খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

করোনার বিধ্বংসী সময়েও সরব সৌদি দূতাবাস, নিত্যদিন শতাধিক প্রবাসীকে সেবা!

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ জুন, ২০২১, ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ
করোনার বিধ্বংসী সময়েও সরব সৌদি দূতাবাস, নিত্যদিন শতাধিক প্রবাসীকে সেবা!

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রকোপে ২০২০ সালের পুরোটাই ছিল বিধ্বংসী এক বছর। সেই বছরের শেষের দিকে সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ড.মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, বিপিএম (বার)।

পুলিশপ্রধান হিসেবে সাফল্যের সঙ্গেই নিজের সমৃদ্ধ অধ্যায়ের সমাপ্তির পর রাষ্ট্রদূত হিসেবেও নিজের মেধা-মনন ও নেতৃত্বের দক্ষতায় অনন্য কর্মস্পৃহার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় যখন গোটা বিশ্ব হিমশিম খাচ্ছে ঠিক তখন কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনেই অভিবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্টসহ সব ধরনের কনস্যুলার সেবা নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস।

প্রতিদিন প্রায় শতাধিক প্রবাসী এই সেবা পাচ্ছেন। এর ফলে দূতাবাসের প্রতি প্রবাসীদের আস্থা আরও বাড়ছে। জীবনের ঝুঁকির মধ্যেও ফ্রন্ট লাইনে থেকেই পুরো কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড.পাটোয়ারী। এই দূতাবাসের কর্মীদের নিয়মানুবর্তিতা, সাহস ও সেবা সব মহলেই কুড়িয়েছে প্রশংসা। সঙ্কটে পাশে থেকে অর্জন করেছে সুনামও।

সৌদি আরবের রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলে মিলেছে এসব তথ্য।

সূত্র জানায়, সুশৃঙ্খলভাবে সেবা প্রদানের জন্য অভিবাসীদের টোকেন প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি দূতাবাস চত্বরে তাদের পানির ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় হালকা খাবারের জন্য ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সেবা প্রার্থীদের দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু চত্বরে ছাউনিতে বসার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, কনস্যুলার সেবা প্রদানকালে যেসব প্রবাসী নানা সমস্যার কারণে দেশে ফিরে যেতে চান, তাদের ট্র্যাভেল পারমিট প্রদান করা হচ্ছে। দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের পক্ষ থেকে স্পেশাল এক্সিট প্রোগ্রামের আওতায় হুরুবপ্রাপ্ত, ইকামাবিহীন ও এক্সিট ভিসায় মেয়াদোত্তীর্ণ অভিবাসীদের আইনগত সহায়তা প্রদান করা হয়।

এছাড়া অভিবাসীদের জন্য প্রবাসী কল্যাণ কার্ডের নিবন্ধন করা হয়েছে। অভিবাসী শ্রমিকদের মালিক পক্ষ থেকে বকেয়া বেতন আদায়, কর্ম জীবন শেষে সার্ভিস বেনেফিট আদায় করার জন্য সকল সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। কোনো প্রবাসী মারা গেলে মালিকপক্ষ থেকে তার বকেয়া আদায়, মৃতদেহ দেশে প্রেরণসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

দূতাবাসের কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশি অভিবাসীদের পাসপোর্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা অত্যন্ত দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে। দূতাবাসের সোনালী ব্যাংকের পক্ষ থেকে অ্যাকাউন্ট খোলা ও ওয়েজ আর্নার্স বন্ড করার সেবা প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে বৈধপথে দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য প্রবাসীদের উদ্বুদ্ধ করা হয়।

এদিকে সেবাগ্রহণ করতে আসা অভিবাসীদের জন্য দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু কর্নার উন্মুক্ত রাখা হয়েছে; যেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’সহ বিভিন্ন বই সর্বসাধারণের পাঠের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জানা যায়, সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মীদের মধ্যে কেউ সমস্যায় পড়লে আশ্রয়ের জন্য দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে একটি সেফ হাউজ পরিচালিত হচ্ছে। নারী গৃহকর্মীরা দূতাবাসে আশ্রয়ের জন্য আসলে তাদের সেফ হাউজে রাখা হয়। সেখানে তাদের থাকা খাওয়া ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

এছাড়া নারী গৃহকর্মীদের আইনগত সহায়তা প্রদান শেষে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত দেশে পাঠানোর জন্য ব্যবস্থাও করছে দূতাবাস।

প্রবাসীদের সঙ্গে ভালো আচরণের পাশাপাশি প্রবাসীদের সেবাপ্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

তিনি বলেন, সবাইকে সুন্দরভাবে সেবা প্রদান করতে হবে। কারো সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই খারাপ আচরণ করা যাবে না। দূতাবাস যেকোনো প্রয়োজনে অভিবাসীদের পাশে রয়েছে।

এদিকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কয়েক লক্ষ বাংলাদেশি বসবাস করছেন। এর মধ্যে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রমঘন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন তারা। এসব প্রবাসীর সেবা প্রদানের জন্য দূতাবাসের পাশাপাশি কয়েকটি প্রবাসী সেবাকেন্দ্র কাজ করছে।

এসব সেবাকেন্দ্র থেকে সপ্তাহে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পাসপোর্ট নবায়ন, রি-ইস্যুসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা দেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে অবস্থিত ১৯টি প্রবাসী সেবাকেন্দ্র থেকেও প্রতিদিন প্রায় কয়েক হাজার অভিবাসীকে পাসপোর্টসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

জানা যায়, সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশিদের প্রয়োজনে দূতাবাসের হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও তথ্য জেনে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। দূতাবাসের হটলাইন নম্বরগুলো হচ্ছে- ৮০০১০০০১২৪ (কনস্যুলার), ৮০০১০০০১২৫ (শ্রম) ও ৮০০১০০০১২৬ (পাসপোর্ট)।

কর্মকর্তারা বলেন, দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রবাসীদের নিয়মিত বিভিন্ন জরুরি বিষয়ে অবহিত করা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

দূতাবাসের সেবা সম্পর্কে যেকোনো অভিযোগ জানানোর জন্য দুটি অভিযোগ জমাদান বাক্স স্থাপন করা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত ড. জাবেদ পাটোয়ারীর এসব উদ্যোগে বেশ আনন্দিত প্রবাসীরা।

এদিকে সৌদি আরবে করোনা ভাইরাস সংক্রমনে এ পর্যন্ত যেসব বাংলাদেশি মারা গেছেন, তাদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। একই সঙ্গে তিনি অভিবাসী বাংলাদেশিদের দ্রুত করোনা ভাইরাসের টিকা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, অভিবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিনামূল্যে করোনা ভাইরাসের চিকিৎসা ও টিকা প্রদান করার জন্য সৌদি সরকারের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

কালের আলো/এমএ/এমএএএমকে

টাঙ্গাইলের পথে প্রধানমন্ত্রী, উদ্বোধন করবেন ‘কৃষক কার্ড’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ
টাঙ্গাইলের পথে প্রধানমন্ত্রী, উদ্বোধন করবেন ‘কৃষক কার্ড’

পহেলা বৈশাখে কৃষকদের জন্য নতুন উদ্যোগ ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে টাঙ্গাইল যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে বের হয়।

টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার সুরুজ এলাকার কৃষকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেবেন তারেক রহমান।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের বিভিন্ন প্রণোদনা, ভর্তুকি ও সরকারি সহায়তা সহজভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

সরকারের মতে, ‘কৃষক কার্ড’ চালুর মধ্য দিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বর্তমান প্রশাসন। এর আগে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘ক্রীড়া কার্ড’ এবং খাল খনন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যা বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

কালের আলো/এসআর/এএএন

বৈশাখী শোভাযাত্রা দেখলেন ইইউ-নরও‌য়ের রাষ্ট্রদূতসহ বিদেশি কূটনীতিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ
বৈশাখী শোভাযাত্রা দেখলেন ইইউ-নরও‌য়ের রাষ্ট্রদূতসহ বিদেশি কূটনীতিকরা

বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের অন‌্যতম আকর্ষণ বৈশাখী শোভাযাত্রা উপভোগ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকরা। তাদের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূত ছিলেন।

মঙ্গলবার (১৪ এ‌প্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি প্রাঙ্গণের সামনে দাঁ‌ড়িয়ে বৈশাখী শোভাযাত্রা দেখেছেন বিদেশি কূটনীতিকরা।

ইইউর রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্রানসেন সস্ত্রীক এ‌সে‌ছেন বৈশাখী শোভাযাত্রা দেখ‌তে। এ ছাড়া, শোভাযাত্রা দেখ‌তে এ‌সে‌ছেন ভারত, ইউরোপ, মধ‌্যপ্রাচ‌্য ও দ‌ক্ষিণ-পূর্ব এ‌শিয়া মিশনের কয়েকজন কূটনীতিক‌। তাদের নিরাপত্তা দিচ্ছেন ঢাকা বিশ্ব‌বিদ‌্যালয় প্রশাসন।

ইইউর রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্রানসেনকে শোভাযাত্রা বেশ উপভোগ করতে দেখা গেছে। দুই রাষ্ট্রদূতই তাদের মোবাইল ফোনে শোভাযাযাত্রার ছ‌বি তোলাসহ সেল‌ফি‌ তুল‌ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি) বিদেশি কূটনীতিকদের দেখভালের দা‌য়িত্বে ছিলেন। তি‌নি বলেন, শোভাযাত্রা অনুষ্ঠান দেখতে বি‌ভিন্ন দেশের কূটনী‌তিকরা এসেছেন। দুইজন রাষ্ট্রদূত এসেছেন, আরও অ‌নেক মিশনের কূটনী‌তিকরা এসেছে; তা‌রা সস্ত্রীক এসেছেন।

আজ সকাল ৯টার পর ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ বের হয়। উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে এই শোভাযাত্রা বের হয়।

শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদের ৩ নম্বর গেট থেকে শুরু করে শাহবাগ থানার সামনে গিয়ে ইউটার্ন নেয়। সেখান থেকে রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি প্রাঙ্গণ ডান পাশে রেখে দোয়েল চত্বর হয়ে বাংলা একাডেমির সামনে দিয়ে আবার চারুকলা অনুষদে এসে শেষ হয়।

জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠী মঙ্গল শোভাযাত্রার বিরোধিতা শুরু করে।

২০২৫ সালে চারুকলার শোভাযাত্রার নাম থেকে মঙ্গল শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। নতুন নাম হয় বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা। এবার এ শোভাযাত্রার নাম দেওয়া হয় বৈশাখী শোভাযাত্রা।

বৈশাখের প্রথম প্রভাতে রমনা বটমূলে বঙ্গব্দ ১৪৩৩ কে বরণ করে নেওয়ার মধ‌্য দিয়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রমনা বটমূলে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ ও শান্তি-কল্যাণ-স্বস্তির আকাঙ্ক্ষা ছায়ানটের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ
রমনা বটমূলে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ ও শান্তি-কল্যাণ-স্বস্তির আকাঙ্ক্ষা ছায়ানটের

রাজধানীর রমনা বটমূলে শেষ হয়েছে ছায়ানটের বর্ষবরণ ১৪৩৩-এর অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে বৈশ্বিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সম্পর্কিত সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রেক্ষাপটে পারস্য অঞ্চলসহ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শান্তি, কল্যাণ ও স্বস্তির আকাঙ্ক্ষাও ছিল ছায়ানটের আয়োজনে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিনে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে ছায়ানটের শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে এবারের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শেষ হয়।

অনুষ্ঠান শেষের আগে ছায়ানটের নির্বাহী সভাপতি ড. সারওয়ার আলী বক্তব্যে বলেন, সমাজে দিন দিন বাড়ছে অসহিষ্ণুতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় সৃষ্টি হচ্ছে নানা প্রতিবন্ধকতা। এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে নতুন বছরের শুরুতে শান্তি, নিরাপত্তা ও সহনশীলতার প্রত্যাশা সকলের।

একই সঙ্গে বৈশ্বিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সম্পর্কিত সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রেক্ষাপটে পারস্য অঞ্চলসহ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান সংঘাত ও নিপীড়ন বিশ্বজুড়ে এক ধরনের আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে।

এর প্রভাব পড়ছে দেশের ভেতরেও, যেখানে ভিন্নমত প্রকাশে অনেকেই নিজেদের অনিরাপদ বোধ করছেন। মতপ্রকাশের ক্ষেত্র সংকুচিত হওয়া এবং সামাজিক সহনশীলতার অবক্ষয় একটি সুস্থ সমাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন বাস্তবতায় বাংলা নববর্ষকে সামনে রেখে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ শান্তি, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন বছর হোক ভয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মুক্তচিন্তার বিকাশের প্রতীক। যেখানে মানুষ নির্ভয়ে গান গাইতে পারবে, মত প্রকাশ করতে পারবে এবং নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত হবে। শুভ নববর্ষ।

এর আগে সূর্যোদয়ের পরপর শুরু হয় বর্ষবরণের ছায়ানটের অনুষ্ঠান। এবারের বার্তা, ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’—সেখানেই বাঙালির জয়। ছায়ানটের ৫৯তম অনুষ্ঠান সাজানো হয়েছে সকালের স্নিগ্ধ প্রকৃতি এবং মানব ও দেশপ্রেমের গানের পাশাপাশি লোকজনজীবনের সুর দিয়ে। সব মিলিয়ে বাঙালি সমাজকে বিগত বছরের সব ‘প্রতিকূলতা, আবর্জনা’ দূর করে নতুন বছরে ‘আরও মানবমুখী’ হওয়ার প্রত্যয়। সময় যত গড়িয়েছে, বেলা যত বেড়েছে ততই ভিড় বাড়তে দেখা গেছে অনুষ্ঠানস্থলে।

এদিন নতুন বছরকে বরণ করতে আয়োজনের কমতি ছিল না রমনার বটমূলে। বাঙালি সংস্কৃতিকে লালন করে ঐতিহ্যগতভাবে বর্ষবরণের আয়োজন করে আসছে ছায়ানট। নতুন বছরকে তাই বরণ করে নেওয়া হয় সুরের মূর্ছনায়।

মঙ্গলবার সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে সম্মেলক কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগ্নে’ গানের মাধ্যমে শুরু হয় ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। এর পরপরই পরিবেশিত হয় ‘এ কী সুগন্ধহিল্লোল বহিল’ ও ‘তোমার হাতের রাখীখানি বাঁধো আমার দখিন-হাতে’ গান দুটি। এরপর একের পর এক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন সাঁইয়ের গান, লোকগানের পাশাপাশি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অজয় ভট্টাচার্য, আবদুল লতিফ, জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রের গান পরিবেশন করা হয়।

এবারের অনুষ্ঠানে বিশেষ সংযোজন ছিল ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রখ্যাত গণসংগীতজ্ঞ সলিল চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ এবং প্রয়াত বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, গীতিকার, সুরকার ও চিত্রশিল্পী মতলুব আলীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের গান। মোট ২২টি গান পরিবেশিত হয় প্রায় দুই ঘণ্টার এ অনুষ্ঠানে। এর মধ্যে ৮টি ছিল সম্মেলক গান, আর একক কণ্ঠের গান ছিল ১৪টি। পাঠ ছিল দুটি। ছায়ানটের শিশু বিভাগের শিক্ষার্থীসহ সব বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশিষ্ট শিল্পী মিলিয়ে প্রায় ২০০ শিল্পী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

এদিকে ভোর থেকেই রমনায় বৈশাখী সাজে হাজির হন শিশু, নারী ও পুরুষ। সবারই প্রত্যাশা—বিগত বছরের সব গ্লানি মুছে নতুনের আবহে শুরু হোক বছরটি। বিভেদ ভুলে সাম্য আর ঐক্যের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় সবার।

জানা গেছে, বরাবরের মতোই সংস্কৃতিবিরোধী অপশক্তিকে তুচ্ছ করে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে বাঙালি তার সর্ববৃহৎ উৎসব নতুন বছর বরণে ভয়কে জয় করার প্রত্যয় নিয়ে বাংলা নতুন বছরের ভোরে কণ্ঠ ছেড়ে গান গেয়েছে ছায়ানট। এবার মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধবাজরা হাজার হাজার বছরের পারস্য সভ্যতার ধ্বংসযজ্ঞে মত্ত-বিশ্ব জনজীবন যখন বিপর্যয়ের মুখে, তখন শান্তি, কল্যাণ ও স্বস্তির আকাঙ্ক্ষাও ছিল ছায়ানটের আয়োজনে।

দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংস্থা ছায়ানট ১৯৬৭ সাল থেকে রমনার এই বটমূলে পহেলা বৈশাখে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। সে বছর রমনার বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনে নববর্ষ বরণের প্রভাতি অনুষ্ঠানের প্রধান বৈশিষ্ট্যই ছিল ভয়ের পরিবেশ থেকে বের হয়ে এসে সংগীতের ভেতর দিয়ে বাঙালি জাতিসত্তার পরিচয়কে তুলে ধরা। পয়লা বৈশাখের এ অনুষ্ঠান কালক্রমে দেশের সব ধর্ম, বর্ণের মানুষের কাছে এক অভিন্ন উৎসবে পরিণত হয়েছে। এবারও ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে বরণ করা হলো রমনার এই বটমূল থেকেই।

১৯৬৭ সালে শুরু হওয়া এ উৎসব ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বছর ছাড়া প্রতিটি পহেলা বৈশাখে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়েছে সুরের মূর্ছনা আর কথামালায়। কোভিডের দুই বছর এ আয়োজন হয় ভার্চু্যয়ালি। ২০০১ সালে ছায়ানটের বৈশাখ বরণের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা হয়। তাতে ১০ জন নিহত হন। এরপর থেকে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে প্রতিবছর বর্ষবরণের এ আয়োজন চলছে।

বর্ষবরণের আয়োজন ঘিরে পুরো রমনা পার্ক এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়। বসানো হয় ডিএমপি ও র‍্যাবের কন্ট্রোল রুম। প্রবেশপথ ও বাহিরপথ আলাদা করা হয়।

কালের আলো/এসআর/এএএন