খুঁজুন
                               
, ,
           

করোনার বিধ্বংসী সময়েও সরব সৌদি দূতাবাস, নিত্যদিন শতাধিক প্রবাসীকে সেবা!

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ জুন, ২০২১, ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ
করোনার বিধ্বংসী সময়েও সরব সৌদি দূতাবাস, নিত্যদিন শতাধিক প্রবাসীকে সেবা!

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রকোপে ২০২০ সালের পুরোটাই ছিল বিধ্বংসী এক বছর। সেই বছরের শেষের দিকে সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ড.মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, বিপিএম (বার)।

পুলিশপ্রধান হিসেবে সাফল্যের সঙ্গেই নিজের সমৃদ্ধ অধ্যায়ের সমাপ্তির পর রাষ্ট্রদূত হিসেবেও নিজের মেধা-মনন ও নেতৃত্বের দক্ষতায় অনন্য কর্মস্পৃহার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় যখন গোটা বিশ্ব হিমশিম খাচ্ছে ঠিক তখন কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনেই অভিবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্টসহ সব ধরনের কনস্যুলার সেবা নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস।

প্রতিদিন প্রায় শতাধিক প্রবাসী এই সেবা পাচ্ছেন। এর ফলে দূতাবাসের প্রতি প্রবাসীদের আস্থা আরও বাড়ছে। জীবনের ঝুঁকির মধ্যেও ফ্রন্ট লাইনে থেকেই পুরো কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড.পাটোয়ারী। এই দূতাবাসের কর্মীদের নিয়মানুবর্তিতা, সাহস ও সেবা সব মহলেই কুড়িয়েছে প্রশংসা। সঙ্কটে পাশে থেকে অর্জন করেছে সুনামও।

সৌদি আরবের রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলে মিলেছে এসব তথ্য।

সূত্র জানায়, সুশৃঙ্খলভাবে সেবা প্রদানের জন্য অভিবাসীদের টোকেন প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি দূতাবাস চত্বরে তাদের পানির ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় হালকা খাবারের জন্য ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সেবা প্রার্থীদের দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু চত্বরে ছাউনিতে বসার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, কনস্যুলার সেবা প্রদানকালে যেসব প্রবাসী নানা সমস্যার কারণে দেশে ফিরে যেতে চান, তাদের ট্র্যাভেল পারমিট প্রদান করা হচ্ছে। দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের পক্ষ থেকে স্পেশাল এক্সিট প্রোগ্রামের আওতায় হুরুবপ্রাপ্ত, ইকামাবিহীন ও এক্সিট ভিসায় মেয়াদোত্তীর্ণ অভিবাসীদের আইনগত সহায়তা প্রদান করা হয়।

এছাড়া অভিবাসীদের জন্য প্রবাসী কল্যাণ কার্ডের নিবন্ধন করা হয়েছে। অভিবাসী শ্রমিকদের মালিক পক্ষ থেকে বকেয়া বেতন আদায়, কর্ম জীবন শেষে সার্ভিস বেনেফিট আদায় করার জন্য সকল সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। কোনো প্রবাসী মারা গেলে মালিকপক্ষ থেকে তার বকেয়া আদায়, মৃতদেহ দেশে প্রেরণসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

দূতাবাসের কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশি অভিবাসীদের পাসপোর্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা অত্যন্ত দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে। দূতাবাসের সোনালী ব্যাংকের পক্ষ থেকে অ্যাকাউন্ট খোলা ও ওয়েজ আর্নার্স বন্ড করার সেবা প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে বৈধপথে দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য প্রবাসীদের উদ্বুদ্ধ করা হয়।

এদিকে সেবাগ্রহণ করতে আসা অভিবাসীদের জন্য দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু কর্নার উন্মুক্ত রাখা হয়েছে; যেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’সহ বিভিন্ন বই সর্বসাধারণের পাঠের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জানা যায়, সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মীদের মধ্যে কেউ সমস্যায় পড়লে আশ্রয়ের জন্য দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে একটি সেফ হাউজ পরিচালিত হচ্ছে। নারী গৃহকর্মীরা দূতাবাসে আশ্রয়ের জন্য আসলে তাদের সেফ হাউজে রাখা হয়। সেখানে তাদের থাকা খাওয়া ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

এছাড়া নারী গৃহকর্মীদের আইনগত সহায়তা প্রদান শেষে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত দেশে পাঠানোর জন্য ব্যবস্থাও করছে দূতাবাস।

প্রবাসীদের সঙ্গে ভালো আচরণের পাশাপাশি প্রবাসীদের সেবাপ্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

তিনি বলেন, সবাইকে সুন্দরভাবে সেবা প্রদান করতে হবে। কারো সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই খারাপ আচরণ করা যাবে না। দূতাবাস যেকোনো প্রয়োজনে অভিবাসীদের পাশে রয়েছে।

এদিকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কয়েক লক্ষ বাংলাদেশি বসবাস করছেন। এর মধ্যে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রমঘন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন তারা। এসব প্রবাসীর সেবা প্রদানের জন্য দূতাবাসের পাশাপাশি কয়েকটি প্রবাসী সেবাকেন্দ্র কাজ করছে।

এসব সেবাকেন্দ্র থেকে সপ্তাহে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পাসপোর্ট নবায়ন, রি-ইস্যুসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা দেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে অবস্থিত ১৯টি প্রবাসী সেবাকেন্দ্র থেকেও প্রতিদিন প্রায় কয়েক হাজার অভিবাসীকে পাসপোর্টসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

জানা যায়, সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশিদের প্রয়োজনে দূতাবাসের হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও তথ্য জেনে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। দূতাবাসের হটলাইন নম্বরগুলো হচ্ছে- ৮০০১০০০১২৪ (কনস্যুলার), ৮০০১০০০১২৫ (শ্রম) ও ৮০০১০০০১২৬ (পাসপোর্ট)।

কর্মকর্তারা বলেন, দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রবাসীদের নিয়মিত বিভিন্ন জরুরি বিষয়ে অবহিত করা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

দূতাবাসের সেবা সম্পর্কে যেকোনো অভিযোগ জানানোর জন্য দুটি অভিযোগ জমাদান বাক্স স্থাপন করা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত ড. জাবেদ পাটোয়ারীর এসব উদ্যোগে বেশ আনন্দিত প্রবাসীরা।

এদিকে সৌদি আরবে করোনা ভাইরাস সংক্রমনে এ পর্যন্ত যেসব বাংলাদেশি মারা গেছেন, তাদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। একই সঙ্গে তিনি অভিবাসী বাংলাদেশিদের দ্রুত করোনা ভাইরাসের টিকা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, অভিবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিনামূল্যে করোনা ভাইরাসের চিকিৎসা ও টিকা প্রদান করার জন্য সৌদি সরকারের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

কালের আলো/এমএ/এমএএএমকে

বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরে জাপানিদের আমন্ত্রণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫৬ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরে জাপানিদের আমন্ত্রণ

জাপানি পর্যটকদের বাংলাদেশ ভ্রমণে উৎসাহিত করতে টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘বাংলাদেশ ট্যুরিজম সেমিনার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, প্রত্নতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং পর্যটন খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরে জাপানি ভ্রমণপ্রেমীদের বাংলাদেশ সফরের আহ্বান জানানো হয়।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও ওয়ার্ল্ড এয়ার সি সার্ভিস কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে জাপানের পর্যটন খাতে কর্মরত ব্যক্তি ও ভ্রমণকারীদের প্রায় ৮০ জন অংশ নেন।

সেমিনারে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী বলেন, জাপান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অংশীদার। প্রচলিত খাতের পাশাপাশি পর্যটনের মতো উদীয়মান খাতেও বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বাংলাদেশের সুন্দরবন, কক্সবাজার, টাঙ্গুয়ার হাওর, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ও বাগেরহাটের মতো পর্যটন আকর্ষণগুলোর কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি দেশের হস্তশিল্প, বাউল সংগীতসহ লোকসংস্কৃতির বৈচিত্র্য এবং খাবারের ঐতিহ্যও তুলে ধরেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত জানান, পর্যটকদের নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও দ্রুত ভিসা দেওয়ার মতো বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি জাপানি অতিথিদের বাংলাদেশ ভ্রমণের আহ্বান জানান।

সেমিনারে জাপানের পর্যটন খাতে কর্মরত ও ভ্রমণকারীদের যেকোনো প্রয়োজনে দূতাবাসের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।

ওয়ার্ল্ড এয়ার সি সার্ভিস কোম্পানি লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট ও সিইও ইয়োসুকে কিকুমা বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় জাপানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ পর্যটন খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে।

জাপান-বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে পর্যটন খাতে আরও বিস্তৃত করতে এ সেমিনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

দোভালের ঢাকা সফর নিয়ে মন্তব্যে এড়িয়ে গেলেন দিনেশ ত্রিবেদী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
দোভালের ঢাকা সফর নিয়ে মন্তব্যে এড়িয়ে গেলেন দিনেশ ত্রিবেদী

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সাম্প্রতিক ঢাকা সফর নিয়ে প্রশ্নের মুখে রাজনৈতিক বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানের সঙ্গে বৈঠক করেন দিনেশ ত্রিবেদী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি দোভালের ঢাকা সফর এবং বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

রাজনৈতিক বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আমি কোনো রাজনৈতিক বিষয়ের কথা এখানে বলতে চাই না।’

অজিত দোভালের ঢাকা সফর সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আচ্ছা, এটা তো আমার মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছে ভাই। আমি এখন যেই মন্ত্রণালয়ে দাঁড়িয়ে আছি… এ মন্ত্রণালয়…।’

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রসঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘এ মন্ত্রণালয়টা অদ্ভূত। এ ধরনের একটি মন্ত্রণালয় নিয়ে চিন্তা করাটাই দারুণ বিষয়।’

তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া সৈনিকদের অবদানের কথা তুলে ধরে তাদের প্রতি সম্মান জানানোর গুরুত্বের কথাও বলেন। দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, সৈনিকরা সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ কারণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মন্ত্রণালয়ে সাধারণ মানুষের প্রবেশের সুযোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, মন্ত্রী তাকে জানিয়েছেন, এখানে যে কেউ প্রবেশ করতে পারেন এবং কারও অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রয়োজন নেই। বিষয়টিকে তিনি ‘অদ্ভূত এবং অসাধারণ’ বলে উল্লেখ করেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

কুমেক হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টাই দালালদের তৎপরতা

কুমিল্লা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৬ অপরাহ্ণ
কুমেক হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টাই দালালদের তৎপরতা

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালকে ঘিরে দালালচক্রের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। রোগীকে বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া, নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করানো, নির্দিষ্ট ফার্মেসি থেকে ওষুধ কেনানো এবং অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কমিশনভিত্তিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দালালদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সামনে থেকে চারজনকে আটক করেন আনসার সদস্যরা। তাদের বিরুদ্ধে রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করানো এবং নির্দিষ্ট ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য করার অভিযোগ ছিল।

এরপরও দালালদের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর র‌্যাব-১১ ও জেলা প্রশাসন কুমেক হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় যৌথ অভিযান চালায়। এ সময় ১৪ জনকে আটক করে যাচাই করা হয়। দালালি কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় ১০ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২০ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. শাহজাহান বলেন, দালালদের উৎপাত রোধে আনসার ও হাসপাতালের কর্মীরা সক্রিয় রয়েছেন। প্রয়োজন হলে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতাও নেওয়া হয়। তাঁর দাবি, অভিযান চালিয়ে অনেককে আটক করা হলেও তারা কারাভোগ শেষে আবার হাসপাতালে ফিরে এসে একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি দালাল ও অ্যাম্বুলেন্স প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির মাধ্যমে দালাল প্রতিরোধে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করা হবে।

হাসপাতালের আশপাশের লোকজনের ভাষ্য, দালালদের একটি অংশ সকাল থেকে বিকেল, আরেকটি অংশ বিকেল থেকে রাত এবং অন্য একটি অংশ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত দায়িত্ব ভাগ করে কাজ করে। ফলে হাসপাতালের ২৪ ঘণ্টার কার্যক্রমকে কেন্দ্র করেই তাদের তৎপরতা চলে।

এক আনসার সদস্য জানান, জরুরি বিভাগ ও ক্যাজুয়েলটি থেকে রোগীদের কৌশলে বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা বলে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীদের অভিযোগ, দালালদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে গিয়ে নিরাপত্তাকর্মীসহ কয়েকজনকে হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। প্রতিবাদ করায় রোগীর স্বজনদের বাড়ি ফেরার পথে হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, হাসপাতালে দালালচক্রের ফাঁদ থেকে রোগীদের রক্ষায় পুলিশের নজরদারি রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা চাইলে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি