খুঁজুন
                               
, ,
           

উপেক্ষা ‘ঈদ আনন্দ’; আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলবাসীর পাশেই থাকছে সেনাবাহিনী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২০, ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ
উপেক্ষা ‘ঈদ আনন্দ’; আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলবাসীর পাশেই থাকছে সেনাবাহিনী

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা মরিয়ম বেগমের দুনিয়ায় আপন বলতে নেই কেউ। অনেক আগেই হারিয়েছেন স্বামীকে। ছেলেরা থেকেও নেই যেন! এখানকার সবার মতো তাকেও প্রকৃতির সঙ্গে সংগ্রাম করেই টিকে থাকতে হচ্ছে বছরের পর বছর।

নিস্তরঙ্গ জীবনে নিজের ভিটেমাটির শেষ সম্বল ঘরটিতে থাকেন একাই। এরই মধ্যে ‘অতি প্রবল’ ঘূর্ণিঝড় আম্পান উড়িয়ে নিয়েছে তাঁর মাথাগোঁজার ঠাঁই। জীবনের গোধূলী বেলায় এক রাতের তান্ডবেই ‘গৃহহীন’ হতে হয়েছে মরিয়মকে।

চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরটি ঠিকঠাক করে দেওয়ার জন্য অনেকের দূয়ারেই ধর্ণা দিয়েছেন। হয়নি সমস্যার সমাধান। হতভাগ্য বয়োবৃদ্ধার কঠিন এমন বাস্তবতার বিষয়টি সেনা সদস্যদের কর্ণকুহরে পৌঁছেছে।

‘দশে মিলে করি কাজ’ নীতি নিয়ে তারা নিজেদের উদ্যোগেই বাঁশ ও নতুন টিন কিনে হাতে হাতে নির্মাণ করে দিয়েছেন ঘর।

চিত্রটি নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার কেতকিবাড়ী গ্রামের। মাত্র দুই দিনেই নিজের বসতঘরটি ফিরে পেয়ে আপ্লুত কন্ঠস্বরে মরিয়ম বেগম কালের আলোকে বলেন, ‘বিপদে কেউ পাশে থাকে না, এই কথা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

সেনাবাহিনীর সৈনিকরা আমার ঘর বানিয়ে দিয়েছে। আমাকে বাঁচার পথ দেখিয়েছে। আল্লাহই ওদের সহায় হবেন।’

প্রবল জলোচ্ছ্বাসে বাঁধ ভেঙে বাগেরহাটের শরণখোলা, সাতক্ষীরার শ্যামনগর, খুলনার কয়রাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ অনেক এলাকা তলিয়ে গেছে।

এসব এলাকায় ভেঙে যাওয়া বাঁধ মেরামতের জন্য পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছেন সেনা সদস্যরা। ইতোমধ্যেই এলাকাগুলোতে বাঁধ মেরামত প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছেন প্রায় হাজারখানেক সদস্য।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে তুমুল তান্ডব চালিয়ে সবকিছু লন্ডভন্ড করে দেওয়া ‘সুপার সাইক্লোন’ আম্পান পরবর্তী সময়ে উপকূলীয় এলাকাসমূহে দুর্গতদের ঘরদোর মেরামত থেকে শুরু করে বাঁধ মেরামত, মেডিক্যাল টিমের মাধ্যমে দূয়ারে দূয়ারে স্বাস্থ্যসেবা, পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট স্থাপন ও ত্রাণ বিতরণ সবকিছুই এক হাতে সামাল দিচ্ছে প্রশিক্ষিত, নির্ভীক ও দেশপ্রেমিক সেনারা।

বিশেষ করে ঈদকে ঘিরে যখন করোনার ভয়াবহতার মাঝেও নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার হিড়িক পড়েছে তখন অসহায় উপকূলবাসীর সহায় হয়েই নিজেদের
‘ঈদ আনন্দ’ উপেক্ষা করেই মাঠে সক্রিয় থাকবেন সেনা সদস্যরা। এ যেন সেবাতেই এক রকমের ঈদ আনন্দের ‘পূর্ণতা’!

উপকূলীয় এলাকায় ‘রাউন্ড দ্যা ক্লক’ কর্মযজ্ঞ
ক্ষেতের ফসল, মাছের ঘের, ঘরবাড়ি, হাঁস-মুরগি- সব হারিয়ে নি:স্ব উপকূলের এসব মানুষকে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকেই আবার সোজা হয়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখাতে সেনা সদস্যরা তাদের নিরন্তর সংগ্রামে সহযাত্রী করেছেন নিজেদের।

করোনা সঙ্কটের ধারাবাহিকতায় বুকে প্রত্যয় আর সাহস নিয়ে আবারও আম্পান দুর্যোগ মোকাবেলাতেও ত্যাগের সমুদ্রে ভাসিয়েছেন সৈনিক জীবনের তরী।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও সার্বক্ষণিক নির্দেশনায় মানবতা, মনুষ্যত্ব আর ঐক্যের মহান ঐতিহ্য ধারণ করেই উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ‘রাউন্ড দ্যা ক্লক’ এমন কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন সেনা সদস্যরা।

যশোর সদর উপজেলার ফুলবাড়িয়া এলাকার আব্দুর রহিম কিংবা জরিনা বেগমের পাশেও সৎ সাহসের পরিচয় দিয়ে মানবিক হৃদয় নিয়েই দাঁড়িয়েছেন যশোর ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যরা। ঝড়ে পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত ঘর কেবল মেরামতই নয়, আহারের জন্য খাবারও দিয়েছেন তারাই।

সেনা সদস্যদের এমন মানবিকতায় জরিনার চোখ জলে টইটুম্বর। আঁখি মুছতে মুছতে কালের আলোকে বলছিলেন এমন-‘প্রতিবন্ধী নাতিকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকতো হতো।

আল্লাহ রহমত করছে, বিপদের বন্ধু হিসেবে সেনাবাহিনী এগিয়ে এসেছে। আমার ঘর ঠিক করে দিয়েছে। এই উপকার কোনদিন ভুলবো না।’

মরিয়ম, জরিনা বা আব্দুর রহিমেরই ভাষ্যই কী কেবল এমন? বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। খুলনা, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, বাগেরহাট, নোয়াখালী, নীলফামারী, যশোরসহ গোটা উপকূলীয় অঞ্চলজুড়ে মহাঘূর্ণিঝড় আম্পানের ভয়ঙ্কর থাবায় পর্যদুস্ত হয়ে এখানকার বেশিরভাগ মানুষই গৃহহীন হয়েছেন।

কাঁচা-পাকা লক্ষাধিকের বেশি ঘরবাড়ি হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত। আবার কোথাও তলিয়ে গেছে বাঁধ, ফসলের ক্ষেত, মাছের ঘের এমনকি বিস্তীর্ণ এলাকা। শক্তিশালী আম্পান শক্তি হারিয়ে বিদায় নিয়েছে। তবে এক রাতের ঝড় কেড়ে নিয়েছে, ডুবিয়ে দিয়েছে কোটি মানুষের স্বপ্ন।

সেনাপ্রধানের নির্দেশে অন্য রকম এক লড়াই
গোটা উপকূলীয় এলাকাসমূহে এখন কেবলই আম্পানের ভয়ঙ্কর ক্ষতচিহ্ন। বিষাদে ভরেছে উপকূলের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মন। সবার মাঝেই যেন ভয়, হতাশা আর হারানোর যন্ত্রণা।

কিন্তু সেই ক্ষত কাটিয়ে তুলতে নব উদ্যমে উপকূলের ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের জাগিয়ে তুলতে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের নির্দেশে অন্য রকম এক লড়াইয়ে নিজেদের সমর্পণ করেছেন সেনা সদস্যরা।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তেজোদীপ্ত, নির্ভীক ও লড়াকু সৈনিকরা কাজ করছেন দিন-রাত একাকার করেই। সংশ্লিষ্ট সূত্র কালের আলোকে জানিয়েছে, সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের সার্বক্ষণিক নির্দেশনায় মানবতা, মনুষ্যত্ব আর ঐক্যের মহান ঐতিহ্য ধারণ করেই পরিশ্রমী ও বুদ্ধিদীপ্ত সেনারা উপকূলীয় এলাকাগুলোতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছেন।

দক্ষতার সঙ্গেই অসহায় মানুষের ঘরবাড়ির পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও মেরামত করে দিচ্ছেন, মানবিকবোধে জাগ্রত হয়েই।

দুর্গত এলাকায় ইতোমধ্যেই সেনাবাহিনী প্রায় ১১ হাজার পরিবারকে খাবার সহায়তা যেমনি দিয়েছে তেমনি ভবিষ্যতের সহায়তার জন্যও প্রস্তুত করা হয়েছে ৩৫ হাজার ৮১৪ প্যাকেট খাবার।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা
অতীতেও বন্যা, সাইক্লোন, ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে গৌরবোজ্জ্বল অবদান রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৎ ও গর্বিত সদস্যদের।

দেশের সীমানা ছাপিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও নিজেদের কর্মদক্ষতার স্বাক্ষর রেখে স্থাপন করেছেন অনন্য দৃষ্টান্ত। নিজেদের একাগ্রতা, কর্মদক্ষতা ও নানাবিধ জনসেবামূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে অর্জন করেছেন সার্বজনীন আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা।

করোনাকালে উপকূলের ভাগ্যবিড়ম্বিত মানুষের কাছে আক্ষরিক অর্থেই তারা হয়ে উঠেছেন ‘বিপদের বন্ধু’।

আবারও সামনে থেকে নেতৃত্বে সেনারা
বিষাদে ভরপুর উপকূলের বাসিন্দাদের আড়মোড়া ভেঙে পুরোপুরি চাঙ্গা করতেই চলমান এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রশিক্ষিত ও সৃশঙ্খল সেনা সদস্যরা।

পাশাপাশি অসীম ধৈর্য্য ও শতভাগ পেশাদারিত্বের মাধ্যমে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতেও মানুষকে উৎসাহিত করছেন।

নিজেদের রেশনের একাংশের টাকায় খাবার ও আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় দিচ্ছেন চিকিৎসা সেবাও। প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে। কোথায় কী সমস্যা হচ্ছে সবকিছুই খোঁজ খবর রাখছেন সমান তালেই।

পুরো কর্মতৎপরতা মনিটরিং করে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের প্রয়োজনীয় ‘গাইড লাইন’ দিচ্ছেন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

এক নজরে তৎপরতার সারসংক্ষেপ
আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, আম্পান দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য সেনাবাহিনীর ১৪৬টি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দল স্বল্প সময়ে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

দুর্যোগ উপদ্রুত এলাকাগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের জন্য প্রস্তুত রয়েছে এ বাহিনীর ৭৬টি মেডিক্যাল টিমও।

সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সাতক্ষীরার শ্যামনগর, খুলনার কয়রা ও বাগেরহাটের শরণখোলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতে কার্যক্রম শুরু করেছে সেনাবাহিনী। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ১০ হাজার ৭৫০ টি জিও ব্যাগ সংগ্রহ করা হয়েছে।

স্থানীয় কয়রায় ভেঙে যাওয়া হরিণখোলা, উত্তরবেদকাশি গাজীপাড়া ও রত্মাঘেরি এলাকার বাঁধ মেরামতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাটালিয়নসহ দুটি ব্যাটালিয়নের ৩৫০ জন সদস্য।

বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ করতে খুলনার কয়রা, সাতক্ষীরা ও পটুয়াখালীতে একটি করে পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট বসানো হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্যোগ উপদ্রুত এলাকাসমূহে বিশুদ্ধ খাবার পানি প্রদানের জন্য ১৩টি ওয়াটার পিউরিফিকেশন প্ল্যান্ট ও ১৪টি ওয়াটার বাউজার প্রস্তুত সেনারা প্রস্তুত করেছেন।

একই সূত্র মতে, বগুড়া, পাবনা, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, মেহেরপুর ও জয়পুরহাটে ৮ টি, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, চাঁদপুর, নোয়াখালীসহ উপকূলীয় এলাকাসমূহে ২০ টি মেডিকেল টিম বিনামূল্যে মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন।

প্রায় এক হাজার ৩’শ মানুষকে দুর্যোগ উপদ্রুত এলাকায় দেওয়া হয়েছে চিকিৎসা সহায়তা। এসব এলাকায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদানে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে আরও ৭৩টি মেডিক্যাল টিম।

কালের আলো/এসআরএস/এমএএএমকে

‘ভলিউম’ থেকে ‘ভ্যালু’তে যেতে চায় পোশাক খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
‘ভলিউম’ থেকে ‘ভ্যালু’তে যেতে চায় পোশাক খাত

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি এখনো মূলত মৌলিক বা ‘বেসিক’ পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। টি-শার্ট, প্যান্ট, সোয়েটার, ইননারওয়্যার ও শিশুদের পোশাকের মতো পণ্যের রপ্তানি বেশি হলেও তুলনামূলক উচ্চমূল্যের ও বৈচিত্র্যময় পোশাকের বাজারে বাংলাদেশের অংশ এখনো সীমিত। ফলে বিশ্ববাজারের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পণ্যে বৈচিত্র্য আনা পোশাক খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

ক্যালেন্ডার বছর ২০২৫-এর পোশাক রপ্তানির তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ প্রায় ৩৮.৮২৫ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে। একই সময়ে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টারের (আইটিসি) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪২৬ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েস (বিএভি) ইপিবি ও আইটিসির ট্রেড ম্যাপের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই তুলনা করেছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির ৭৬.৯৪ শতাংশই বেসিক ক্যাটাগরির পণ্য। অন্যদিকে বিশ্ব পোশাক বাণিজ্যে এসব পণ্যের অংশ ৬১.৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ বিশ্ববাজারের তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি ঝুড়ি বেসিক পণ্যের ওপর প্রায় ১৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি নির্ভরশীল।

প্যান্ট ও টি-শার্টে বেশি নির্ভরতা

বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে সবচেয়ে বড় অংশ বটমওয়্যারের। মোট রপ্তানির ৩৩.৬৮ শতাংশ আসে প্যান্টজাতীয় পোশাক থেকে। বিশ্ববাজারে এ ধরনের পণ্যের অংশ ২১.৬৮ শতাংশ। একইভাবে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির ১৮.৬৪ শতাংশ আসে টি-শার্ট থেকে, যেখানে বিশ্ববাজারে এ হার ১০.০৯ শতাংশ।

তবে ছোট অ্যাক্সেসরিজের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান বিপরীত। বিশ্ব পোশাক বাণিজ্যে এ ধরনের পণ্যের অংশ ৭.৫২ শতাংশ হলেও বাংলাদেশের রপ্তানি ঝুড়িতে তা মাত্র ০.৩৫ শতাংশ।

বেসিক ও উচ্চমূল্যের পণ্যের মাঝামাঝি ‘সেমি-বেসিক’ ক্যাটাগরির শার্ট ও ব্লাউজ বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে ১০.৩৩ শতাংশ অবদান রাখে। বিশ্ববাজারে এ হার ৭.৩৮ শতাংশ।

উচ্চমূল্যের পোশাকে বড় ব্যবধান

আউটারওয়্যার, ড্রেস, টেকনিক্যাল ওয়্যার, স্পোর্টসওয়্যার ও স্যুট—এই পাঁচ ধরনের পণ্যকে উন্নত বা ‘অ্যাডভান্সড’ ক্যাটাগরিতে ধরা হয়েছে। এসব পণ্যের সম্মিলিত অংশ বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে মাত্র ৯.৩৫ শতাংশ। অথচ বিশ্ব পোশাক বাণিজ্যে এ ধরনের পণ্যের অংশ ৩০.৪৬ শতাংশ।

সবচেয়ে বড় ব্যবধান আউটারওয়্যারে। বিশ্ববাজারে মোট পোশাক রপ্তানির ১৩.৪৫ শতাংশ আসে এ ক্যাটাগরি থেকে। বাংলাদেশে এ হার মাত্র ৩.৮৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি দীর্ঘদিন ধরেই বেসিক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। টি-শার্ট, প্যান্ট ও সোয়েটারের মতো পণ্যে দেশের উৎপাদন সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা বেশি হলেও বিশ্ববাজারের চাহিদা দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে।

তার মতে, শুধু একই ধরনের পণ্যের পরিমাণ বাড়িয়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন হবে। আউটারওয়্যার, স্পোর্টসওয়্যার, টেকনিক্যাল ওয়্যার, ড্রেস ও অন্যান্য উচ্চমূল্যের পোশাকে বাংলাদেশের বড় সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু বেশি পরিমাণ পোশাক রপ্তানি নয়, বরং বেশি মূল্য সংযোজন করা। এজন্য পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি সিনথেটিক ও নন-কটন পোশাক, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল, স্পোর্টসওয়্যারসহ বিশেষায়িত পণ্যের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

মহিউদ্দিন রুবেলের ভাষায়, পোশাক খাতের কৌশল এখন ‘ভলিউম’ থেকে ‘ভ্যালু’র দিকে নেওয়া প্রয়োজন। উচ্চমূল্যের পোশাকের বাজারে অবস্থান শক্ত করতে পারলে একই পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করেও বেশি রপ্তানি আয় করা সম্ভব হতে পারে।

এদিকে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি ও বিভিন্ন এইচএস-৬ পণ্যের হিসাবের মধ্যে ৩.৩৮ শতাংশ বা প্রায় ১.৩১৩ বিলিয়ন ডলারের একটি অংশের পূর্ণ মিল পাওয়া যায়নি। বিএভির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এটি ইপিবির দুই ও ছয় ডিজিটের হিসাবের মধ্যকার একটি ব্যবধান। বিশ্ববাজারের ক্ষেত্রে এ ব্যবধান প্রায় ০.৫৯ শতাংশ, যা মূলত রাউন্ডিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।

কালের আলো/এমএসআইপি 

সরকারি বাসা বরাদ্দে ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া বন্ধ, আবেদন অনলাইনে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ণ
সরকারি বাসা বরাদ্দে ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া বন্ধ, আবেদন অনলাইনে

অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের আওতাধীন বাসা বরাদ্দের পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে নেওয়া হচ্ছে। ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বাসা বরাদ্দে অনিয়ম ও দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর অনলাইন পদ্ধতিতে সরকারি বাসার জন্য আবেদন করার কথা জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে পরিদপ্তরের আওতাধীন সরকারি বাসাগুলো পর্যায়ক্রমে অনলাইন ব্যবস্থায় বরাদ্দ দেওয়া হবে।

আবাসন সংকটে ভোগান্তি

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকায় কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর তুলনায় সরকারি বাসার সংখ্যা খুবই কম। বর্তমানে রাজধানীতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ২ লাখ ৫৩ হাজারের কিছু বেশি। বিপরীতে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের সব শ্রেণি মিলিয়ে বাসা বরাদ্দের সক্ষমতা ১৯ হাজার ৯১টি। অর্থাৎ মোট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাত্র ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশকে সরকারি বাসা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে পরিদপ্তরের।

এই সীমিত আবাসনের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরকারি বাসা পেতে ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আজিমপুর, মতিঝিল ও ইস্কাটন এলাকায় চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

পরিদপ্তর সূত্র জানায়, আজিমপুর এলাকায় মাসে গড়ে ৮ থেকে ১০টি বাসা খালি হয়। অথচ এসব বাসার বিপরীতে গড়ে ৭০০টির বেশি আবেদন জমা পড়ে। ফলে একটি বাসা খালি হওয়ার পর তা বরাদ্দ পেতে আবেদনকারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হয়।

দালাল সিন্ডিকেটের অভিযোগ

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সরকারি বাসার সংখ্যা কম হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে একটি দালাল সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। বাসা বরাদ্দে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। প্রভাবশালীদের সঙ্গে যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে সিন্ডিকেটটি বাসা বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের আরও অভিযোগ, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়মের পথে না গেলে অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত বাসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে সাধারণ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।

২০২০ সালেই তৈরি হয়েছিল অনলাইন সক্ষমতা

সরকারি আবাসন পরিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০২০ সালেই অনলাইন বা ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় বাসা বরাদ্দ দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়েছিল। তবে নানা চাপ ও অভ্যন্তরীণ জটিলতার কারণে এতদিন এটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনলাইন পদ্ধতি চালু হলে আবেদন, যাচাই ও বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়বে। একই সঙ্গে ম্যানুয়াল প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের সুযোগ কমে আসবে এবং দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যও কমবে বলে তারা আশা করছেন।

গ্রেডভিত্তিক বাসা বরাদ্দ

সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের অধীনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিভিন্ন গ্রেড অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণির বাসা রয়েছে। এর মধ্যে সচিব ভবনে গ্রেড-১ ও সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য ১১৪টি ফ্ল্যাট রয়েছে।

গ্রেড-৩ তথা যুগ্ম সচিব ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য সুপিরিয়র শ্রেণিতে রয়েছে ৫৫৪টি বাসা। গ্রেড-৫ ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের জন্য এফ শ্রেণিতে ১ হাজার ৪৭৭টি, গ্রেড-৬ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য ই-শ্রেণিতে ১ হাজার ৪৭০টি বাসা রয়েছে।

এ ছাড়া ৭, ৮ ও ৯ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ডি-১ শ্রেণিতে ২ হাজার ৩৮২টি, ১০, ১১ ও ১২ গ্রেডের জন্য ডি-২ শ্রেণিতে ৪ হাজার ৪৭০টি এবং ১৩ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ৭ হাজার ২৩২টি বাসা রয়েছে। এর বাইরে অস্থায়ী (পূর্ণ ও নির্ধারিত ভাড়া) এবং অস্থায়ী (একক আসন) শ্রেণির কিছু বাসাও রয়েছে।

অনলাইন পদ্ধতিতে সরকারি বাসা বরাদ্দের এ উদ্যোগকে দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের প্রত্যাশা, নতুন ব্যবস্থায় বাসা বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং অনিয়মের সুযোগ কমবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির দাবি এরদোগানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ণ
স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির দাবি এরদোগানের

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে অংশ নিয়ে আবারও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ব্যাপক স্বীকৃতির আহ্বান জানিয়েছে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।

এ সময় তিনি বিশ্বজুড়ে শান্তি বজায় রাখার মূল দায়িত্ব পালনে জাতিসংঘ ব্যর্থ হচ্ছে বলে অভিযোগও করেছেন। একই সঙ্গে জাতিসংঘের প্রভাবশালী নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। খবর রয়টার্সের।

নিরাপত্তা পরিষদকে আরও বিস্তৃত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল সংস্থায় রূপান্তর করার জন্য বহু বছর ধরেই জোরালো দাবি জানিয়ে আসছেন এরদোগান।

জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, আমাদের এটি মেনে নেওয়া উচিত, ১৯০টিরও বেশি দেশের সার্বিক ইচ্ছাকে মাত্র ৫টি দেশের খেয়ালখুশির ওপর জিম্মি করে রাখার যে ব্যবস্থা, তা কোনোভাবেই ন্যায়সংগত হতে পারে না। এই ব্যবস্থা বিশ্বের মানুষের পূর্ণ আস্থা অর্জনেও পুরোপুরি ব্যর্থ।

এরদোয়ান বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার মূল লক্ষ্য নিয়ে ৮১ বছর আগে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সংস্থাটি সেই মিশন বা উদ্দেশ্য পূরণে চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। সংস্থাটিকে কার্যত অকার্যকর করে ফেলা হয়েছে।

গাজায় চলমান সংকট ও মানবিক বিপর্যয়ের কঠোর সমালোচনা করে এরদোগান বলেন, যাদের হৃদয়ে বিন্দুমাত্র মনুষ্যত্ব, সমবেদনা ও দয়া রয়েছে এবং যাদের সামান্যতম ন্যায়বিচার ও বিবেকের বোধ রয়েছে, তাদের পক্ষে সেখানে যা ঘটছে তার প্রতি চোখ বন্ধ রাখা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

ফিলিস্তিনি নেতাদের অংশগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রের বাধার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস পর পর দুই বছর ধরে সাধারণ পরিষদের এই হলে নিজের নির্ধারিত আসনে বসতে পারেননি।

আমাদের ফিলিস্তিনি ভাইবোনদের ওপর চালানো এই অসামঞ্জস্যপূর্ণ অবিচার পুরো বিশ্ববিবেককে গভীরভাবে আঘাত করে।

যেসব দেশ এখন পর্যন্ত স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি, সেগুলোকে অবিলম্বে তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানান এরদোগান।

একই সঙ্গে গাজা যুদ্ধ বন্ধে ইসরায়েলের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

গাজার বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘‘আমাদের সময়ের সবচেয়ে অমানবিক ও লজ্জাজনক আটক শিবির’’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন তুরস্কের এই প্রেসিডেন্ট।

ন্যাটো সদস্য দেশ তুরস্ক গাজায় হামলা ও আগ্রাসনের জন্য শুরু থেকেই ইসরায়েলের অন্যতম সমালোচক হিসেবে ভূমিকা রাখছে।

আঙ্কারার অভিযোগ, গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান স্পষ্টতই গণহত্যার শামিল।

দেশটি বারবার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়ে আসছে। যদিও গণহত্যার সব অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে বর্বর  ইসরায়েল।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ