খুঁজুন
                               
, ,
           

উপেক্ষা ‘ঈদ আনন্দ’; আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলবাসীর পাশেই থাকছে সেনাবাহিনী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২০, ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ
উপেক্ষা ‘ঈদ আনন্দ’; আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলবাসীর পাশেই থাকছে সেনাবাহিনী

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা মরিয়ম বেগমের দুনিয়ায় আপন বলতে নেই কেউ। অনেক আগেই হারিয়েছেন স্বামীকে। ছেলেরা থেকেও নেই যেন! এখানকার সবার মতো তাকেও প্রকৃতির সঙ্গে সংগ্রাম করেই টিকে থাকতে হচ্ছে বছরের পর বছর।

নিস্তরঙ্গ জীবনে নিজের ভিটেমাটির শেষ সম্বল ঘরটিতে থাকেন একাই। এরই মধ্যে ‘অতি প্রবল’ ঘূর্ণিঝড় আম্পান উড়িয়ে নিয়েছে তাঁর মাথাগোঁজার ঠাঁই। জীবনের গোধূলী বেলায় এক রাতের তান্ডবেই ‘গৃহহীন’ হতে হয়েছে মরিয়মকে।

চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরটি ঠিকঠাক করে দেওয়ার জন্য অনেকের দূয়ারেই ধর্ণা দিয়েছেন। হয়নি সমস্যার সমাধান। হতভাগ্য বয়োবৃদ্ধার কঠিন এমন বাস্তবতার বিষয়টি সেনা সদস্যদের কর্ণকুহরে পৌঁছেছে।

‘দশে মিলে করি কাজ’ নীতি নিয়ে তারা নিজেদের উদ্যোগেই বাঁশ ও নতুন টিন কিনে হাতে হাতে নির্মাণ করে দিয়েছেন ঘর।

চিত্রটি নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার কেতকিবাড়ী গ্রামের। মাত্র দুই দিনেই নিজের বসতঘরটি ফিরে পেয়ে আপ্লুত কন্ঠস্বরে মরিয়ম বেগম কালের আলোকে বলেন, ‘বিপদে কেউ পাশে থাকে না, এই কথা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

সেনাবাহিনীর সৈনিকরা আমার ঘর বানিয়ে দিয়েছে। আমাকে বাঁচার পথ দেখিয়েছে। আল্লাহই ওদের সহায় হবেন।’

প্রবল জলোচ্ছ্বাসে বাঁধ ভেঙে বাগেরহাটের শরণখোলা, সাতক্ষীরার শ্যামনগর, খুলনার কয়রাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ অনেক এলাকা তলিয়ে গেছে।

এসব এলাকায় ভেঙে যাওয়া বাঁধ মেরামতের জন্য পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছেন সেনা সদস্যরা। ইতোমধ্যেই এলাকাগুলোতে বাঁধ মেরামত প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছেন প্রায় হাজারখানেক সদস্য।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে তুমুল তান্ডব চালিয়ে সবকিছু লন্ডভন্ড করে দেওয়া ‘সুপার সাইক্লোন’ আম্পান পরবর্তী সময়ে উপকূলীয় এলাকাসমূহে দুর্গতদের ঘরদোর মেরামত থেকে শুরু করে বাঁধ মেরামত, মেডিক্যাল টিমের মাধ্যমে দূয়ারে দূয়ারে স্বাস্থ্যসেবা, পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট স্থাপন ও ত্রাণ বিতরণ সবকিছুই এক হাতে সামাল দিচ্ছে প্রশিক্ষিত, নির্ভীক ও দেশপ্রেমিক সেনারা।

বিশেষ করে ঈদকে ঘিরে যখন করোনার ভয়াবহতার মাঝেও নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার হিড়িক পড়েছে তখন অসহায় উপকূলবাসীর সহায় হয়েই নিজেদের
‘ঈদ আনন্দ’ উপেক্ষা করেই মাঠে সক্রিয় থাকবেন সেনা সদস্যরা। এ যেন সেবাতেই এক রকমের ঈদ আনন্দের ‘পূর্ণতা’!

উপকূলীয় এলাকায় ‘রাউন্ড দ্যা ক্লক’ কর্মযজ্ঞ
ক্ষেতের ফসল, মাছের ঘের, ঘরবাড়ি, হাঁস-মুরগি- সব হারিয়ে নি:স্ব উপকূলের এসব মানুষকে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকেই আবার সোজা হয়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখাতে সেনা সদস্যরা তাদের নিরন্তর সংগ্রামে সহযাত্রী করেছেন নিজেদের।

করোনা সঙ্কটের ধারাবাহিকতায় বুকে প্রত্যয় আর সাহস নিয়ে আবারও আম্পান দুর্যোগ মোকাবেলাতেও ত্যাগের সমুদ্রে ভাসিয়েছেন সৈনিক জীবনের তরী।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও সার্বক্ষণিক নির্দেশনায় মানবতা, মনুষ্যত্ব আর ঐক্যের মহান ঐতিহ্য ধারণ করেই উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ‘রাউন্ড দ্যা ক্লক’ এমন কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন সেনা সদস্যরা।

যশোর সদর উপজেলার ফুলবাড়িয়া এলাকার আব্দুর রহিম কিংবা জরিনা বেগমের পাশেও সৎ সাহসের পরিচয় দিয়ে মানবিক হৃদয় নিয়েই দাঁড়িয়েছেন যশোর ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যরা। ঝড়ে পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত ঘর কেবল মেরামতই নয়, আহারের জন্য খাবারও দিয়েছেন তারাই।

সেনা সদস্যদের এমন মানবিকতায় জরিনার চোখ জলে টইটুম্বর। আঁখি মুছতে মুছতে কালের আলোকে বলছিলেন এমন-‘প্রতিবন্ধী নাতিকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকতো হতো।

আল্লাহ রহমত করছে, বিপদের বন্ধু হিসেবে সেনাবাহিনী এগিয়ে এসেছে। আমার ঘর ঠিক করে দিয়েছে। এই উপকার কোনদিন ভুলবো না।’

মরিয়ম, জরিনা বা আব্দুর রহিমেরই ভাষ্যই কী কেবল এমন? বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। খুলনা, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, বাগেরহাট, নোয়াখালী, নীলফামারী, যশোরসহ গোটা উপকূলীয় অঞ্চলজুড়ে মহাঘূর্ণিঝড় আম্পানের ভয়ঙ্কর থাবায় পর্যদুস্ত হয়ে এখানকার বেশিরভাগ মানুষই গৃহহীন হয়েছেন।

কাঁচা-পাকা লক্ষাধিকের বেশি ঘরবাড়ি হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত। আবার কোথাও তলিয়ে গেছে বাঁধ, ফসলের ক্ষেত, মাছের ঘের এমনকি বিস্তীর্ণ এলাকা। শক্তিশালী আম্পান শক্তি হারিয়ে বিদায় নিয়েছে। তবে এক রাতের ঝড় কেড়ে নিয়েছে, ডুবিয়ে দিয়েছে কোটি মানুষের স্বপ্ন।

সেনাপ্রধানের নির্দেশে অন্য রকম এক লড়াই
গোটা উপকূলীয় এলাকাসমূহে এখন কেবলই আম্পানের ভয়ঙ্কর ক্ষতচিহ্ন। বিষাদে ভরেছে উপকূলের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মন। সবার মাঝেই যেন ভয়, হতাশা আর হারানোর যন্ত্রণা।

কিন্তু সেই ক্ষত কাটিয়ে তুলতে নব উদ্যমে উপকূলের ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের জাগিয়ে তুলতে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের নির্দেশে অন্য রকম এক লড়াইয়ে নিজেদের সমর্পণ করেছেন সেনা সদস্যরা।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তেজোদীপ্ত, নির্ভীক ও লড়াকু সৈনিকরা কাজ করছেন দিন-রাত একাকার করেই। সংশ্লিষ্ট সূত্র কালের আলোকে জানিয়েছে, সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের সার্বক্ষণিক নির্দেশনায় মানবতা, মনুষ্যত্ব আর ঐক্যের মহান ঐতিহ্য ধারণ করেই পরিশ্রমী ও বুদ্ধিদীপ্ত সেনারা উপকূলীয় এলাকাগুলোতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছেন।

দক্ষতার সঙ্গেই অসহায় মানুষের ঘরবাড়ির পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও মেরামত করে দিচ্ছেন, মানবিকবোধে জাগ্রত হয়েই।

দুর্গত এলাকায় ইতোমধ্যেই সেনাবাহিনী প্রায় ১১ হাজার পরিবারকে খাবার সহায়তা যেমনি দিয়েছে তেমনি ভবিষ্যতের সহায়তার জন্যও প্রস্তুত করা হয়েছে ৩৫ হাজার ৮১৪ প্যাকেট খাবার।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা
অতীতেও বন্যা, সাইক্লোন, ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে গৌরবোজ্জ্বল অবদান রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৎ ও গর্বিত সদস্যদের।

দেশের সীমানা ছাপিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও নিজেদের কর্মদক্ষতার স্বাক্ষর রেখে স্থাপন করেছেন অনন্য দৃষ্টান্ত। নিজেদের একাগ্রতা, কর্মদক্ষতা ও নানাবিধ জনসেবামূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে অর্জন করেছেন সার্বজনীন আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা।

করোনাকালে উপকূলের ভাগ্যবিড়ম্বিত মানুষের কাছে আক্ষরিক অর্থেই তারা হয়ে উঠেছেন ‘বিপদের বন্ধু’।

আবারও সামনে থেকে নেতৃত্বে সেনারা
বিষাদে ভরপুর উপকূলের বাসিন্দাদের আড়মোড়া ভেঙে পুরোপুরি চাঙ্গা করতেই চলমান এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রশিক্ষিত ও সৃশঙ্খল সেনা সদস্যরা।

পাশাপাশি অসীম ধৈর্য্য ও শতভাগ পেশাদারিত্বের মাধ্যমে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতেও মানুষকে উৎসাহিত করছেন।

নিজেদের রেশনের একাংশের টাকায় খাবার ও আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় দিচ্ছেন চিকিৎসা সেবাও। প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে। কোথায় কী সমস্যা হচ্ছে সবকিছুই খোঁজ খবর রাখছেন সমান তালেই।

পুরো কর্মতৎপরতা মনিটরিং করে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের প্রয়োজনীয় ‘গাইড লাইন’ দিচ্ছেন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

এক নজরে তৎপরতার সারসংক্ষেপ
আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, আম্পান দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য সেনাবাহিনীর ১৪৬টি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দল স্বল্প সময়ে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

দুর্যোগ উপদ্রুত এলাকাগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের জন্য প্রস্তুত রয়েছে এ বাহিনীর ৭৬টি মেডিক্যাল টিমও।

সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সাতক্ষীরার শ্যামনগর, খুলনার কয়রা ও বাগেরহাটের শরণখোলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতে কার্যক্রম শুরু করেছে সেনাবাহিনী। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ১০ হাজার ৭৫০ টি জিও ব্যাগ সংগ্রহ করা হয়েছে।

স্থানীয় কয়রায় ভেঙে যাওয়া হরিণখোলা, উত্তরবেদকাশি গাজীপাড়া ও রত্মাঘেরি এলাকার বাঁধ মেরামতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাটালিয়নসহ দুটি ব্যাটালিয়নের ৩৫০ জন সদস্য।

বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ করতে খুলনার কয়রা, সাতক্ষীরা ও পটুয়াখালীতে একটি করে পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট বসানো হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্যোগ উপদ্রুত এলাকাসমূহে বিশুদ্ধ খাবার পানি প্রদানের জন্য ১৩টি ওয়াটার পিউরিফিকেশন প্ল্যান্ট ও ১৪টি ওয়াটার বাউজার প্রস্তুত সেনারা প্রস্তুত করেছেন।

একই সূত্র মতে, বগুড়া, পাবনা, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, মেহেরপুর ও জয়পুরহাটে ৮ টি, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, চাঁদপুর, নোয়াখালীসহ উপকূলীয় এলাকাসমূহে ২০ টি মেডিকেল টিম বিনামূল্যে মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন।

প্রায় এক হাজার ৩’শ মানুষকে দুর্যোগ উপদ্রুত এলাকায় দেওয়া হয়েছে চিকিৎসা সহায়তা। এসব এলাকায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদানে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে আরও ৭৩টি মেডিক্যাল টিম।

কালের আলো/এসআরএস/এমএএএমকে

৩১ অক্টোবর ১১ দলের লংমার্চ, বাধা এলে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
৩১ অক্টোবর ১১ দলের লংমার্চ, বাধা এলে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা

আগামী ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চে কোনো ধরনের বাধা বা অপতৎপরতা চালানো হলে তা প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই ও শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের বিচার, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট নিরসন এবং দুর্নীতি-চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করবে জোটটি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এসব কথা জানান। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

মামুনুল হক জানান, লংমার্চের তৃতীয় ধাপের কর্মসূচি আগামী ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। এরপর বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ শেষে কর্মসূচি কুষ্টিয়ায় গিয়ে শেষ হবে।

তিনি বলেন, লংমার্চ সফল করতে প্রশাসন সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। তবে কোনো পক্ষ অপতৎপরতা চালালে যেকোনো মূল্যে তা প্রতিহত করা হবে।

গোপালগঞ্জের ওপর দিয়ে লংমার্চ যাওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মামুনুল হক বলেন, তাঁরা সেখানে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন না। কর্মসূচিতে ইসলামপন্থি ও দেশপ্রেমিক বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেবেন বলে আশা করছেন তাঁরা। কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে এর দায় সরকার ও প্রশাসনকে নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারের সমালোচনা করে খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, বিরোধী দল সরকারকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করলেও সরকারের আচরণে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মামুনুল হক। তাঁর অভিযোগ, ইসি সচিব পর্যায়ে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ এবং ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তাঁদের প্রশ্ন রয়েছে। ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এ ছাড়া পুলিশের মহাপরিদর্শকের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা ক্রসফায়ার নিয়ে সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক রাষ্ট্রীয় সফর নিয়েও প্রশ্ন তুলে সফরে অংশগ্রহণকারীদের নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা করেন।

বৈঠকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

চাকরি খোঁজার গণ্ডি পেরিয়ে উদ্যোক্তা : ৪০ হাজার তরুণের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার নতুন দরজা খুললেন মন্ত্রী

মো.শামসুল আলম খান, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২৭ অপরাহ্ণ
চাকরি খোঁজার গণ্ডি পেরিয়ে উদ্যোক্তা : ৪০ হাজার তরুণের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার নতুন দরজা খুললেন মন্ত্রী

একটি চাকরি বদলে দিতে পারে একটি পরিবারের ভাগ্য। আর একজন সফল উদ্যোক্তা বদলে দিতে পারেন একটি এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র। এই দুই সম্ভাবনাকে এক সুতোয় গেঁথে বিরামপুরে আয়োজিত হলো ‘জব ফেয়ার দিনাজপুর ২০২৬’। তবে এই আয়োজনের গুরুত্ব কেবল কতজন চাকরি পেলেন, তার হিসাবেই সীমাবদ্ধ নয়। এর কেন্দ্রে রয়েছে আরও বড় একটি প্রশ্ন—উত্তরাঞ্চলের তরুণেরা কি শুধু চাকরি খুঁজবেন, নাকি নিজেরাই হয়ে উঠবেন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির শক্তি?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই যেন নতুনভাবে গুরুত্ব পেয়েছে দিনাজপুরের বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে মঙ্গলবারের (২৭ অক্টোবর) চাকরি মেলা। নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপির বক্তব্যে আরও স্পষ্ট। যেখানে সরকারের কর্মসংস্থান ভাবনায় তরুণদের শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে দেখার গণ্ডি পেরিয়ে তাঁদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষাও রয়েছে।

  • বিরামপুরে ‘জব ফেয়ার দিনাজপুর ২০২৬’-এ শতাধিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ
  • তাৎক্ষণিক চাকরি শতাধিক, জমা পড়েছে লক্ষাধিক সিভি
  • তরুণদের আত্মনির্ভরশীল করে পিছিয়ে থাকা জনপদের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলার প্রত্যয় মন্ত্রীর

মন্ত্রী বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার যুবসমাজকে কেবল চাকুরির সন্ধানে সীমাবদ্ধ না রেখে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও আধুনিক উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতেও বদ্ধপরিকর।’ তাঁর এই বক্তব্যের মধ্যেই চাকরি মেলার তাৎপর্য খুঁজে পাওয়া যায়। কারণ, চাকরির সুযোগ তৈরি করা জরুরি। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য এমন একটি প্রজন্মও প্রয়োজন, যারা নিজের যোগ্যতায় কাজ খুঁজে নেওয়ার পাশাপাশি অন্যের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করতে পারবে। চাকরির বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সক্ষমতা—দুই ক্ষেত্রেই তরুণদের এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিয়েছে অনন্য এই আয়োজন।

এক মাঠে ৪০ হাজারের বেশি চাকরিপ্রত্যাশী, স্বপ্নের পরিধি আরও বড়
বিরামপুরের মাঠে এদিন শুধু জীবনবৃত্তান্ত জমা পড়েনি। যেন জমা পড়েছে হাজারো তরুণের কর্মজীবন শুরুর প্রত্যাশা। কেউ এসেছিলেন একটি চাকরির আশায়। কেউ আবার নিজের যোগ্যতা তুলে ধরতে, কেউবা ভবিষ্যতের সম্ভাবনা খুঁজতে। দেশি-বিদেশি শতাধিক খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানের স্টল ঘিরে চাকরিপ্রার্থীদের উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করেছে, সুযোগের দরজা খুলে দিলে তরুণেরা সেখানে পৌঁছাতে আগ্রহী।

আয়োজকদের তথ্য বলছে, মেলায় ২৫ হাজার নিবন্ধিত প্রার্থীসহ ৪০ হাজারের বেশি চাকরিপ্রত্যাশী অংশগ্রহণ করেন। তাৎক্ষণিকভাবে শতাধিক চাকরিপ্রত্যাশী চাকরি লাভ করেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জমা পড়ে লক্ষাধিক জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি। যাচাই-বাছাই শেষে এসব সিভি থেকে আনুষ্ঠানিক নিয়োগপ্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এখানে জব ফেয়ারকে সাধারণ নিয়োগ আয়োজনের চেয়ে বড় করে দেখার সুযোগ রয়েছে। একটি চাকরি একজনকে স্বাবলম্বী করতে পারে; আর একটি সফল উদ্যোগ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বহু মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারে। এই দুই পথকে সামনে রেখেই তরুণদের ভবিষ্যৎ নির্মাণের কথা বলেছেন মন্ত্রী।

‘মানুষকে ভুলিয়ে কথা বলে ভোট নেয়ার জন্য বিএনপি রাজনীতি করে না’
কর্মসংস্থান ও সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের প্রশ্নকে রাজনৈতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে যুক্ত করে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘মানুষকে ভুলিয়ে কথা বলে ভোট নেয়ার জন্য বিএনপি রাজনীতি করে না। বিএনপি সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য এবং শ্রেণি ও ধর্ম নির্বিশেষে প্রত্যেকটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য রাজনীতি করে। এটি যেমন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মূল নীতি, তেমনি এটি বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক দিকদর্শন। সেই লক্ষ্যেই এই চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়েছে।’ সাধারণত কর্মসংস্থান মানুষের আয়ের সুযোগ তৈরি করে, পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ায় এবং অর্থনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের পথ খুলে দেয়। এখানে মন্ত্রীর বক্তব্যেও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নকে রাজনীতির অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

চাকরি খোঁজার মানসিকতা থেকে চাকরি দেওয়ার সক্ষমতা
একজন তরুণ চাকরি পেলেন—এটি সাফল্য। কিন্তু সেই তরুণ ভবিষ্যতে আরও দশজনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারলেন—সেই সাফল্যের সামাজিক প্রভাব আরও বড়। উদ্যোক্তা তৈরির প্রসঙ্গে মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এই বিষয়ে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘সরকারের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো যুবসমাজকে জাগিয়ে তোলা এবং তাদের মেধা ও প্রতিভার পূর্ণ বিকাশ ঘটিয়ে অবাধ সুযোগ সৃষ্টি করা, যাতে করে তারা সফল উদ্যোক্তা হতে পারে।’

শুধু চাকরি খোঁজার মানসিকতার বাইরে এসে তরুণদের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘যুবসমাজকে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার লক্ষ্যে চিন্তা ও বাস্তবমুখী কাজ করতে হবে।’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সরকারের মূল লক্ষ্য হলো তরুণদের মনোজগতে উদ্যোক্তা হওয়ার শক্তিশালী আকাঙ্ক্ষা ও অনুপ্রেরণা তৈরি করা। এই জব ফেয়ার তরুণদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা জোগাবে এবং তাদের আত্মনির্ভরশীল ও স্বাবলম্বী হওয়ার বাস্তব পথ দেখাবে।’

যে জনপদকে জাগিয়ে তুলতে হবে তারুণ্যের শক্তিতে
বিরামপুরের প্রসঙ্গে মন্ত্রী যে ভৌগোলিক বাস্তবতার কথা তুলে ধরেছেন, তা এ চাকরি মেলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। উন্নয়নের আলোচনা অনেক সময় বড় শহর, শিল্পকেন্দ্র কিংবা সহজ যোগাযোগের এলাকাকে ঘিরে আবর্তিত হয়। কিন্তু তুলনামূলকভাবে দূরবর্তী জনপদের তরুণদের মেধা ও শ্রমও দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সমান গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। মন্ত্রী বলেন, ‘এলাকাটি একটি অবহেলিত অঞ্চল। কারণ এটি জয়পুরহাট, বগুড়া, গাইবান্ধা, রংপুর বা দিনাজপুর কোনোটিরই একদম কাছে নয়। দিনাজপুর জেলা সদর থেকেও এর দূরত্ব ১১০ কিলোমিটার। এই অবস্থায় এলাকাটিকে জাগিয়ে তুলতে হলে তরুণ-তরুণীদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটানো সবচেয়ে জরুরি।’

এখানে তাঁর বক্তব্যে একটি বাস্তব উন্নয়ন-চ্যালেঞ্জ উঠে এসেছে। ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে কোনো অঞ্চলের তরুণেরা যদি বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রশিক্ষণ কিংবা নিয়োগের সুযোগ কম পান, তাহলে তাঁদের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কর্মজীবনের পথ কঠিন হতে পারে। সেই ব্যবধান কমাতে স্থানীয় পর্যায়ে বড় পরিসরের চাকরি মেলার আয়োজন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তরুণদের সামনে তিনটি দৃষ্টান্ত
উদ্যোক্তা হওয়ার অর্থ শুধু আর্থিক সাফল্য অর্জন নয়—সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিষয়টিও সামনে এনেছেন মন্ত্রী। তরুণ প্রজন্মকে দেশের সফল উদ্যোক্তা ও সমাজসেবীদের আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, ‘দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা, জহুরুল ইসলাম ও স্যামসন এইচ চৌধুরীর মতো সফল উদ্যোক্তা ও মানবিক গুণসম্পন্ন আলোকিত মানুষ হতে হবে।’ এমন মানসিকতা তৈরি হলে উদ্যোক্তা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা শুধু নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; তা অন্য মানুষের জীবনে সুযোগ তৈরির পথও হয়ে উঠবে। একটি সফল উদ্যোগ তখনই বৃহত্তর অর্থে মূল্যবান হয়ে ওঠে, যখন তার সুফল উদ্যোক্তার পাশাপাশি কর্মী, পরিবার ও স্থানীয় সমাজের কাছেও পৌঁছায়।

মন্ত্রী বলেন, ‘তরুণ সমাজকে উদ্বুদ্ধ করতেই এ চাকরি মেলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তাদের মধ্যে যে জাগরণ তৈরি হবে, সেটিকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে কাজ করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নতুন ও আগামী প্রজন্মের জন্য কেবল দিনাজপুর ছয়টি আসন নয়, বরং পুরো দিনাজপুর জেলাকে সামর্থ্যবান হিসেবে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করছেন।’

বিরামপুর থেকে যে বার্তা ছড়িয়ে পড়তে পারে
একটি মাঠে ৪০ হাজারের বেশি চাকরিপ্রত্যাশীর সমাগম একদিকে কর্মসংস্থানের চাহিদার ব্যাপকতা তুলে ধরে, অন্যদিকে সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে বড় পরিসরের উদ্যোগের গুরুত্বও সামনে আনে। তবে এই সমাবেশের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য সংখ্যার বাইরেও—তরুণদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে। মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বক্তব্যে যে লক্ষ্য উঠে এসেছে, তা হলো তরুণদের চাকরির সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের মেধা, দক্ষতা ও উদ্যোগী মনোভাবকে কাজে লাগানো। এই লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে একজন চাকরিপ্রার্থী কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন, একজন উদ্যোক্তা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেন, আর একটি পিছিয়ে থাকা জনপদ ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক সক্ষমতার নতুন পরিচয় পেতে পারে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হক এবং দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল। আরও উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা, বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমএএএমকে

গ্রিড বিপর্যয় কাটল, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিকের পথে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৫ অপরাহ্ণ
গ্রিড বিপর্যয় কাটল, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিকের পথে

আকস্মিক বিপর্যয়ের প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা পর সচল হয়েছে জাতীয় গ্রিড। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটে বিপর্যয়ের পর দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে গ্রিড পুনরুদ্ধারের কাজ শেষ হয়। বর্তমানে গ্রিড লাইন ও উপকেন্দ্রগুলো চালু করা হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পর্যায়ক্রমে সচল হওয়ায় উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে জানিয়েছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি।

এর আগে দুপুরে গ্রিড বিপর্যয়ের কারণে সচিবালয়সহ রাজধানীর মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে ঢাকার পূর্বাঞ্চল ও চট্টগ্রামের একাংশেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়।

বিদ্যুৎ না থাকায় ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলশান, রামপুরা, উলন ও মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে অস্বস্তি তৈরি হয়। দুপুর ১টার দিকে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সরকারি দপ্তরগুলোর দাপ্তরিক কার্যক্রমেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে।

গ্রিড বিপর্যয়ের সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রকৌশলীরা কাজ শুরু করেন। জাতীয় গ্রিডের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র এনএলডিসির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের মাধ্যমে দুপুর আড়াইটার মধ্যে গ্রিড সচল করা হয়।

কর্তৃপক্ষ জানায়, বিপর্যয়ের সময় দেশের উত্তরাঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে সাময়িক লোডশেডিংয়ের পরিস্থিতিও দ্রুত কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনাকাঙ্ক্ষিত এই বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে সৃষ্ট সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি