খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

ত্রাণ বিতরণে সেনাবাহিনীর কৌশল, মানতে হবে সামাজিক দূরত্বের অনুশাসনও

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২০, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
ত্রাণ বিতরণে সেনাবাহিনীর কৌশল, মানতে হবে সামাজিক দূরত্বের অনুশাসনও

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো :

ঘেষাঘেষি করে ত্রাণদাতারা নিজেরাই নিয়ম ভাঙছেন। পরোয়া করছেন না নিতে আসা অসহায় ও দুস্থ সাধারণ মানুষও।

আরও পড়ুন: প্রখর খরতাপেও পথে পথে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে সেনাবাহিনী (ভিডিও)

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মাত্রা ও গতি কমিয়ে আনতে সামাজিক দূরত্ব অপরিহার্য হলেও নিয়ম না মানারই যেন অঘোষিত এক প্রতিযোগিতা চলছে রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি জেলার সামাজিক ও বেসরকারি সংগঠনগুলোর।

আবার কোন কোন ক্ষেত্রে ত্রাণ নিয়ে হুড়োহুড়ি ও বিশৃঙ্খলাও যেন নিত্যকার ঘটনা। ত্রাণ নিতে কোথাও কোথাও রীতিমতো ধস্তাধস্তি দেখে মনে হচ্ছে ‘বাঁচা-মরার’ লড়াইয়ে নেমেছেন একেকজন। ‘সামাজিক দূরত্ব’ শব্দটির বেলাতে প্রত্যেকের এমন উদাসীনতায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে সংক্রমণের ঝুঁকি।

আরও পড়ুন: সহায়তায় আর্মি এভিয়েশন; আকাশপথে সেনা সদস্যদের হাতে যাচ্ছে মেডিকেল সরঞ্জামাদি

এমন ভয়ঙ্কর স্রোতের বিপরীতেই শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতায় একের পর এক নজর কেড়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। প্রত্যেকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি জেলাতেই সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের কঠোর অনুশাসন তারা নিজেরা মানছেন।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্বে এক মোহনায় দেশ, মানুষকে ‘সুরক্ষার যুদ্ধে’ সেনাবাহিনী

একই সঙ্গে এই শব্দবন্ধটি সবাইকে মানতে উৎসাহী করছেন। দোকান বা বাজারের সড়কে রঙ দিয়ে সুরক্ষারেখা টেনে সেখান থেকে কেনাকাটা করতে পরামর্শ দিচ্ছেন।

আবার সামাজিক বিন্যাস ঠিক রেখেই সামাজিক দূরত্ব মেনেই তারা দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

আরও পড়ুন: করোনার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত যুদ্ধে সেনাবাহিনী, সেনাপ্রধানের বক্তব্যে আশার সঞ্চার

মানবিক এই কর্মযজ্ঞের ধারাবাহিকতায় দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেনা পরিবার কল্যাণ সমিতি (সেপকস) ও আর্মি অফিসার্স লেডিস ক্লাব বুধবার (০৮ এপ্রিল) রাজধানীতে এক হাজার দুস্থ মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে।

ঢাকা সেনানিবাসে সেনা পরিবার কল্যাণ সমিতি (সেপকস) ও আর্মি অফিসার্স লেডিস ক্লাবের পক্ষ থেকে রাজধানীর দিশেহারা দরিদ্র মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের সহধর্মিণী দিলশাদ নাহার আজিজ।

আরও পড়ুন: বৃত্তের মাধ্যমে দূরত্ব চিহ্নিত; সেনাবাহিনীর কর্মযজ্ঞে দেশজুড়ে স্বস্তির সুবাতাস (ভিডিও)

শুধু তাই নয়, এসব ত্রাণ সামগ্রী আবার নিম্নবিত্ত মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সেখানেও তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখে হেঁটে হেঁটে সেনা সদস্যরা ওইসব অভাবী ও খেটে খাওয়া মানুষের বাড়িতে বাড়িতে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন।

আরও পড়ুন: প্রকৃতিতে ফিরেছে প্রাণ, আতঙ্ক নয় প্রতিরোধের ডাক সেনা সদস্যদের (ভিডিও)

এদিন ওই দু’টি সেনা সংগঠনের ত্রাণ বিতরণের এমন সুশৃঙ্খল ও নজরকাড়া দৃশ্যের ছবি ভাইরাল হয়েছে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সেখানে কেউ কেউ লিখেছেন, ‘ত্রাণ বিতরণে বিশৃঙ্খলা ও সামাজিক দূরত্ব না মানাই যেখানে নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে সেখানে ব্যতিক্রমী উদাহরণ স্থাপন করেছেন আমাদের সেনা সদস্যরা।

আরও পড়ুন: ‘করোনা যোদ্ধা’ সেনা সদস্যদের এ যেন মানবতারই জয়গান! (ভিডিও)

নিজেরা সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে হেঁটে যেভাবে সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন, সেটি সামাজিক-বেসরকারি সব সংগঠনেরই অনুসরণ করা উচিত। দূরত্ব বজায় রেখেও এর মাধ্যমে প্রকারান্তরে তারা আলগা হওয়া সামাজিক বন্ধনকেই মজবুত করছেন।’

আরও পড়ুন: সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বেচাবিক্রি, অনুসরণ হচ্ছে ‘সেনাবাহিনী মডেল’ (ভিডিও)

আরও পড়ুন: দেশজুড়ে স্বাস্থ্য সেবাতেও এখন ভরসার নাম সেনাবাহিনী

একই বিষয়ে আবার কারও কারও ভাষ্য হচ্ছে-‘যে কোন দুর্যোগ বা মহামারী মোকাবেলায় এমন ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিত উদ্যোগই বেশি প্রয়োজন। আর সেটিই বারবার আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে দেশ মাতৃকার কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ সেনা সদস্যরা।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একই অনুষ্ঠানের ভাইরাল হওয়া আরেকটি ছবির বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে এমন-‘ত্রাণ বিতরণে নিয়ম-শৃঙ্খলা কেমন হওয়া উচিত সেই বিষয়ে একটি ধারণা মিলবে প্রয়াসের পৃষ্ঠপোষক ও সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের স্ত্রী দিলশাদ নাহার আজিজসহ ত্রাণবিতরণকারী অন্যান্য অতিথি ও ত্রাণ গ্রহীতাদের ছবি দেখে।

আরও পড়ুন: সহায়তায় আর্মি এভিয়েশন; আকাশপথে সেনা সদস্যদের হাতে যাচ্ছে মেডিকেল সরঞ্জামাদি

নিজেরা ফেইস মাস্ক, গ্লাভস পড়ে দূরত্ব বজায় রেখেছেন। যিনি ত্রাণ নিতে এসেছেন তিনি নির্ধারিত বৃত্তে দাঁড়িয়েছেন একই রকম সুরক্ষা সামগ্রী পরিধাণ করেই। এরপর তার হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে ত্রাণ সহায়তা।

করোনা প্রতিরোধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাই এভাবে উদ্যোগী হলেই কমিউনিটি ট্রান্সমিশন ঠেকিয়ে দেওয়া সম্ভব।’

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, গোটা বিশ্বকে একরকম গ্রাসই করেছে কোভিড-১৯। চীন, স্পেন, ইতালি পেরিয়ে আমেরিকা হয়ে এশিয়ায় এসে এখন বড় রকমের ধাক্কার মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে বাংলাদেশেও। সম্ভাব্য এই বিপর্যয় রুখে দিতেই একে অন্যের নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব বজায় অপরিহার্য।

ইতালি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বিলম্ব করেছে। এখন তাদের চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। কিন্তু এখনও হুঁশ ফিরছে না বাংলাদেশে। সড়কে বা বাজারে কোথাও মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্বের রীতি নীতি। সামাজিক দূরত্ব শব্দটির সঙ্গেই যেন কারও পরিচয়ই ঘটেনি এতোদিনেও!

সচেতন মহল বলছেন, সবাইকে সুরক্ষিত রাখতেই ত্রাণ বিতরণে সেনাবাহিনীর এমন কর্মকান্ডের কৌশল রপ্ত করতে হবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে সতর্কতার সঙ্গেই সবাইকে স্বাস্থ্য বিষয়ক এমন নির্দেশনা মানতেই হবে।

আক্ষরিক অর্থেই এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্যই সরকারি ও বেসরকারি সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় ও নিয়মিত তদারকি বাড়ানোর ওপরও মত দিয়েছেন অনেকেই।

কালের আলো/পিসি/এমএএএমকে

ঢাকাসহ ৯ জেলায় ঝড়বৃষ্টির আভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ
ঢাকাসহ ৯ জেলায় ঝড়বৃষ্টির আভাস

ঢাকাসহ দেশের ৯ জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। একইসঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়া অধিদফতরের সতর্কবার্তায় এই তথ্য জানানো হয়।

সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট জেলার ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আরেক বার্তায় সরকারি সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহজুড়ে দেশের সব বিভাগেই ঝড়বৃষ্টির প্রবণতা থাকতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ইরান কখনোই পিছু হটবে না: শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ
ইরান কখনোই পিছু হটবে না: শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের নতুন প্রধান মোহাম্মদ বাকের জোলঘাদর দেশটির জনগণের উদ্দেশে দেওয়া প্রথম বার্তায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, লড়াইয়ে পিছু হটা হবে না।

জোলঘাদর বলেন, সামরিক ক্ষেত্র, কূটনৈতিক অঙ্গন এবং রাস্তায় নেমে আসা জনগণ তাদের সাহসী প্রতিরোধের মাধ্যমে শত্রুকে নতজানু করেছে।

গত মার্চে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান হিসেবে নিয়োগ পান জোলঘাদর। তিনি নিহত আলী লারিজানির স্থলাভিষিক্ত হন। লারিজানি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছিলেন।

জোলঘাদর এর আগে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, লারিজানির মৃত্যুর পর তার নিয়োগ ইরানে আইআরজিসির প্রভাব আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নতুন নিরাপত্তা প্রধান ইরানি জনগণের প্রতি ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঐক্য ও সংহতিও এই সংগ্রামের আরেকটি যুদ্ধক্ষেত্র।

তিনি আরও বলেন, বিভেদ সৃষ্টিকারী যেকোনো কথা বা কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সম্মিলিত প্রচেষ্টাই প্রিয় ইরানকে চূড়ান্ত বিজয়ের পথে নিয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।

এদিকে শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে দেশ দুইটির মধ্যে এখনো শান্তি আলোচনা চলছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

কালের আলো/এসআর/এএএন 

আজ পবিত্র হজ, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত আরাফার প্রান্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ
আজ পবিত্র হজ, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত আরাফার প্রান্তর

আজ পবিত্র হজ। আরাফাতের ময়দানে লাখো কণ্ঠে ধ্বনিত হওয়ার অপেক্ষায় ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্‌দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্‌ক, লা শারিকা লাক।’ এর বাংলা অর্থ—‘আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার।’

গতকাল থেকেই পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে তাঁবুর নগরী খ্যাত মিনায় অবস্থান নেন লাখ লাখ হাজি। তারা সেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত তাঁবুতে অবস্থান করে ইবাদত-বন্দেগিতে নিমগ্ন থাকেন। মঙ্গলবার ফজরের নামাজের পর আল্লাহর মেহমানরা রওনা হচ্ছেন আরাফাতের ময়দানে।

ইসলামের মূল পাঁচটি স্তম্ভের একটি হচ্ছে পবিত্র হজ। আর পবিত্র হজের তিনটি ফরজের অন্যতম হচ্ছে আরাফাতের ময়দানে হাজিদের অবস্থান। এটিই হচ্ছে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা।

সারা বিশ্ব থেকে এবার ১৫ লাখের বেশি হজযাত্রী পবিত্র হজব্রত পালন করতে মক্কায় জড়ো হয়েছেন। নানা বর্ণের, নানা ভাষার মুসলিমরা মিশেছেন একই স্রোতে। আল্লাহর মেহমানরা আজ আরাফাতের ময়দানে দিনভর অবস্থান করবেন। এই মরুর ময়দানে ১৪০০ বছর আগে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ঐতিহাসিক বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন।

আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে আজ হজের খুতবা দেওয়া হবে। এবার মসজিদে নববির প্রবীণ ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফির খুতবা দেওয়ার কথা রয়েছে। খুতবা ও নামাজের মধ্য দিয়ে এই বিস্তীর্ণ ময়দানে হাজিরা সারা দিন পার করবেন। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে হাজিরা আল্লাহর জিকির-আসগার, তিলাওয়াত, দোয়া-মোনাজাতে নিমগ্ন থাকবেন।

ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, আরাফাতের ময়দানের দোয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। হাজিরা জোহর ও আসর নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন। সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে গেলে হাজিরা অত্যন্ত কাতর ও বিনয়ী কণ্ঠে একযোগে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। অশ্রুভেজা কণ্ঠে পার্থিব দুনিয়ার যত অপরাধ, পাপের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবেন। একই সঙ্গে পরিবার-আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী-পরিচিতজন, দেশবাসীসহ মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করেন। সব চাওয়া-পাওয়া, মনের আকাঙ্ক্ষা আল্লাহ–তাআলার কাছে ব্যক্ত করবেন হাজিরা।

আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের প্রতিদানস্বরূপ আল্লাহ হাজিদের নিষ্পাপ ঘোষণা করেন। হাদিসে আছে, ‘আরাফাহর দিন আল্লাহ এত বেশি পরিমাণ জাহান্নামিকে অগ্নি থেকে মুক্তি দেন, যা অন্য কোনো দিবসে দেন না।’ (মুসলিম শরিফ)

হজের অংশ হিসেবে হাজিরা আরাফাতের ময়দান থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে মুজদালিফায় যাবেন। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানো ওয়াজিব। ফজর নামাজের পর তাঁরা সাতটি পাথর সংগ্রহ করবেন। ১০ জিলহজ মুজদালিফায় ফজরের নামাজ আদায় করে হাজিরা কেউ ট্রেনে, কেউ গাড়িতে, কেউ হেঁটে আবার মিনায় যাবেন এবং নিজ নিজ তাঁবুতে ফিরবেন। মিনায় বড় শয়তানকে সাতটি পাথর মারার পর পশু কোরবানি দিয়ে মাথার চুল ছেঁটে গোসল করবেন। সেলাইবিহীন দুই টুকরা কাপড় বদল করবেন।

এরপর স্বাভাবিক পোশাক পরে মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে পবিত্র কাবার সামনের দুই পাহাড় সাফা ও মারওয়ায় ‘সাঈ’ (সাতবার দৌড়াবেন) করবেন। কাবা শরিফ তাওয়াফ (তাওয়াফ আল-ইফাদাহ) করবেন। তাওয়াফ শেষে মিনায় ফিরে ১১ ও ১২ জিলহজ অবস্থান ও প্রতিদিন তিন (ছোট, মেজ ও বড় শয়তান) শয়তানকে ২১টি পাথর নিক্ষেপ করবেন।

পবিত্র কাবা তাওয়াফ, আরাফাতের ময়দানে অবস্থান, সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে দৌড়ানো, মিনার জামারায় পাথর নিক্ষেপ, আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি ইত্যাদি হজের ইবাদত। জামারায় শয়তানের প্রতিকৃতিতে পাথর নিক্ষেপের পর হাজিদের পশু কোরবানির প্রস্তুতি নিতে হয়। তারা আগামীকাল বুধবার কোরবানি দেবেন। অধিকাংশ হাজি নিজে বা বিশ্বস্ত লোক দিয়ে মুস্তাহালাকায় (পশুর হাট ও জবাইয়ের স্থান) গিয়ে কোরবানি দেন। কেউ কেউ ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকে অর্থ জমা দিয়ে কোরবানি দেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ