খুঁজুন
                               
, ,
           

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃত্যু ৯১৯, নিখোঁজ ৪৭০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃত্যু ৯১৯, নিখোঁজ ৪৭০০

হিমালয়ের দেশ নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৯১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন দেশের পর্যটকসহ ৪ হাজার ৭০০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) নেপাল পুলিশের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।

তবে উদ্ধারকাজ এখনো চলমান থাকায় নিহত ও নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা, একই ব্যক্তির নাম একাধিকবার তালিকাভুক্ত হওয়া এবং উদ্ধার হওয়ার পরও অনেকের নাম নিখোঁজের তালিকা থেকে বাদ না পড়ায় বিভিন্ন সংস্থার তথ্যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত হতাহতদের চূড়ান্ত সংখ্যা নিশ্চিত করা কঠিন।

এদিকে উদ্ধার করা অনেক মরদেহের অবস্থা বিকৃত ও পরিচয়হীন হওয়ায় সেগুলো শনাক্ত করতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। শনাক্ত করা সম্ভব না হলে নমুনা সংরক্ষণের পর মরদেহ দাফন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় গণকবর দেওয়ার কাজ শুরু করেছে প্রশাসন।

স্বজনরা মরদেহ শনাক্ত করতে স্কুলের টাই, গয়না, ট্যাটুসহ বিভিন্ন শারীরিক বৈশিষ্ট্যের সহায়তা নিচ্ছেন। এ কারণে মর্গগুলোতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের ভিড়ও বাড়ছে।

রেড ক্রসের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় ৯০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

নতুন বন্যার শঙ্কা

ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যেই নেপালে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হিমালয়ের উঁচু এলাকায় তৈরি হওয়া দুটি ‘বেরিয়ার লেক’ বা জলাধারের ওপর নজর রাখছে প্রশাসন। এর মধ্যে একটি হ্রদের পানি কমলেও অন্যটির আয়তন বাড়ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ফলে নতুন করে পানির চাপ বাড়লে ফের বন্যা ও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে শিশু, প্রবীণ ও আহতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা কমে আসছে।

গত বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে হিমবাহ ধসের পর ত্রিশূলী নদীর উজান অংশে একের পর এক আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এতে নেপালের রসুয়া ও নুয়াকোট জেলার বেশ কয়েকটি জনবসতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একইসঙ্গে চীন-নেপাল সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ কিরং বন্দর এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বন্যায় বহু মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছেন। স্থানীয় নাগরিকদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

কালের আলো/এমএসআইপি

জেজু দ্বীপ: যেখানে পাথর, সমুদ্র আর নারীর সাহস বলে গল্প

ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
জেজু দ্বীপ: যেখানে পাথর, সমুদ্র আর নারীর সাহস বলে গল্প

চলতি বছরের এপ্রিলে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড জার্নালিজম কনফারেন্সে অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়েছিল। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাংবাদিকদের সঙ্গে নতুন ভাবনা, অভিজ্ঞতা ও গল্প বিনিময়ের পর আমাদের পরবর্তী গন্তব্য ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার বিখ্যাত জেজু দ্বীপ।

দ্বীপটিতে পা রাখার পরই এর প্রকৃতি ও সংস্কৃতি মুগ্ধ করে। স্থানীয়ভাবে জেজুকে বলা হয় ‘সামদাদো’—অর্থাৎ ‘তিন অনেকের দ্বীপ’। এখানকার তিনটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—ভূদৃশ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য পাথর, শক্তিশালী নারীদের ঐতিহ্য এবং উপকূলজুড়ে বয়ে চলা প্রবল বাতাস।

জেজুর আগ্নেয়গিরির উৎপত্তির চিহ্ন দ্বীপের প্রায় সর্বত্রই চোখে পড়ে। কোটি কোটি বছর আগে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে গড়ে ওঠা এই দ্বীপে রয়েছে কালো ব্যাসল্ট পাথর, আগ্নেয়গিরির গর্ত এবং সুউচ্চ খাড়া পাহাড়।

এই আগ্নেয় ঐতিহ্য কাছ থেকে দেখার অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান জেজু স্টোন পার্ক। বিশাল এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা এই পার্কের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ‘ডল হারেউবাং’ বা ‘পাথরের দাদু’—আগ্নেয় পাথর দিয়ে তৈরি বিশেষ ভাস্কর্য। শান্ত ও জ্ঞানী অভিব্যক্তির এসব মূর্তি দীর্ঘদিন ধরে জেজুর মানুষ ও ভূমির রক্ষক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

এসব পাথরের মূর্তির পাশে হাঁটতে হাঁটতে মনে হয়, তারা যেন নীরবে দ্বীপটির বহু বছরের ইতিহাসের সাক্ষ্য দিচ্ছে। এগুলো শুধু পুরোনো নিদর্শন নয়; বরং জেজুর মানুষের সংগ্রাম, আধ্যাত্মিকতা এবং প্রকৃতির সঙ্গে গভীর সম্পর্কের গল্পও বলে।

স্টোন পার্কে রয়েছে মনোরম হাঁটার পথ এবং পুরোনো জেজুর বাড়ির পুনর্ব্যবহৃত উপকরণ দিয়ে তৈরি ঐতিহ্যবাহী একটি গ্রাম। খড়ের ছাউনি দেওয়া এসব বাড়ি শুধু জাদুঘরের অংশ নয়, বরং দ্বীপটির অতীত জীবনের একটি জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

এই স্থানটি ‘জিসিউল’ চলচ্চিত্র এবং নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ ‘হোয়েন লাইফ গিভস ইউ ট্যানজারিনস’-এর শুটিং লোকেশন হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। সিরিজটির আরও বেশ কিছু দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে জেজুর গিমনিয়ং উপকূল, হাদো জেলেপল্লি এবং সিওংসান ইলচুলবংয়ের মতো মনোমুগ্ধকর স্থানেও।

জেজু ভ্রমণের অন্যতম শান্ত অভিজ্ঞতা ছিল হানদাম কোস্টাল ট্রেইলে হাঁটা। গওয়াকজি বিচ থেকে হানদাম বিচ পর্যন্ত প্রায় ১ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথটি সমুদ্রের পাশ দিয়ে চলে গেছে। সুন্দরভাবে নির্মিত এই পথটি হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের জন্যও উপযোগী।

হাঁটার সময় এক পাশে বিস্তৃত নীল সমুদ্র, অন্য পাশে কালো আগ্নেয় পাথর। ঢেউয়ের মৃদু শব্দের সঙ্গে মিশে যায় সমুদ্রের বাতাস আর বুনো ফুলের হালকা সুবাস। ব্যস্ত জীবনের কোলাহল থেকে যেন মুহূর্তেই দূরে নিয়ে যায় এই পথ।

অনেক পর্যটককে পথের পাশের ক্যাফেতে বসে কফি পান করতে কিংবা নিরিবিলি পরিবেশে কিছুক্ষণ সময় কাটাতে দেখা যায়। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় উপকূলীয় পথে হাঁটার অভিজ্ঞতা থাকলেও হানদাম ট্রেইলের এই শান্ত ও ঘনিষ্ঠ আবহ একে আলাদা করে তুলেছে।

তবে জেজুর সৌন্দর্য শুধু প্রকৃতিতে সীমাবদ্ধ নয়। দ্বীপটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হলো ‘হেনিয়ো’—শত শত বছর ধরে আধুনিক ডাইভিং সরঞ্জাম ছাড়াই সমুদ্রে ডুব দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসা নারী ডুবুরিরা।

হেনিয়োদের সঙ্গে সরাসরি দেখা না হলেও তাদের ইতিহাস ও জীবনযাপন সম্পর্কে জানার অভিজ্ঞতা গভীরভাবে নাড়া দেয়। ষাটের কোঠা পেরোনো অনেক নারীও ঠান্ডা পানিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডুব দিয়ে সামুদ্রিক শৈবাল, অ্যাবালোন, ঝিনুকসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক সম্পদ সংগ্রহ করেন। এসব সামুদ্রিক সম্পদ জেজুর অর্থনীতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

হেনিয়ো সংস্কৃতিতে প্রকৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও টেকসইভাবে সামুদ্রিক সম্পদ আহরণের চর্চা রয়েছে। পানির নিচ থেকে উঠে আসার সময় তাদের মুখ থেকে বের হওয়া বিশেষ শিস—‘সুমবিসোরি’—সহকর্মী ডুবুরিদের জন্য সংকেত হিসেবে কাজ করে। একই সঙ্গে এই শব্দ জেজুর সমুদ্রজীবনের এক অনন্য সুর হিসেবেও পরিচিত।

হেনিয়ো সংস্কৃতিকে ইউনেস্কো বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ‘অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। নেটফ্লিক্সের ‘হোয়েন লাইফ গিভস ইউ ট্যানজারিনস’ সিরিজেও তাদের জীবন, সংগ্রাম ও অবদানের গল্প তুলে ধরা হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে এই নারীদের সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি করেছে।

জেজু দ্বীপ তাই শুধু একটি পর্যটন গন্তব্য নয়। এখানে প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও ইতিহাস এমনভাবে একে অপরের সঙ্গে মিশে আছে, যা ভ্রমণকারীকে থেমে ভাবতে শেখায়। প্রাচীন পাথরের মাঝে হাঁটা, হানদাম ট্রেইলে সমুদ্রের নোনা বাতাস অনুভব করা কিংবা হেনিয়ো নারীদের সাহস ও সংগ্রামের গল্প শোনা—এসব অভিজ্ঞতা দ্বীপ ছেড়ে আসার পরও মনে থেকে যায়।

অ্যাডভেঞ্চার, প্রশান্তি কিংবা সংস্কৃতির গভীরে যাওয়ার অভিজ্ঞতা—যে কারণেই ভ্রমণ করা হোক, জেজু তার নিজস্ব সৌন্দর্য ও গল্প দিয়ে পর্যটককে আকর্ষণ করে। দ্বীপটি মনে করিয়ে দেয়, শক্তি অনেক সময় লুকিয়ে থাকে টিকে থাকার ক্ষমতায়; পাথর ও সমুদ্রও গল্প বলতে পারে। আর কখনো কখনো সামনে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে সুন্দর উপায় হলো একটু থেমে যাওয়া।

কালের আলো/এসএ

বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে সম্পর্ক বাড়াতে চায় ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০২ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে সম্পর্ক বাড়াতে চায় ভারত

অতীতে আটকে না থেকে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে সম্পর্ক বাড়াতে চায় ভারত। বিষয়টি জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। পরে সাক্ষাৎ নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারতের হাইকমিশনার বলেন, ‘দু’দেশের মধ্যে চ্যালেঞ্জ থাকবে, তবে সেসব চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। অতীতকে ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু অতীতে আটকে থাকলে উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।’

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। আজকের সাক্ষাতে মিলেমিশে কাজ করার বিষয়ে কথা হয়েছে।’

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যা হয়, সেটি নিয়ে কিছু বলতে চাই না এবং বলা উচিতও নয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নির্বাচিত সরকারই জনগণের জন্য কোনটি ভালো, তা ভালোভাবে বুঝবে।’

দু’দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, ‘জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আমরা সবসময় চাই। আমরা যা সিদ্ধান্ত নিই, তার প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে। সাধারণ মানুষের যেন ভালো হয়, সেজন্য আমাদের দায়িত্ব আছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বলি, সীমান্তের সঙ্গে আমরা স্বপ্নও শেয়ার করি। সেজন্য প্রতিবেশী হিসেবে দায়িত্ব বেড়ে যায়। আমরা সমান। কেউ বড় কিংবা ছোট নই।’

বাংলাদেশ ও ভারতের সামনে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ থাকবেই। আমাদের দেখতে হবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জ কী? বাংলাদেশেরও দেখতে হবে ভারতের কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে। চ্যালেঞ্জগুলো মাথায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে।’

অতীতের সম্পর্ক ও ঘটনাপ্রবাহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অতীত আমরা ভুলতে পারি না, কিন্তু অতীতে আটকে যাওয়ারও কোনো জায়গা নেই। অতীতে আটকে গেলে উন্নয়নের কাজ হবে না।’

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নাগরিকত্ব যাচাই চেয়ে আইনি নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪২ অপরাহ্ণ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নাগরিকত্ব যাচাই চেয়ে আইনি নোটিশ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বিদেশি নাগরিকত্ব, অন্য দেশের প্রতি আনুগত্য এবং তাদের শপথ গ্রহণের সাংবিধানিক বৈধতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আসলাম মিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই নোটিশ পাঠান।

নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে এ বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব না পেলে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, আইন সচিব, পররাষ্ট্র সচিব এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

আইনজীবী আসলাম মিয়া দাবি করেছেন, সংবিধানের ৫৬, ৬৬ ও ১৪৮ অনুচ্ছেদ এবং তৃতীয় তফসিলের আলোকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নিয়োগ, যোগ্যতা এবং নাগরিকত্বের বিষয়টি যাচাই করা অপরিহার্য।

নোটিশে সংবিধানের ৬৬(১) অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করে বলা হয়, ২৫ বছর বয়সী যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য। তবে ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন কিংবা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করেন, তবে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে অযোগ্য বিবেচিত হতে পারেন।

অবশ্য ৬৬(২এ) অনুচ্ছেদে জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের পর সাংবিধানিক অবস্থানের যে বিশেষ বিধান রয়েছে, সেটিও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাগরিকত্বের বর্তমান আইনগত অবস্থা ও ইতিহাস পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন বলে দাবি করা হয়।

চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ড. খলিলুর রহমান। নোটিশে তার ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বিষয়ে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

নোটিশে উত্থাপিত প্রশ্নগুলো হলো-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বর্তমানে বাংলাদেশের নাগরিক কিনা? তারা কখনো কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছিলেন কিনা?

বর্তমানে বা অতীতে কোনো বিদেশি পাসপোর্ট ধারণ করেছেন কিনা? কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের শপথ বা ঘোষণা দিয়েছিলেন কি না? এবং বিদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে থাকলে তা নিয়ম অনুযায়ী কবে ত্যাগ করেছেন?

নোটিশে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শপথ গ্রহণের সময় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর বাংলাদেশের প্রতি সত্যিকারের বিশ্বাস ও আনুগত্য এবং সংবিধান রক্ষার অঙ্গীকার করতে হয়। বিদেশি নাগরিকত্ব বা আনুগত্য থাকলে এই শপথের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

আইনজীবী আসলাম মিঞা জানান, এই নোটিশটি কোনো চূড়ান্ত অভিযোগ নয়; বরং নাগরিকদের মনে ওঠা প্রশ্ন সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করার একটি প্রক্রিয়া।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুই মন্ত্রীর পাসপোর্ট, নাগরিকত্ব ত্যাগ ও গ্রহণ সংক্রান্ত যাবতীয় নথি পরীক্ষার আহ্বান জানিয়ে নোটিশে বলা হয়, যদি কোনো সাংবিধানিক অযোগ্যতা পাওয়া যায়, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আর অযোগ্যতা না থাকলে তাদের পদে বহাল থাকার আইনি ভিত্তি স্পষ্ট করতে হবে।

সাত দিনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না পাওয়া গেলে বা বিষয়টি অনিষ্পন্ন থাকলে সংবিধান ও আইনের আলোকে উচ্চ আদালতে প্রতিকার চাওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ