকেই।

কালের আলো/পিসি/এমএএএমকে

অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের বার্তা আইজিপির, ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি রূপক অর্থে ব্যবহার!

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৭ অপরাহ্ণ
অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের বার্তা আইজিপির, ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি রূপক অর্থে ব্যবহার!

পুলিশ কঠোর হলে সমালোচনা, নিষ্ক্রিয় থাকলেও প্রশ্ন—আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালনের এই বাস্তবতা তুলে ধরে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তাঁর ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্য ঘিরে আলোচনা তৈরি হওয়ার পর বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। সংস্থাটির দাবি, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পক্ষে অবস্থান বোঝাতে নয়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের বার্তা দিতেই ‘রূপক’ অর্থে শব্দটি ব্যবহার করেছেন আইজিপি।

  • পুলিশের ওপর ১০ মাসে ১৭৬ হামলা, নিহত ৪ সদস্য
  • দায়িত্ব পালন ও আত্মরক্ষার প্রসঙ্গ সামনে আনল সদর দপ্তর

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে পুরান ঢাকার চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা ‘কমিউনিটি ইসলামিক’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আইজিপি। সেখানে তিনি বলেন, পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে এক পক্ষ পুলিশকে ফ্যাসিস্ট বলে, আবার নিষ্ক্রিয় থাকলে দুর্বল বলে আখ্যা দেয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ দিতে হবে। আইজিপির ভাষ্য, ‘যেখানে ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাউ করে আমরা সেটাই করব।’

বক্তব্যটি সামনে আসার পর এদিন রাতে পুলিশ সদর দপ্তর এক ব্যাখ্যায় জানায়, মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশের অঙ্গীকার তুলে ধরতে গিয়ে আইজিপি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি রূপক অর্থে ব্যবহার করেছেন। বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে কাউকে শাস্তি দেওয়া কিংবা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

পুলিশের ওপর হামলার পরিসংখ্যান
আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে এনেছে। সংস্থাটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় চারজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন ৩৭০ জন।

পুলিশ সদর দপ্তর বলেছে, রাষ্ট্রের প্রধান আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে অপরাধ দমন, অপরাধী গ্রেপ্তার, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের মৌলিক দায়িত্ব। এসব দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সদস্যদের কখনো কখনো অপরাধী, সংঘবদ্ধ হামলাকারী ও আইন অমান্যকারীদের সরাসরি প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়।

সদর দপ্তরের বক্তব্যে বলা হয়েছে, দেশের প্রচলিত আইন পুলিশের দায়িত্ব পালন ও আত্মরক্ষার অধিকারের আইনি কাঠামো নির্ধারণ করে। এ ক্ষেত্রে দণ্ডবিধি-১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি-১৮৯৮ এবং পুলিশ অ্যাক্ট-১৮৬১-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

মানবাধিকার সমুন্নত রাখা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত
পুলিশের ব্যাখ্যায় অপরাধ দমনে দৃঢ় অবস্থানের পাশাপাশি মানবাধিকার সমুন্নত রাখা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, জনগণের জানমাল রক্ষা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাংলাদেশ পুলিশ।

একই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সম্পর্কে আইজিপির মন্তব্য নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ভাষ্য, সাংবাদিকদের সম্পর্কে ঢালাও কোনো মন্তব্য করার উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না; অসাবধানতাবশত এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, আইজিপির বক্তব্য ও পরবর্তী ব্যাখ্যায় দুটি বিষয় সামনে এসেছে—অপরাধ দমনে পুলিশের কঠোর অবস্থান এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইন, মানবাধিকার ও পেশাদারত্বের গুরুত্ব। পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতাও জরুরি।

কালের আলো/এমডিএইচ/এএএন

নিরাপদ আকাশের লক্ষ্যে ঢাকায় বিশ্বসম্মিলন, প্রযুক্তি-প্রশিক্ষণ-সমন্বয়ে জোর বিমান বাহিনী প্রধানের

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৫ অপরাহ্ণ
নিরাপদ আকাশের লক্ষ্যে ঢাকায় বিশ্বসম্মিলন, প্রযুক্তি-প্রশিক্ষণ-সমন্বয়ে জোর বিমান বাহিনী প্রধানের

বিমান চলাচলে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি যেমন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে, তেমনি তৈরি করছে নিরাপত্তার নতুন ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ভবিষ্যৎ উপযোগী, কার্যকর ও টেকসই ফ্লাইট সেফটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ঢাকায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক উড্ডয়ন নিরাপত্তা সেমিনার। প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, উন্নত প্রশিক্ষণ, দক্ষ জনবল এবং সমন্বিত দলগত কার্যক্রমের মাধ্যমে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এ সেমিনারের উদ্বোধন করা হয়। সেমিনারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। আগামী ২৮ অক্টোবর সেমিনারটি শেষ হবে।

  • ২০ দেশের বিমান বাহিনী ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে শুরু তিন দিনের ফ্লাইট সেফটি সেমিনার
  • প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে দক্ষ জনবল, উন্নত প্রশিক্ষণ ও দলগত সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব;
  • অংশ নিচ্ছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সামরিক ও বেসামরিক বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) যৌথ ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ আন্তর্জাতিক সেমিনারে দেশি-বিদেশি বিমান চলাচল ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন। সেমিনারে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফ্লাইট সেফটির সংস্কৃতি গড়ে তোলা, উদীয়মান ঝুঁকি মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও সর্বোত্তম চর্চা বিনিময়ের মাধ্যমে নিরাপদ আকাশ নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এই বছরের সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য—‘প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং দলগত কাজ: ভবিষ্যৎ-উপযোগী সুরক্ষামূলক মানসিকতা তৈরি করা’। প্রতিপাদ্যটি শুধু প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নয়ন নয়, বরং মানবসম্পদ, দক্ষতা, নেতৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাকেও সামনে এনেছে।

নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, ‘বিমান চলাচল খাতে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করার পাশাপাশি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে।’ তিনি উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, যথাযথ প্রশিক্ষণ, দক্ষ জনবল, কার্যকর নেতৃত্ব, আন্তঃসংস্থা সমন্বয় এবং দলগত কার্যক্রমকে ফ্লাইট সেফটি নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, আধুনিক বিমান চলাচলে শুধু উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করাই যথেষ্ট নয়; সেই প্রযুক্তি দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা, ঝুঁকি শনাক্তকরণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সমন্বিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিমান বাহিনী প্রধান ফ্লাইট সেফটি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করে তুলতে প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও দলগত কার্যক্রমের সমন্বিত প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক সেমিনার অংশগ্রহণকারী দেশ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সর্বোত্তম চর্চা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে। এর মাধ্যমে ফ্লাইট সেফটির ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।

নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রযুক্তির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক দক্ষতাও
আধুনিক বিমান চলাচলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রযুক্তি, মানবিক দক্ষতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার পারস্পরিক সম্পর্ক ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। উন্নত প্রযুক্তি ঝুঁকি শনাক্তকরণ ও পরিচালনাগত দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করলেও প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নির্ভর করে প্রশিক্ষিত জনবল, কার্যকর নেতৃত্ব এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর।

এ কারণে সেমিনারে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন, হিউম্যান ফ্যাক্টর, সেফটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এসএমএস), মানব-প্রযুক্তির সমন্বয় এবং দলগত কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব বিষয়ে আলোচনা বিমান চলাচলের নিরাপত্তাকে কেবল দুর্ঘটনা-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেই শনাক্ত করা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তাও সামনে নিয়ে এসেছে।

বিশেষজ্ঞ ও অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্রবন্ধ উপস্থাপন এবং মতবিনিময়ের মাধ্যমে ফ্লাইট সেফটির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরছেন। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ ফ্লাইট সেফটি ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে এসব আলোচনা আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ ও কার্যকর পদ্ধতি বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করছে।

এই সেমিনারে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশের পাশাপাশি ব্রাজিল, চীন, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, জর্ডান, মরক্কো, মিয়ানমার, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, কাতার, কুয়েত, রাশিয়া, সুদান, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও জিম্বাবুয়ের বিমান বাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

এ ছাড়া প্রথমবারের মতো মালয়েশিয়া, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা এ সেমিনারে যোগ দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (আইএটিএ)-এর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণও এবারের আয়োজনের উল্লেখযোগ্য দিক।

বিভিন্ন দেশের সামরিক ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ এ সেমিনারকে অভিজ্ঞতা বিনিময়, নিরাপত্তা চর্চার তুলনামূলক পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরছে।

সামরিক-বেসামরিক সমন্বয়ে অংশগ্রহণ
সেমিনারে দেশের বিভিন্ন নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, প্রশাসনিক, গবেষণা ও বিমান পরিবহনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও অংশ নিচ্ছেন। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।

এ ছাড়া বিভিন্ন এয়ারলাইনস, ফ্লাইং একাডেমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিচ্ছেন। অন্যান্য অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এ অংশগ্রহণ বিমান চলাচলের নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বহুমাত্রিক বিষয়গুলোকে একই আলোচনার পরিসরে নিয়ে এসেছে। বিমান পরিচালনা, আবহাওয়া, জরুরি সাড়া প্রদান, সীমান্ত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, গবেষণা এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের মতো ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদার করা নিরাপত্তাব্যবস্থার সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নয়ন
সেমিনারের বিভিন্ন অধিবেশনে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সেফটি চর্চা, উদীয়মান ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়ে অভিজ্ঞতা ও মতবিনিময় চলছে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা তাঁদের প্রবন্ধ ও আলোচনায় প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, মানবিক উপাদান, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বিত দলগত কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরছেন। বিশেষ করে ভবিষ্যৎ ফ্লাইট সেফটি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করতে প্রযুক্তির সঙ্গে প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, হিউম্যান ফ্যাক্টর এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার সমন্বয় অপরিহার্য। একই সঙ্গে ঝুঁকি শনাক্তকরণ, তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই সেমিনারে বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা ও সর্বোত্তম চর্চা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন, সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বিমান চলাচলের ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে।

কালের আলো/এমএএএমকে

দায়রা আদালতেও জামিন পেলেন না মেজর আখতারুজ্জামান

আদালত প্রতিবেদক, কালের আলো:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
দায়রা আদালতেও জামিন পেলেন না মেজর আখতারুজ্জামান

সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হেনস্তার অভিযোগে করা মামলায় তাঁর জামিন চাওয়া হয়েছিল।

২৬ অক্টোবর ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-৫-এর বিচারক মো. সাদেকীন হাবিব বাপ্পী এ আদেশ দেন। এর ফলে এ মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ পেলেন না তিনি। আদালতে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের পক্ষে জামিন আবেদনের শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ তাঁর জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এর আগে নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর তাঁর পক্ষে দায়রা আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। তবে সেখানেও জামিন মেলেনি।

মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ২ অক্টোবর বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরদিন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে হাজির করা হলে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। রিমান্ড শেষে ৪ অক্টোবর তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। পরে তাঁর আইনজীবীরা দায়রা আদালতে জামিনের আবেদন করেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর বিমানবন্দরে অব্যবস্থাপনা, লাগেজ ট্রলির সংকট, লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি না পাওয়া নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি হুমকি-ধমকিতে গড়ায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হেনস্তার অভিযোগে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তবে মামলার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে তাঁকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। জামিন আবেদন নামঞ্জুরের মধ্য দিয়ে মামলাটিতে তাঁর মুক্তির আবেদন আপাতত নাকচ হলো।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি