খুঁজুন
                               
, ,
           

উপেক্ষা ‘ঈদ আনন্দ’; আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলবাসীর পাশেই থাকছে সেনাবাহিনী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২০, ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ
উপেক্ষা ‘ঈদ আনন্দ’; আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলবাসীর পাশেই থাকছে সেনাবাহিনী

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা মরিয়ম বেগমের দুনিয়ায় আপন বলতে নেই কেউ। অনেক আগেই হারিয়েছেন স্বামীকে। ছেলেরা থেকেও নেই যেন! এখানকার সবার মতো তাকেও প্রকৃতির সঙ্গে সংগ্রাম করেই টিকে থাকতে হচ্ছে বছরের পর বছর।

নিস্তরঙ্গ জীবনে নিজের ভিটেমাটির শেষ সম্বল ঘরটিতে থাকেন একাই। এরই মধ্যে ‘অতি প্রবল’ ঘূর্ণিঝড় আম্পান উড়িয়ে নিয়েছে তাঁর মাথাগোঁজার ঠাঁই। জীবনের গোধূলী বেলায় এক রাতের তান্ডবেই ‘গৃহহীন’ হতে হয়েছে মরিয়মকে।

চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরটি ঠিকঠাক করে দেওয়ার জন্য অনেকের দূয়ারেই ধর্ণা দিয়েছেন। হয়নি সমস্যার সমাধান। হতভাগ্য বয়োবৃদ্ধার কঠিন এমন বাস্তবতার বিষয়টি সেনা সদস্যদের কর্ণকুহরে পৌঁছেছে।

‘দশে মিলে করি কাজ’ নীতি নিয়ে তারা নিজেদের উদ্যোগেই বাঁশ ও নতুন টিন কিনে হাতে হাতে নির্মাণ করে দিয়েছেন ঘর।

চিত্রটি নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার কেতকিবাড়ী গ্রামের। মাত্র দুই দিনেই নিজের বসতঘরটি ফিরে পেয়ে আপ্লুত কন্ঠস্বরে মরিয়ম বেগম কালের আলোকে বলেন, ‘বিপদে কেউ পাশে থাকে না, এই কথা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

সেনাবাহিনীর সৈনিকরা আমার ঘর বানিয়ে দিয়েছে। আমাকে বাঁচার পথ দেখিয়েছে। আল্লাহই ওদের সহায় হবেন।’

প্রবল জলোচ্ছ্বাসে বাঁধ ভেঙে বাগেরহাটের শরণখোলা, সাতক্ষীরার শ্যামনগর, খুলনার কয়রাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ অনেক এলাকা তলিয়ে গেছে।

এসব এলাকায় ভেঙে যাওয়া বাঁধ মেরামতের জন্য পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছেন সেনা সদস্যরা। ইতোমধ্যেই এলাকাগুলোতে বাঁধ মেরামত প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছেন প্রায় হাজারখানেক সদস্য।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে তুমুল তান্ডব চালিয়ে সবকিছু লন্ডভন্ড করে দেওয়া ‘সুপার সাইক্লোন’ আম্পান পরবর্তী সময়ে উপকূলীয় এলাকাসমূহে দুর্গতদের ঘরদোর মেরামত থেকে শুরু করে বাঁধ মেরামত, মেডিক্যাল টিমের মাধ্যমে দূয়ারে দূয়ারে স্বাস্থ্যসেবা, পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট স্থাপন ও ত্রাণ বিতরণ সবকিছুই এক হাতে সামাল দিচ্ছে প্রশিক্ষিত, নির্ভীক ও দেশপ্রেমিক সেনারা।

বিশেষ করে ঈদকে ঘিরে যখন করোনার ভয়াবহতার মাঝেও নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার হিড়িক পড়েছে তখন অসহায় উপকূলবাসীর সহায় হয়েই নিজেদের
‘ঈদ আনন্দ’ উপেক্ষা করেই মাঠে সক্রিয় থাকবেন সেনা সদস্যরা। এ যেন সেবাতেই এক রকমের ঈদ আনন্দের ‘পূর্ণতা’!

উপকূলীয় এলাকায় ‘রাউন্ড দ্যা ক্লক’ কর্মযজ্ঞ
ক্ষেতের ফসল, মাছের ঘের, ঘরবাড়ি, হাঁস-মুরগি- সব হারিয়ে নি:স্ব উপকূলের এসব মানুষকে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকেই আবার সোজা হয়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখাতে সেনা সদস্যরা তাদের নিরন্তর সংগ্রামে সহযাত্রী করেছেন নিজেদের।

করোনা সঙ্কটের ধারাবাহিকতায় বুকে প্রত্যয় আর সাহস নিয়ে আবারও আম্পান দুর্যোগ মোকাবেলাতেও ত্যাগের সমুদ্রে ভাসিয়েছেন সৈনিক জীবনের তরী।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও সার্বক্ষণিক নির্দেশনায় মানবতা, মনুষ্যত্ব আর ঐক্যের মহান ঐতিহ্য ধারণ করেই উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ‘রাউন্ড দ্যা ক্লক’ এমন কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন সেনা সদস্যরা।

যশোর সদর উপজেলার ফুলবাড়িয়া এলাকার আব্দুর রহিম কিংবা জরিনা বেগমের পাশেও সৎ সাহসের পরিচয় দিয়ে মানবিক হৃদয় নিয়েই দাঁড়িয়েছেন যশোর ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যরা। ঝড়ে পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত ঘর কেবল মেরামতই নয়, আহারের জন্য খাবারও দিয়েছেন তারাই।

সেনা সদস্যদের এমন মানবিকতায় জরিনার চোখ জলে টইটুম্বর। আঁখি মুছতে মুছতে কালের আলোকে বলছিলেন এমন-‘প্রতিবন্ধী নাতিকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকতো হতো।

আল্লাহ রহমত করছে, বিপদের বন্ধু হিসেবে সেনাবাহিনী এগিয়ে এসেছে। আমার ঘর ঠিক করে দিয়েছে। এই উপকার কোনদিন ভুলবো না।’

মরিয়ম, জরিনা বা আব্দুর রহিমেরই ভাষ্যই কী কেবল এমন? বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। খুলনা, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, বাগেরহাট, নোয়াখালী, নীলফামারী, যশোরসহ গোটা উপকূলীয় অঞ্চলজুড়ে মহাঘূর্ণিঝড় আম্পানের ভয়ঙ্কর থাবায় পর্যদুস্ত হয়ে এখানকার বেশিরভাগ মানুষই গৃহহীন হয়েছেন।

কাঁচা-পাকা লক্ষাধিকের বেশি ঘরবাড়ি হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত। আবার কোথাও তলিয়ে গেছে বাঁধ, ফসলের ক্ষেত, মাছের ঘের এমনকি বিস্তীর্ণ এলাকা। শক্তিশালী আম্পান শক্তি হারিয়ে বিদায় নিয়েছে। তবে এক রাতের ঝড় কেড়ে নিয়েছে, ডুবিয়ে দিয়েছে কোটি মানুষের স্বপ্ন।

সেনাপ্রধানের নির্দেশে অন্য রকম এক লড়াই
গোটা উপকূলীয় এলাকাসমূহে এখন কেবলই আম্পানের ভয়ঙ্কর ক্ষতচিহ্ন। বিষাদে ভরেছে উপকূলের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মন। সবার মাঝেই যেন ভয়, হতাশা আর হারানোর যন্ত্রণা।

কিন্তু সেই ক্ষত কাটিয়ে তুলতে নব উদ্যমে উপকূলের ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের জাগিয়ে তুলতে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের নির্দেশে অন্য রকম এক লড়াইয়ে নিজেদের সমর্পণ করেছেন সেনা সদস্যরা।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তেজোদীপ্ত, নির্ভীক ও লড়াকু সৈনিকরা কাজ করছেন দিন-রাত একাকার করেই। সংশ্লিষ্ট সূত্র কালের আলোকে জানিয়েছে, সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের সার্বক্ষণিক নির্দেশনায় মানবতা, মনুষ্যত্ব আর ঐক্যের মহান ঐতিহ্য ধারণ করেই পরিশ্রমী ও বুদ্ধিদীপ্ত সেনারা উপকূলীয় এলাকাগুলোতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছেন।

দক্ষতার সঙ্গেই অসহায় মানুষের ঘরবাড়ির পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও মেরামত করে দিচ্ছেন, মানবিকবোধে জাগ্রত হয়েই।

দুর্গত এলাকায় ইতোমধ্যেই সেনাবাহিনী প্রায় ১১ হাজার পরিবারকে খাবার সহায়তা যেমনি দিয়েছে তেমনি ভবিষ্যতের সহায়তার জন্যও প্রস্তুত করা হয়েছে ৩৫ হাজার ৮১৪ প্যাকেট খাবার।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা
অতীতেও বন্যা, সাইক্লোন, ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে গৌরবোজ্জ্বল অবদান রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৎ ও গর্বিত সদস্যদের।

দেশের সীমানা ছাপিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও নিজেদের কর্মদক্ষতার স্বাক্ষর রেখে স্থাপন করেছেন অনন্য দৃষ্টান্ত। নিজেদের একাগ্রতা, কর্মদক্ষতা ও নানাবিধ জনসেবামূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে অর্জন করেছেন সার্বজনীন আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা।

করোনাকালে উপকূলের ভাগ্যবিড়ম্বিত মানুষের কাছে আক্ষরিক অর্থেই তারা হয়ে উঠেছেন ‘বিপদের বন্ধু’।

আবারও সামনে থেকে নেতৃত্বে সেনারা
বিষাদে ভরপুর উপকূলের বাসিন্দাদের আড়মোড়া ভেঙে পুরোপুরি চাঙ্গা করতেই চলমান এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রশিক্ষিত ও সৃশঙ্খল সেনা সদস্যরা।

পাশাপাশি অসীম ধৈর্য্য ও শতভাগ পেশাদারিত্বের মাধ্যমে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতেও মানুষকে উৎসাহিত করছেন।

নিজেদের রেশনের একাংশের টাকায় খাবার ও আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় দিচ্ছেন চিকিৎসা সেবাও। প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে। কোথায় কী সমস্যা হচ্ছে সবকিছুই খোঁজ খবর রাখছেন সমান তালেই।

পুরো কর্মতৎপরতা মনিটরিং করে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের প্রয়োজনীয় ‘গাইড লাইন’ দিচ্ছেন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

এক নজরে তৎপরতার সারসংক্ষেপ
আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, আম্পান দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য সেনাবাহিনীর ১৪৬টি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দল স্বল্প সময়ে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

দুর্যোগ উপদ্রুত এলাকাগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের জন্য প্রস্তুত রয়েছে এ বাহিনীর ৭৬টি মেডিক্যাল টিমও।

সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সাতক্ষীরার শ্যামনগর, খুলনার কয়রা ও বাগেরহাটের শরণখোলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতে কার্যক্রম শুরু করেছে সেনাবাহিনী। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ১০ হাজার ৭৫০ টি জিও ব্যাগ সংগ্রহ করা হয়েছে।

স্থানীয় কয়রায় ভেঙে যাওয়া হরিণখোলা, উত্তরবেদকাশি গাজীপাড়া ও রত্মাঘেরি এলাকার বাঁধ মেরামতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাটালিয়নসহ দুটি ব্যাটালিয়নের ৩৫০ জন সদস্য।

বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ করতে খুলনার কয়রা, সাতক্ষীরা ও পটুয়াখালীতে একটি করে পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট বসানো হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্যোগ উপদ্রুত এলাকাসমূহে বিশুদ্ধ খাবার পানি প্রদানের জন্য ১৩টি ওয়াটার পিউরিফিকেশন প্ল্যান্ট ও ১৪টি ওয়াটার বাউজার প্রস্তুত সেনারা প্রস্তুত করেছেন।

একই সূত্র মতে, বগুড়া, পাবনা, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, মেহেরপুর ও জয়পুরহাটে ৮ টি, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, চাঁদপুর, নোয়াখালীসহ উপকূলীয় এলাকাসমূহে ২০ টি মেডিকেল টিম বিনামূল্যে মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন।

প্রায় এক হাজার ৩’শ মানুষকে দুর্যোগ উপদ্রুত এলাকায় দেওয়া হয়েছে চিকিৎসা সহায়তা। এসব এলাকায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদানে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে আরও ৭৩টি মেডিক্যাল টিম।

কালের আলো/এসআরএস/এমএএএমকে

গ্যাসের দাম বাড়ালে আমরা পেট্রোবাংলা ঘেরাও করব: নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪১ পূর্বাহ্ণ
গ্যাসের দাম বাড়ালে আমরা পেট্রোবাংলা ঘেরাও করব: নাহিদ ইসলাম

সরকারকে পাঁচ বছর অতিক্রম করার সুযোগ দেওয়া হবে না জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‌‌সরকার যদি মনে করে এভাবে পাঁচ বছর অতিক্রম করবে, এই সুযোগ দেওয়া হবে না। দেশের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের রায় অস্বীকার করে কোনো সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না।

টিকে থাকতে হলে দমন-পীড়ন, নির্যাতন করে টিকে থাকতে হয়, যেটা আমরা শেখ হাসিনার সরকারের সময় দেখেছি।

এ সময় তিনি সরকারের জ্বালানিনীতিরও সমালোচনা করে বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে আমরা অবশ্যই পেট্রোবাংলা ঘেরাও করব। ঢাকা শহরের মানুষও দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসবে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে আহত আলিফ চৌধুরীকে দেখতে রাজধানীর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, হবিগঞ্জে হামলার শিকার কিশোর আলিফের একটি চোখের দৃষ্টি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে এবং অন্য চোখও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেই চোখে দৃষ্টি ফেরার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। অন্য চোখও কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তা এখনও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না চিকিৎসকরা। চিকিৎসকদের বোর্ড সভার পর আলিফের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

তিনি বলেন, আমি সিলেট থেকে এসেছি। গত কয়েক দিনে সিলেটে কী ঘটেছে, তা সবাই জানেন। তিন দিন হয়ে গেল, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে আলিফের খোঁজ নেওয়া হয়নি। সরকারি বাহিনীর হামলার শিকার হয়েছে, এটি ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট। হবিগঞ্জ সদর থানা ছাত্রদলের সদস্যসচিব হামলায় জড়িত ছিল। আমরা অনেকের বিরুদ্ধে মামলাও করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সাংগঠনিক বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, সরকার বার্তা দিচ্ছে যে তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় থাকা ছাত্রদল-যুবদলের সন্ত্রাসীরা চাইলে দিনের আলোয় হামলা করতে পারে, মানুষকে হত্যা করতে পারে, চোখ উপড়ে ফেলতে পারে, কিন্তু তার বিচার হবে না। আমরা যখন এই ঘটনার প্রতিবাদে কর্মসূচি দিচ্ছি, তখনও সরকারি দল বাধা দিচ্ছে। হবিগঞ্জে আমরা দেখেছি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রায় এক হাজার সন্ত্রাসী জড়ো হয়েছিল। পুলিশ কিছুই করেনি। একটি সভ্য সমাজে এটা কল্পনাও করা যায় না।

সরকারি দলের জনপ্রতিনিধিদের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, জি কে গউসের অনুসারী যে ব্যক্তি আলিফের ওপর হামলা করেছে এবং সারজিস আলমের গাড়িতেও হামলা চালিয়েছে, অন্য কোনো গণতান্ত্রিক দেশে হলে তিনি এতক্ষণে ক্ষমা চাইতেন, পদত্যাগ করতেন অথবা দল থেকে বহিষ্কৃত হতেন।

প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কোনো বক্তব্য নেই। প্রধানমন্ত্রী স্কুল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছবি তোলায় ব্যস্ত থাকলেও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কোনো বক্তব্য দিচ্ছেন না।

অভিভাবকদের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, আজকে আলিফের চোখ গেছে, কালকে আপনার সন্তানেরও চোখ যেতে পারে। কারণ এই সন্ত্রাসী বাহিনীকে যদি প্রতিরোধ করা না যায়, তারা পুলিশ মানে না, বিচার মানে না। আপনার সন্তানও এই সরকারের কাছে নিরাপদ নয়।

তিনি আরও বলেন, শুধু সিলেট নয়, কুড়িগ্রাম, সাভার, কেরানীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এনসিপি, ছাত্রশক্তি ও যুবশক্তির কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে সরকার বিরোধী মতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দমনের চেষ্টা করছে।

আলিফের উদ্ধৃতি দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, আলিফ আমাকে বলেছে, কাঁটা গলায় বিঁধে যাওয়ার আগেই কাঁটা তুলে ফেলতে হয়। বিঁধে গেলে অনেক ক্ষতি হয়।

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যদি সরকার মনে করে এভাবে পাঁচ বছর পার করবে, সেই সুযোগ দেওয়া হবে না। দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের রায় অস্বীকার করে কোনো সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। টিকে থাকতে হলে দমন-পীড়নের পথেই থাকতে হয়, যেমনটি শেখ হাসিনার সরকারের সময় দেখা গেছে।

এ সময় তিনি সরকারের জ্বালানিনীতিরও সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম ১৬ টাকা থেকে ২৫ টাকা এবং সিএনজির গ্যাসের দাম ৪২ টাকা থেকে ৬৫ টাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দ্রব্যমূল্য আরও বাড়বে, শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাবে।

সরকার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই দফায় দফায় বিদ্যুৎ, গ্যাস ও এলপিজির দাম বাড়িয়েছে। আবাসিক গ্যাসের দামও বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে। মানুষ গ্যাস না পেলেও নিয়মিত বিল দিচ্ছে।

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, দেশে বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে, শিল্পকারখানা বিদ্যুৎ সংকটে রয়েছে এবং ব্যবসায়ীরা প্রশাসনিক হয়রানি ও চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক নিয়োগ দিয়ে সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে পেট্রোবাংলা ঘেরাও কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে আমরা অবশ্যই পেট্রোবাংলা ঘেরাও করব। ঢাকা শহরের মানুষও দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসবে।

তিনি আরও বলেন, ১২টি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক বসানো হয়েছে। পদবঞ্চিত নেতাদের মূল্যায়ন করতে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। এই পাঁচ মাসেই সরকারের অগণতান্ত্রিক ও সন্ত্রাসী চরিত্র জনগণের সামনে উন্মোচিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তিনি দল পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছেন, তাই ১৮ কোটি মানুষের দেশ পরিচালনাও তার পক্ষে সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, সরকার আলিফের পাশে নেই। আমরা সরকারের কাছে বিচার, ক্ষতিপূরণ বা সহানুভূতি প্রত্যাশা করি না। কিন্তু সারা বাংলাদেশের মানুষ, গণঅভ্যুত্থানের শক্তি এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো আলিফের পাশে আছে। আমরা জনগণকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানাই। সরকারের সন্ত্রাসী ও দমন-পীড়নের আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

ফের এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, আহত পাটওয়ারী

সিলেট প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
ফের এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, আহত পাটওয়ারী

নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর গাড়িবহরে আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

সিলেটের জৈন্তাপুরে জুলাই পদযাত্রা শেষে শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে ফেরার পথে এ হামলা হয়। হামলায় গাড়ির কাঁচ ভাঙচুর করা হলে ভাঙা কাঁচে আহত হন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও তার সঙ্গে থাকা আরও একজন। তাদের দুজনের হাত কেটে রক্তপাত হয়।

এনসিপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জৈন্তাপুরে দলটির জুলাই পদযাত্রার শেষ কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে একদল হামলাকারী গাড়িবহরে হামলা চালায়। এতে কয়েকটি গাড়ির কাঁচ ভেঙে যায় এবং ভাঙা কাঁচে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীসহ দুজন আহত হন।

হামলার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, ‘তারেক রহমান, আমাকে রক্তাক্ত করে আপনি একটি ভয়াবহ ভুল করেছেন। আপনি সন্ত্রাসের পথে গেলেন।’

তিনি আরও লেখেন, জৈন্তাপুর পদযাত্রার শেষ কর্মসূচি শেষ করে ফেরার পথে তার গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে তিনি রক্তাক্ত হয়েছেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

তারেক রহমানের ব্যতিক্রমী নেতৃত্ব ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের রূপরেখা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৭ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের ব্যতিক্রমী নেতৃত্ব ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের রূপরেখা

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র সংস্কারের যে তাগিদ তৈরি হয়েছিল, তার ওপর ভর করে অনুষ্ঠিত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দেশবাসী আশা করেছিল, একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। আর সেই নতুন অধ্যায়ের মূল কাণ্ডারি হিসেবে আবির্ভূত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন শেষে ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে তিনি যখন স্বদেশের মাটিতে পা রাখেন, তখন তাঁর কণ্ঠে ছিল এক দৃঢ় অঙ্গীকার “আই হ্যাভ এ প্ল্যান” (আমার একটি পরিকল্পনা আছে)।

লক্ষ জনতার অভূতপূর্ব অভ্যর্থনার জবাবে তিনি উপহার দিয়েছিলেন এক রাষ্ট্র পুনর্গঠনের পথ নকশা। আজ সরকার গঠনের চার-পাঁচ মাস পার হওয়ার পর যদি পুরো দৃশ্যপট পর্যালোচিত হয়, তবে দুটি বিপরীতমুখী স্রোত পরিলক্ষিত হয়: একদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সততা, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞাময় নেতৃত্ব; অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে এবং প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহলের সেই পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা।

বিগত ৫৬ বছরের বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি ও স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের শাসনামলটুকু বাদ দিলে সরকারপ্রধানদের জীবনযাত্রা, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং সিদ্ধান্তের মধ্যে এমন আমূল পরিবর্তন খুব কমই দেখা গেছে। কিন্তু তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রতিটি পদক্ষেপে গভীর দেশপ্রেম ও পরিপক্বতার পরিচয় দিয়েছেন।

তিনি রাষ্ট্রীয় তকমা ও অহেতুক আড়ম্বর ত্যাগ করে অত্যন্ত সাদামাটা পোশাক ও যাপনচিত্র বেছে নিয়েছেন। ভিআইপি সংস্কৃতির নামে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো এবং সরকারি খরচে লাগাম টেনে ধরে যে ব্যয় সাশ্রয়ী পদক্ষেপ তিনি নিয়েছেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

প্রতিপক্ষের সমালোচনা সহ্য করার বিরল উদারতা তিনি দেখাচ্ছেন। কোনো প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও ভিন্নমতের প্রতি তাঁর আচরণ অত্যন্ত শৃঙ্খলিত ও গণতান্ত্রিক।

সাধারণ মানুষ আজ তাঁর মাঝে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছায়া দেখতে পাচ্ছেন। জিয়াউর রহমান যেভাবে খাল খনন কর্মসূচি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের দরজায় পৌঁছে গিয়েছেন, তারেক রহমানও তাঁর নির্দেশিত পথেই আধুনিক ও সময়োপযোগী এক নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা বাস্তবায়ন করছেন।

তাঁর এই সুনির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি এবং সততা প্রতিটি দেশপ্রেমিক, গণতান্ত্রিক ও শান্তিকামী মানুষের হৃদয়ে গভীর প্রশান্তি যোগাচ্ছে। দীর্ঘকাল ধরে বঞ্চিত ও অবহেলিত মানুষগুলো তাঁর নেতৃত্বের মাঝে নতুন আশার আলো দেখছে।

দেশ পুনর্গঠনে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের যে প্রবল আকাঙ্ক্ষা, তা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী মাঠপর্যায়ে প্রত্যাশিত সমর্থন ও গতি পাচ্ছেন না। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা করবে বা ত্রুটি খুঁজবে—এটাই স্বাভাবিক নিয়ম।

দীর্ঘদিনের লালিত অপসংস্কৃতি, তোষামোদি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের যে ঐতিহ্য দেশে তৈরি হয়েছিল, সেই চক্রটি তারেক রহমানের বৈষম্যহীন ও আইনের শাসনের মডেলকে মেনে নিতে পারছে না। কারণ, দেশে সত্যিকারের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে তাদের ব্যক্তিগত সুবিধা এবং চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি,দখল,ঘুষ-দুর্নীতির রাজত্ব চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।

সম্প্রতি কুমিল্লায় একটি আলোচনা বৈঠকে কুমিল্লার এসপি মহোদয়ের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সচেতন মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। সেখানে এক বিএনপি নেতার প্রশ্নের জবাবে তিনি খোলাখুলিই বলেন, “আমি আপনার আগে ছাত্রদল করে এসেছি। আপনারা কাউকে পছন্দ না হলেই ফ্যাসিস্ট বা জামায়াত বলে আখ্যা দেন।” এটি কেবল কোনো একক জেলার চিত্র নয়; সারাদেশের সিভিল প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীতে আজ এই একই প্রবণতা দৃশ্যমান।

একদল সুবিধাভোগী কর্মকর্তা ও দলীয় প্রভাবশালী নেতা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য দক্ষ, সৎ ও মেধাবী কর্মকর্তাদের ওপর রাজনৈতিক ‘ট্যাগ’ লাগিয়ে দিচ্ছেন।

এমনকি যেসব কর্মকর্তা ছাত্রজীবনে সরাসরি ছাত্রদলের সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন—কলেজ উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরবর্তীতে কর্মজীবনে যারা সৎ, পেশাদার ও পরহেজগার  হিসেবে চাকরিজীবন পার করেছেন—তাদেরকেও দুর্নীতির বাধা মনে করে হেনস্তা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক ট্যাগ দেয়ার অপচেষ্টা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভুল তথ্য ও কুৎসা রটিয়ে নীতিবান কর্মকর্তাদের দূরে সরিয়ে রেখে পুরো সিস্টেমে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করাই এই গোষ্ঠীর মূল উদ্দেশ্য। তবে আশা জাগানিয়া বিষয় হলো, প্রধানমন্ত্রী অনেক ক্ষেত্রেই এসব বিষয় আমলে নিচ্ছেন না।

এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করতে চাই। সম্প্রতি চট্টগ্রামে সংঘটিত দুটি আলোচিত চাঁদাবাজির ঘটনায় সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি দেখা গেছে:

একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ব্ল্যাকমেইল করে এবং শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে কোটি টাকার চেক লিখে নেওয়ার ঘটনায় যুক্তদের রেহাই দেওয়া হয়নি।

অন্য একটি ইন্টারনেট কোম্পানির অফিসে ঢুকে কোটি টাকা চাঁদা দাবি ও তাণ্ডব চালানোর মূলহোতাদের দ্রুততার সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকি শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের মতো অপরাধীরা যখন ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল, পুলিশ তাদের ধরে আইনের আওতায় এনেছে। বিএনপি সমর্থিত কেউ জড়িত থাকলেও ছাড় না দেওয়ার এই বার্তা প্রমাণ করে যে, প্রধানমন্ত্রীর নিয়তে কোনো গলদ নেই।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ডিএফপি অডিটোরিয়ামে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত জুলাই শহীদ দিবসের আলোচনা সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা যে কোনো বিচারে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে আমি মনে করি।

এখানে দ্বিধাহীন চিত্তে বলতে চাই যে,সমসাময়িক রাজনীতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মত এতটা পরিচ্ছন্ন ইমেজের রাজনীতিবিদ খুব বেশি আছে বলে আমার জানা নেই।

“চার-পাঁচ মাসে কিছুই বদলায়নি। একইভাবে ঘুষখোররা ঘুষ খাচ্ছে। ভালো পরিকল্পনা আগের মতোই আটকে দিচ্ছে। আমি সত্যিকার অর্থে পরিবর্তন দেখতে চেয়েছিলাম। তারেক রহমান ছাড়া আর কারও মধ্যে পরিবর্তন ঘটেনি। তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।”

স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর এই বক্তব্য একদিকে যেমন এক নির্মম সত্যের স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ, অন্যদিকে এটি সরকারের ভেতরে লুকিয়ে থাকা গভীর সংকটের ইঙ্গিত বলেই মনে হচ্ছে।

এই জটিল রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অচলাবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য এবং তোষামোদকারী চক্রকে রুখে দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে একটি কঠোর প্রশাসনিক কাঠামো অনুসরণের পরামর্শ:

প্রধানমন্ত্রী এমন একটি কঠোর নির্দেশনা জারি করতে পারেন যে, কোনো কর্মকর্তা বা নেতার নামে যদি তাঁর কাছে কোনো নেতিবাচক তথ্য দেওয়া হয় এবং তদন্তে তা ভুল বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রমাণিত হয়, তবে তথ্য প্রদানকারীকে একটি ‘মাইনাস পয়েন্ট’ দেওয়া হবে।

কোনো ব্যক্তি—তিনি প্রধানমন্ত্রীর যত নিকটবর্তীই হোন না কেন—যদি পরপর দুই বা তিনবার সরকারকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে ভুল বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রদান করেন, তবে তাকে অবিলম্বে সরকারের সকল পদ ও দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে ছাঁটাই করতে হবে। এই কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে অশুভ গ্রুপিং, লবিং এবং মিথ্যার ওপর ভর করে সুবিধা নেওয়ার রাজনীতি অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে আশা করা যায়।

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর এবং জুলাই অভ্যুত্থানের মতো একটি ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পরও যদি মানুষের জীবনমানের মৌলিক উন্নতি না হয়, তবে তা দেশের জন্য চরম দুর্ভাগ্যজনক। চব্বিশের তরুণরা রক্ত দিয়েছিল ক্ষমতার হাতবদলের জন্য নয়; তারা রক্ত দিয়েছিল ব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য। তারেক রহমান তাঁর সততা, পোশাক, মেধা ও দূরদর্শিতা দিয়ে নিজের পরিবর্তন প্রমাণ করেছেন। কিন্তু একটি দেশ কেবল এক একক ব্যক্তির পরিশ্রমে বদলাতে পারে না। দলের ভেতর থাকা তথাকথিত নেতাদের বুঝতে হবে, পুরোনো ভোগবাদী ও তোষামোদের রাজনীতি বজায় রাখলে তা কেবল দলকেই নয়, পুরো দেশকেই অতলে ডুবিয়ে দেবে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বীকারোক্তিকে আক্ষেপ হিসেবে না দেখে, একে সতর্কবার্তা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীকে এখনই দল ও প্রশাসনের ভেতরের দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও কঠোর অবস্থান নিতে হবে। তবেই জুলাই শহীদদের স্বপ্ন সার্থক হবে এবং তারেক রহমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি বৈষম্যহীন, সৎ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক।