খুঁজুন
                               
, ,
           

করোনার বিধ্বংসী সময়েও সরব সৌদি দূতাবাস, নিত্যদিন শতাধিক প্রবাসীকে সেবা!

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ জুন, ২০২১, ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ
করোনার বিধ্বংসী সময়েও সরব সৌদি দূতাবাস, নিত্যদিন শতাধিক প্রবাসীকে সেবা!

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রকোপে ২০২০ সালের পুরোটাই ছিল বিধ্বংসী এক বছর। সেই বছরের শেষের দিকে সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ড.মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, বিপিএম (বার)।

পুলিশপ্রধান হিসেবে সাফল্যের সঙ্গেই নিজের সমৃদ্ধ অধ্যায়ের সমাপ্তির পর রাষ্ট্রদূত হিসেবেও নিজের মেধা-মনন ও নেতৃত্বের দক্ষতায় অনন্য কর্মস্পৃহার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় যখন গোটা বিশ্ব হিমশিম খাচ্ছে ঠিক তখন কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনেই অভিবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্টসহ সব ধরনের কনস্যুলার সেবা নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস।

প্রতিদিন প্রায় শতাধিক প্রবাসী এই সেবা পাচ্ছেন। এর ফলে দূতাবাসের প্রতি প্রবাসীদের আস্থা আরও বাড়ছে। জীবনের ঝুঁকির মধ্যেও ফ্রন্ট লাইনে থেকেই পুরো কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড.পাটোয়ারী। এই দূতাবাসের কর্মীদের নিয়মানুবর্তিতা, সাহস ও সেবা সব মহলেই কুড়িয়েছে প্রশংসা। সঙ্কটে পাশে থেকে অর্জন করেছে সুনামও।

সৌদি আরবের রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলে মিলেছে এসব তথ্য।

সূত্র জানায়, সুশৃঙ্খলভাবে সেবা প্রদানের জন্য অভিবাসীদের টোকেন প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি দূতাবাস চত্বরে তাদের পানির ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় হালকা খাবারের জন্য ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সেবা প্রার্থীদের দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু চত্বরে ছাউনিতে বসার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, কনস্যুলার সেবা প্রদানকালে যেসব প্রবাসী নানা সমস্যার কারণে দেশে ফিরে যেতে চান, তাদের ট্র্যাভেল পারমিট প্রদান করা হচ্ছে। দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের পক্ষ থেকে স্পেশাল এক্সিট প্রোগ্রামের আওতায় হুরুবপ্রাপ্ত, ইকামাবিহীন ও এক্সিট ভিসায় মেয়াদোত্তীর্ণ অভিবাসীদের আইনগত সহায়তা প্রদান করা হয়।

এছাড়া অভিবাসীদের জন্য প্রবাসী কল্যাণ কার্ডের নিবন্ধন করা হয়েছে। অভিবাসী শ্রমিকদের মালিক পক্ষ থেকে বকেয়া বেতন আদায়, কর্ম জীবন শেষে সার্ভিস বেনেফিট আদায় করার জন্য সকল সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। কোনো প্রবাসী মারা গেলে মালিকপক্ষ থেকে তার বকেয়া আদায়, মৃতদেহ দেশে প্রেরণসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

দূতাবাসের কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশি অভিবাসীদের পাসপোর্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা অত্যন্ত দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে। দূতাবাসের সোনালী ব্যাংকের পক্ষ থেকে অ্যাকাউন্ট খোলা ও ওয়েজ আর্নার্স বন্ড করার সেবা প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে বৈধপথে দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য প্রবাসীদের উদ্বুদ্ধ করা হয়।

এদিকে সেবাগ্রহণ করতে আসা অভিবাসীদের জন্য দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু কর্নার উন্মুক্ত রাখা হয়েছে; যেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’সহ বিভিন্ন বই সর্বসাধারণের পাঠের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জানা যায়, সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মীদের মধ্যে কেউ সমস্যায় পড়লে আশ্রয়ের জন্য দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে একটি সেফ হাউজ পরিচালিত হচ্ছে। নারী গৃহকর্মীরা দূতাবাসে আশ্রয়ের জন্য আসলে তাদের সেফ হাউজে রাখা হয়। সেখানে তাদের থাকা খাওয়া ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

এছাড়া নারী গৃহকর্মীদের আইনগত সহায়তা প্রদান শেষে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত দেশে পাঠানোর জন্য ব্যবস্থাও করছে দূতাবাস।

প্রবাসীদের সঙ্গে ভালো আচরণের পাশাপাশি প্রবাসীদের সেবাপ্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

তিনি বলেন, সবাইকে সুন্দরভাবে সেবা প্রদান করতে হবে। কারো সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই খারাপ আচরণ করা যাবে না। দূতাবাস যেকোনো প্রয়োজনে অভিবাসীদের পাশে রয়েছে।

এদিকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কয়েক লক্ষ বাংলাদেশি বসবাস করছেন। এর মধ্যে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রমঘন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন তারা। এসব প্রবাসীর সেবা প্রদানের জন্য দূতাবাসের পাশাপাশি কয়েকটি প্রবাসী সেবাকেন্দ্র কাজ করছে।

এসব সেবাকেন্দ্র থেকে সপ্তাহে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পাসপোর্ট নবায়ন, রি-ইস্যুসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা দেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে অবস্থিত ১৯টি প্রবাসী সেবাকেন্দ্র থেকেও প্রতিদিন প্রায় কয়েক হাজার অভিবাসীকে পাসপোর্টসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

জানা যায়, সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশিদের প্রয়োজনে দূতাবাসের হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও তথ্য জেনে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। দূতাবাসের হটলাইন নম্বরগুলো হচ্ছে- ৮০০১০০০১২৪ (কনস্যুলার), ৮০০১০০০১২৫ (শ্রম) ও ৮০০১০০০১২৬ (পাসপোর্ট)।

কর্মকর্তারা বলেন, দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রবাসীদের নিয়মিত বিভিন্ন জরুরি বিষয়ে অবহিত করা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

দূতাবাসের সেবা সম্পর্কে যেকোনো অভিযোগ জানানোর জন্য দুটি অভিযোগ জমাদান বাক্স স্থাপন করা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত ড. জাবেদ পাটোয়ারীর এসব উদ্যোগে বেশ আনন্দিত প্রবাসীরা।

এদিকে সৌদি আরবে করোনা ভাইরাস সংক্রমনে এ পর্যন্ত যেসব বাংলাদেশি মারা গেছেন, তাদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। একই সঙ্গে তিনি অভিবাসী বাংলাদেশিদের দ্রুত করোনা ভাইরাসের টিকা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, অভিবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিনামূল্যে করোনা ভাইরাসের চিকিৎসা ও টিকা প্রদান করার জন্য সৌদি সরকারের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

কালের আলো/এমএ/এমএএএমকে

নতুন ভূমিধসের শঙ্কা, জিরং স্থলবন্দরে চীনের উদ্ধার অভিযান স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
নতুন ভূমিধসের শঙ্কা, জিরং স্থলবন্দরে চীনের উদ্ধার অভিযান স্থগিত

নেপাল সীমান্তসংলগ্ন জিরং স্থলবন্দরের কাছে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে চীন। গত বুধবারের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর ওই এলাকায় নতুন করে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির শুক্রবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের কারণে পার্বত্য এলাকায় একটি কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় হ্রদটির পানির স্তর ক্রমাগত বাড়ছে। ফলে যেকোনো সময় হ্রদটি ভেঙে গিয়ে প্রবল পানির স্রোত, কাদা ও পাথরের ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে যে উদ্ধারকারী দলগুলোর পক্ষে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত জিরং স্থলবন্দরের দিকে এগিয়ে যাওয়া আপাতত সম্ভব হচ্ছে না। সিসিটিভির সঙ্গে থাকা এক প্রতিবেদক জানান, সামনের সারির দল থেকে জরুরি নির্দেশনা পাওয়ার পর সব উদ্ধারকারীকে জিরং বন্দরের দিকে আর না এগোতে বলা হয়েছে।

সিসিটিভি জানিয়েছে, উদ্ধারকারী দলের বেশির ভাগ সদস্য বর্তমানে জিরং শহরের লাওজিয়াং গ্রামের প্রবেশমুখে অবস্থান করছেন। গ্রামটি চীন-নেপাল সীমান্ত থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে।

এর আগে বুধবারের ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে নেপাল ও চীন সীমান্তবর্তী পার্বত্য এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। দুর্যোগের পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চলছে। তবে নতুন করে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতাও এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

কালের আলো/এসএ

গণহত্যার দায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ম্লাদিচের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:০২ অপরাহ্ণ
গণহত্যার দায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ম্লাদিচের মৃত্যু

গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক সার্বীয় জেনারেল রাতকো ম্লাদিচ মারা গেছেন। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের একটি কারাগারে বন্দী অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সার্বিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএস এ তথ্য জানিয়েছে।

১৯৯৫ সালের স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যায় ভূমিকার জন্য ‘বসনিয়ার কসাই’ নামে পরিচিত ছিলেন ম্লাদিচ। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় তিনি কয়েকবার স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল তাঁর পরিবার ও সার্বিয়ার সরকারি কর্মকর্তারা। তবে সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে দ্য হেগের সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল।

স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যার ঘটনায় গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন ম্লাদিচ।

১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত চলা বসনিয়া যুদ্ধ ছিল সাবেক যুগোস্লাভিয়ায় সমাজতন্ত্রের পতনের পর ছড়িয়ে পড়া রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অন্যতম ভয়াবহ অধ্যায়। ওই যুদ্ধে প্রায় ১ লাখ মানুষ নিহত এবং ২২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।

যুদ্ধের সবচেয়ে নৃশংস অধ্যায়গুলোর একটি ছিল স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যা। জাতিসংঘের সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষিত স্রেব্রেনিৎসায় আশ্রয় নেওয়া বসনিয়ার মুসলিম পুরুষ ও কিশোরদের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার মানুষকে ম্লাদিচের নেতৃত্বাধীন সার্ব বাহিনী হত্যা করে।

তখনকার ভিডিও ফুটেজে ম্লাদিচকে নারী ও শিশুদের সরিয়ে নেওয়ার আগে শিশুদের হাতে মিষ্টি তুলে দিতে দেখা যায়। এরপর পুরুষ ও কিশোরদের একটি বনে নিয়ে হত্যা করা হয়।

হত্যার পর মরদেহগুলো গণকবরে ফেলে দেওয়া হয়। পরে হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ গোপন করতে অনেক গণকবর থেকে মরদেহ তুলে অন্য জায়গায় পুনরায় দাফন করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।

স্রেব্রেনিৎসা থেকে পালিয়ে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা সার্ব বাহিনীর হাতে হত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষণের ভয়াবহ বিবরণ দিয়েছেন।

১৯৯৫ সালের নভেম্বরে সাবেক যুগোস্লাভিয়ার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ম্লাদিচের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। সামরিক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও তিনি দীর্ঘ ১৬ বছর গ্রেপ্তার এড়িয়ে ছিলেন।

শুরুর দিকে সার্বিয়ার সামরিক বাহিনীর সহায়তায় অনেকটা প্রকাশ্যেই জীবনযাপন করেছেন ম্লাদিচ। দেশটির একটি অংশ তাঁকে এখনো নায়ক হিসেবে দেখে।

তবে ২০০০ সালে স্লোবোদান মিলোসেভিচ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাঁর ওপর চাপ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালের মে মাসে সার্বিয়ায় গ্রেপ্তার হন ম্লাদিচ। পরে তাঁকে দ্য হেগে নেওয়া হয়।

বিচারের পুরো প্রক্রিয়ায় ম্লাদিচ গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করে গেছেন। আদালতে একাধিকবার ক্ষুব্ধ বক্তব্যও দেন তিনি। বিচারকদের উদ্দেশে আদালতকে ‘পশ্চিমা শক্তির সন্তান’ বলে আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি নিজেকে ‘ন্যাটো জোটের লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।

২০১৭ সালে তাঁকে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০২১ সালে আপিলেও সেই সাজা বহাল থাকে।

মুসলিম ও বসনীয়দের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা থেকে বিতাড়িত করে তথাকথিত ‘বৃহত্তর সার্বিয়া’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্যাপক জাতিগত নিধন অভিযান পরিচালনার জন্যও তাঁকে দায়ী করা হয়।

তৎকালীন ট্রাইব্যুনাল ম্লাদিচের আমলে সংঘটিত অপরাধকে ‘মানবজাতির জানা সবচেয়ে জঘন্য অপরাধগুলোর মধ্যে অন্যতম’ বলে অভিহিত করেছিল। সাবেক জাতিসংঘ মানবাধিকারপ্রধান জেইদ রা’দ আল-হুসেইন তাঁকে ‘অশুভর প্রতিমূর্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

জীবনের শেষ দিকে ম্লাদিচের আইনজীবীরা মানবিক কারণে তাঁর মুক্তির আবেদন করেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, তিনি গুরুতর ও নিরাময়-অযোগ্য শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন এবং এমন অবস্থায় তাঁকে কারাগারে রাখা অমানবিক শাস্তির পর্যায়ে পড়ে।

তবে সেই আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। শেষ পর্যন্ত দ্য হেগের কারাগারেই মৃত্যু হলো সাবেক এই সার্বীয় সামরিক প্রধানের।

ম্লাদিচের বয়স নিয়েও দীর্ঘদিন বিতর্ক ছিল। তিনি দাবি করতেন, তাঁর জন্ম ১৯৪৩ সালের মার্চে। তবে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের নথিতে তাঁর জন্মসন ১৯৪২ সাল উল্লেখ করা হয়েছে।

কালের আলো/এসএ

‘এখন অন্য কিছু ভাবতে পারছি না। শুধু নিরাপদে দেশে ফিরতে চাই।’-তাসরিফ খান

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪৫ অপরাহ্ণ
‘এখন অন্য কিছু ভাবতে পারছি না। শুধু নিরাপদে দেশে ফিরতে চাই।’-তাসরিফ খান

অবসর কাটাতে নেপালে গিয়ে বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে ঘান্দ্রুক গ্রামে আটকা পড়েছেন সংগীতশিল্পী তাসরিফ খান। মোদি খোলার বন্যা ও পাহাড়ধসে বিরেঠাঁটি–ঘান্দ্রুক সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে তাঁদের ফেরার পথ।

তাসরিফ জানান, তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা বর্তমানে নিরাপদে আছেন। তবে কবে ঘান্দ্রুক থেকে বের হয়ে দেশে ফিরতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

নেপালের গণ্ডকী প্রদেশের কাস্কি জেলার পরিচিত পর্যটন গ্রাম ঘান্দ্রুক অন্নপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই হাজার মিটার উঁচু এই এলাকায় বড় ধরনের প্রাণহানি বা ধ্বংসযজ্ঞ তাঁরা দেখেননি। তবে বন্যা ও পাহাড়ধসে বিরেঠাঁটি–ঘান্দ্রুক সড়কের একাধিক অংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। কোথাও সেতুও ভেঙে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রশাসন ওই পথে চলাচল বন্ধ রেখেছে।

তাসরিফ বলেন, বুধবার রাসুয়া–তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় যে বড় বিপর্যয় ঘটেছে, সেটি ঘান্দ্রুক থেকে অনেক দূরে। তবে নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলের দুর্যোগের খবর এবং তাঁদের ফেরার পথের অবস্থা নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

মঙ্গলবার তাঁরা ঘান্দ্রুকে পৌঁছান। বুধবার ফিরে যাওয়ার কথা ছিল তাঁদের। পরিকল্পনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু বের হতে কিছুটা দেরি হওয়ায় গাইড তাঁদের ওই দিন আর যাত্রা না করার পরামর্শ দেন।

পরে তাঁরা জানতে পারেন, ফেরার পথে সড়কের বিভিন্ন অংশ পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাসরিফের ভাষায়, সময়মতো বের হলে হয়তো তাঁরাও বিপদের মধ্যে পড়তেন। দেরি হওয়াটাই তাঁদের রক্ষা করেছে।

বর্তমানে তাঁদের গাইড বিকল্প পথের সন্ধান করছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। গাইড ফিরে এলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁদের আরও দুই থেকে তিন দিন ঘান্দ্রুকে থাকতে হতে পারে।

দুর্যোগের পাশাপাশি অর্থসংকটও তৈরি হয়েছে তাসরিফদের জন্য। তাঁর হাতে অল্প কিছু নেপালি রুপি ও প্রায় ১০০ মার্কিন ডলার রয়েছে। কার্ডে টাকা থাকলেও দুর্গম এই এলাকায় কার্ড বা ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেনের সুযোগ খুবই সীমিত। ফলে নগদ অর্থ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।

দেশে ফেরার নতুন টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে না। স্বাভাবিক সড়কপথ ব্যবহার করা সম্ভব না হলে নদীর পাশ দিয়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ট্রেক করে বের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের মধ্যে এমন পথও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পরিস্থিতি নিশ্চিত না হয়ে তাই কোনো ঝুঁকি নিতে চান না তাসরিফ।

স্থানীয়দের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, পাহাড়ি এই এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। দুর্যোগের কারণে পর্যটননির্ভর এলাকার বাসিন্দারাও জীবিকা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

টানা কাজের পর কয়েক দিনের অবসর কাটাতেই নেপালে গিয়েছিলেন তাসরিফ। সম্প্রতি তাঁর রোমান্টিক ঘরানার মৌলিক গান ‘বৃষ্টি’ মুক্তি পেয়েছে। দেশে ফিরে রক ঘরানার নতুন গান ‘জীবনের চাকা’র মিউজিক ভিডিও ধারণের পরিকল্পনাও ছিল তাঁর।

তবে এখন সব পরিকল্পনা বাদ দিয়ে নিরাপদে দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন এই সংগীতশিল্পী।

তাসরিফ বলেন, ‘এখন অন্য কিছু ভাবতে পারছি না। শুধু নিরাপদে দেশে ফিরতে চাই।’

তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন, যাতে তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা সুস্থভাবে দেশে ফিরে প্রিয়জনদের কাছে পৌঁছাতে পারেন।

কালের আলো/এসএ