খুঁজুন
                               
, ,
           

ক্যাম্পাসহীন বিশ্ববিদ্যালয়: ভবন আছে, পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাঙ্গন নেই

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ণ
ক্যাম্পাসহীন বিশ্ববিদ্যালয়: ভবন আছে, পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাঙ্গন নেই

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি ভাড়া ভবনে চলছে ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি বাংলাদেশের (ইউএফটিবি) শিক্ষা কার্যক্রম। প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে আরেকটি ভবনে চলছে ক্লাস, মাঝামাঝি তৃতীয় ভবনে প্রশাসনিক কাজ। প্রযুক্তি খাতের বিশেষায়িত এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম ছড়িয়ে আছে ছোট তিনটি ভাড়া ভবনে। ইউএফটিবির এই চিত্র আসলে দেশের উচ্চশিক্ষার বড় একটি সমস্যার প্রতিচ্ছবি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস নেই। পাঁচটিতে এখনো শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়নি; অন্যগুলোতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকলেও পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাস নেই। প্রশ্ন উঠছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত না করেই কেন একের পর এক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হলো?

ক্যাম্পাসের আগে ক্লাস
এই ২৫ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪টির অনুমোদন দেওয়া হয় ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অনুমোদন পায় ২০২৫ সালে। তালিকায় রয়েছে ছয়টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, তিনটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চারটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি বিশেষায়িত ও সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়। অধিকাংশের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মধ্যে। অর্থাৎ কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে থাকার সময় এক দশক পর্যন্ত গড়িয়েছে। কোথাও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন ব্যবহার করা হচ্ছে, কোথাও ভাড়া বাড়ি, আবার কোথাও একাধিক স্থাপনায় ভাগ হয়ে আছে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি নির্ধারণ হলেও নির্মাণ শেষ হয়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণও শুরু হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়-পরিবেশ নেই
শিক্ষা কার্যক্রম চালু থাকা ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী আট হাজারের কিছু বেশি। অধিকাংশ চলছে মাত্র দুই থেকে সাতটি বিভাগ নিয়ে। সব বিশ্ববিদ্যালয়ে অবশ্য সরাসরি স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী নেই। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি এবং কয়েকটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অন্য প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়। কিন্তু যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি শিক্ষার্থী পড়ছে, তাদের জন্য সংকটটি স্পষ্ট। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন শুধু শ্রেণিকক্ষ নয়—গবেষণাগার, গ্রন্থাগার, ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ, খেলার মাঠ, আবাসন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর একাডেমিক মিথস্ক্রিয়ার পরিবেশ। বিশেষ করে প্রযুক্তি, কৃষি ও এভিয়েশন শিক্ষার মতো ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ল্যাব ও ব্যবহারিক অবকাঠামো ছাড়া মানসম্মত শিক্ষা কতটা সম্ভব, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।

পাঁচটির এখনো যাত্রাই হয়নি
মেহেরপুর, বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়া চলছে। নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দুটি বিভাগ খোলার অনুমোদন পায় এবং ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি সম্পন্ন করেছে। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির কার্যক্রমও অস্থায়ী ব্যবস্থায় শুরু হয়েছে। অর্থাৎ স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রস্তুত না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক যাত্রা থেমে থাকছে না। এতে দ্রুত উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হলেও ভবিষ্যৎ অবকাঠামোর প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে।

ভাড়ার পেছনে সরকারি অর্থ
অস্থায়ী ক্যাম্পাসের আর্থিক চাপও কম নয়। খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে ভ্যাট ও কর বাদে প্রায় ৮ লাখ ২১ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে। বছরের পর বছর ভাড়া দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে একাধিক ভবন পরিচালনা, যাতায়াত, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার বাড়তি ব্যয়। সাময়িক সমাধান তাই দীর্ঘমেয়াদে সরকারি অর্থের স্থায়ী ব্যয়ে পরিণত হচ্ছে।

কোথাও জমি আছে, ক্যাম্পাস নেই
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর একটি উদাহরণ। ২০২০ সালে আইন পাসের পর ২০২২ সালে উপাচার্য নিয়োগ এবং ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু স্থায়ী ক্যাম্পাসের জায়গায় এখনো পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলছে ভাড়া করা ভবনে। অন্যদিকে, নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ এগোলেও প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং কয়েকটি বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম এখনো অস্থায়ী ক্যাম্পাসনির্ভর। বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী প্রায় এক হাজার। ইউএফটিবিতেও শিক্ষার্থী ৯২৮ জন, শিক্ষক ৪১ জন, কর্মকর্তা ৩৬ এবং কর্মচারী ৫২ জন। ইতিমধ্যে দুটি ব্যাচ পড়াশোনা শেষ করে বেরিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য ৫০ একর জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং স্থায়ী অবকাঠামোর জন্য ৮০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রকল্প প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন।

দায়ের জায়গা, সমাধানের পথ
এই বাস্তবতা কোনো এক বছরের সিদ্ধান্তের ফল নয়। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর আইন, উপাচার্য, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ এবং শিক্ষার্থী ভর্তি—সবই এগিয়েছে; কিন্তু ক্যাম্পাস নির্মাণ পিছিয়ে থেকেছে। ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেছেন, এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার অনেক আগেই হয়েছে এবং প্রায় সবগুলোরই শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। এখন দ্রুত এগুলোকে নিয়মকানুনের মধ্যে আনা এবং ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগে জমি, অর্থায়ন, মাস্টারপ্ল্যান ও অবকাঠামোর বাস্তব অগ্রগতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর জন্যও ন্যূনতম একাডেমিক ও গবেষণা অবকাঠামোর বাধ্যতামূলক মানদণ্ড থাকা উচিত। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা মানে শুধু একটি আইন পাস কিংবা উপাচার্য নিয়োগ নয়। একটি বিশ্ববিদ্যালয় তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তার শিক্ষার্থীদের জন্য থাকে নিজস্ব শিক্ষাঙ্গন, গবেষণার পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ গড়ার মতো প্রয়োজনীয় অবকাঠামো।

কালের আলো/এম/এএইচ

ক্যালিফোর্নিয়ায় ছিল রাশিয়ার উপনিবেশ, আজও দাঁড়িয়ে ফোর্ট রস

ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
ক্যালিফোর্নিয়ায় ছিল রাশিয়ার উপনিবেশ, আজও দাঁড়িয়ে ফোর্ট রস

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে আজও দাঁড়িয়ে আছে রাশিয়ার এক বিস্মৃত উপনিবেশের স্মৃতি—ফোর্ট রস। ১৮১২ থেকে ১৮৪২ সাল পর্যন্ত প্রায় ৩০ বছর এই অঞ্চলের একটি অংশ রুশ সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল। সেই সময় এটি ‘রাশিয়ান আমেরিকা’র অংশ হিসেবে পরিচালিত হতো। সোনোমা থেকে সান ফ্রান্সিসকোর দিকে প্রায় দুই ঘণ্টার পথ এগোলেই দেখা মেলে ছোট্ট একটি অর্থোডক্স গির্জা ও কাঠের দুর্গসদৃশ স্থাপনার। রুশ ভাষায় যার নাম ‘ক্রেপস্ত রস’।

আলাস্কার খাদ্যসংকট থেকেই ক্যালিফোর্নিয়ায় রুশদের আগমন

১৬০০ ও ১৭০০-এর দশকে রুশ পশম ব্যবসায়ীরা সাইবেরিয়া পেরিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে পৌঁছান। পরে আলাস্কায় রুশ বসতি গড়ে ওঠে। তবে সেখানে কৃষিকাজ কঠিন হওয়ায় খাদ্যসংকট ছিল বড় সমস্যা। ১৮০৬ সালে রুশ-আমেরিকান কোম্পানির পরিচালক নিকোলাই রেজানোভ সান ফ্রান্সিসকো উপসাগরে আসেন। আলাস্কার খাদ্যসংকট মোকাবিলায় ক্যালিফোর্নিয়ার উষ্ণ ও কৃষির উপযোগী পরিবেশ তাঁকে আকৃষ্ট করে। এরপর উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় স্থায়ী ঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনা নেয় রুশরা। ১৮১২ সালে তৈরি হয় ফোর্ট রস। শুরুতে সেখানে ২৫ জন রুশ ও প্রায় ৮০ জন স্থানীয় আলাস্কান শিকারি ছিলেন।

বহুজাতিক জনপদে পরিণত হয়েছিল ফোর্ট রস

সময়ের সঙ্গে ফোর্ট রস শুধু সামরিক ঘাঁটি না থেকে বহুজাতিক বাণিজ্যিক ও উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত হয়। ১৮৩০-এর দশকে সেখানে প্রায় ৪০০ মানুষ বসবাস করতেন। রুশ ও আলাস্কানদের পাশাপাশি স্থানীয় কাশায়া পোমো ও কোস্ট মিউক জনগোষ্ঠীর মানুষও সেখানে বসবাস করতেন। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিয়ে ও পারিবারিক সম্পর্কও গড়ে উঠেছিল। ফিনল্যান্ড ও হাওয়াই থেকেও দক্ষ কারিগরেরা সেখানে কাজ করতে আসতেন।

জাহাজ, কাচ ও ইট তৈরির কেন্দ্র

ফোর্ট রসে কৃষির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের উৎপাদন কর্মকাণ্ড চলত। এখানে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রথম সমুদ্রগামী জাহাজ নির্মিত হয়। তৈরি করা হতো ইট ও কাচ। ছিল বাতাসচালিত কলও। ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়াইন শিল্পের ইতিহাসেও ফোর্ট রসের নাম রয়েছে। ১৮১৭ সালে বর্তমান সোনোমা কাউন্টিতে রুশরা প্রথম আঙুরগাছ রোপণ করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় আঙুর দিয়ে তারা অল্প পরিমাণে ওয়াইনও তৈরি করত।

কেন টিকল না রুশ উপনিবেশ?

বাণিজ্যিক ও কৃষি কর্মকাণ্ড চললেও ফোর্ট রস শেষ পর্যন্ত রুশদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। এটি যথেষ্ট লাভজনক হয়ে ওঠেনি এবং আলাস্কার বসতিগুলোতেও পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। অতিরিক্ত শিকারের কারণে সমুদ্রভোঁদড়ের সংখ্যা কমে যায়। পাশাপাশি উপকূলের কুয়াশা ও ইঁদুরের উপদ্রবে কৃষি উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত হয়। ১৮৩৯ সালে হাডসনস বে কোম্পানি রুশ আলাস্কায় খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহে রাজি হলে ক্যালিফোর্নিয়ায় রুশ কৃষি ও উৎপাদনকেন্দ্র রাখার প্রয়োজন আরও কমে যায়। ১৮৪১ সালে সুইস অভিবাসী জন সাটার রুশদের কাছ থেকে ফোর্ট রসের ভবন ও অন্যান্য সম্পদ কিনে নেন। এর মধ্য দিয়েই ক্যালিফোর্নিয়ায় রুশ উপনিবেশের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।

ইতিহাসের পাতায় রয়ে গেছে রুশদের ছাপ

রুশরা চলে গেলেও ফোর্ট রস ও আশপাশের অঞ্চলে তাদের উপস্থিতির চিহ্ন রয়ে গেছে। সান ফ্রান্সিসকোর রুশ হিল, রুশ রিভার ও বডেগা বে—এসব নামেও সেই ইতিহাসের প্রতিফলন দেখা যায়। আজ ফোর্ট রস তুলনামূলক নির্জন হলেও কাঠের দুর্গ, অর্থোডক্স গির্জা ও পুরোনো স্থাপনাগুলো ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাসের এক বিস্মৃত অধ্যায়ের সাক্ষী হয়ে আছে। প্রায় দুই শতাব্দী আগে ক্যালিফোর্নিয়ার এই উপকূলে রাশিয়ার যে ছোট্ট উপনিবেশ গড়ে উঠেছিল, তার গল্প আজও ইতিহাসপ্রেমীদের কাছে এক বিস্ময়কর অধ্যায়।

কালের আলো/এসএ

বিরোধী দল সেজে সংসদে থাকার দরকার নাই: রুমিন ফারহানা

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৯ অপরাহ্ণ
বিরোধী দল সেজে সংসদে থাকার দরকার নাই: রুমিন ফারহানা

হাজারো প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া নতুন সংসদে যদি ন্যূনতম কোনো পরিবর্তন না ঘটে, তবে বিরোধী দল সেজে শুধু ‘না’ ভোট দেওয়ার জন্য এই সংসদে থাকার কোনো দরকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

একই সঙ্গে মহান সংসদে অন্য সংসদ সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও অসহিষ্ণু আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিল, ২০২৬’-এর ওপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

আগের দিন সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, বিলের ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে গতকালকে আমি যেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, তাতে এই সংসদে কোনো ভিন্নমত তোলা যায় বলে আমার মনে হয় নাই। আমি কথা বলার পরে সংসদে যে ধরনের আচরণ লক্ষ্য করেছি, সেটা কোনো গণতান্ত্রিক দেশের সংসদে হয় না।

আমার কথার বিপরীতে কিছু বলার থাকলে সেটা দাঁড়িয়ে বলা যেত, বক্তব্য শেষ করার পরে বলা যেত। শুধু তাই নয়, এই মহান সংসদে আমারই আশেপাশের সংসদ সদস্যগণ অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেছেন।
এটা কোনো সংসদীয় রীতিনীতির মধ্যে পড়ে না
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, আমি এই সংসদে বাকস্বাধীনতার পক্ষে। আমি কামনা করি এবং আশা করব প্রত্যেক সদস্য, তিনি সরকারি দলের বা বিরোধী দলের হোন, তার বক্তব্যের সময় প্রতিপক্ষ থেকে কোনো ধরনের বাধা প্রদান করা হবে না। গতকাল যা হওয়ার হয়ে গেছে, আমরা ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে চাই।

স্পিকারের কাছ থেকে সময় নিয়ে রুমিন ফারহানা তার ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, একটি সংসদে সরকারি দল থাকবে, বিরোধী দল থাকবে, স্বতন্ত্র সদস্য থাকবেন। একেকজনের মত একেক রকম হতে পারে এবং তা প্রকাশের স্বাধীনতা সবার থাকা উচিত। ২০১৮ সালের সংসদে যখন আমি একা দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগের সংসদে বিএনপির পক্ষে কথা বলেছিলাম, তখনও আমাকে এই জঘন্য পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এরপর কয়েক হাজার মানুষের প্রাণের বিনিময়ে আমরা ভোটের মাধ্যমে সংসদ আনলাম। সেখানে যদি ন্যূনতম কোনো পরিবর্তন না ঘটে, তাহলে এই সংসদে বিরোধী দল সেজে শুধু না-তে ভোট দেয়ার জন্য থাকার কোনো দরকার আছে বলে আমি মনে করি না।

এরপর তিনি বিলের ওপর আলোচনায় গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রসঙ্গে কথা বলেন। বিলুপ্ত হওয়া র‍্যাব ও নতুন বাহিনী গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নতুন যে সংস্থা আমরা করতে যাচ্ছি, সেটি যেন কেবলমাত্র পোশাক ও নাম পরিবর্তনের মতো ঘটনা না হয়।

এ সময় স্পিকার তাকে মনে করিয়ে দেন যে, র‍্যাব বাতিলের বিলটি আগেই পাস হয়ে গেছে, এখন এপিবিএন বিল নিয়ে আলোচনা চলছে।

জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমার একই প্রস্তাবনা থাকবে। বিগত দিনে আমরা যেভাবে মানুষকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা হেনস্তা, নির্যাতিত ও ভীত হতে দেখেছি, ভবিষ্যতে আর কোনো সংস্থার এমন আচরণ চাই না। বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে যাত্রা করেছে। আমি আশা করব, সংসদে উপস্থিত দলগুলো গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে। পুলিশ বাহিনী বা অন্য কোনো রাষ্ট্রীয় বাহিনী যেন নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে, দলীয়করণ ও প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ পরিচালনা করতে পারে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সরকার সেই ব্যাপারটি দেখবে।

কালের আলো/এমআর

সিলেটে ৫১ লাখ টাকার চোরাচালানের পণ্য জব্দ

সিলেট প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
সিলেটে ৫১ লাখ টাকার চোরাচালানের পণ্য জব্দ

সিলেটে ভারত সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫১ লাখ ৯০ হাজার ১০০ টাকা মূল্যের চোরাচালানের পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) আওতাধীন কালাইরাগ, সংগ্রাম, প্রতাপপুর, দমদমিয়া, শ্রীপুর, বিছনাকান্দি, পান্থুমাই, তামাবিল, সোনারহাট ও নোয়াকোট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে বিপুল পরিমাণ মহিষ, গরু, শাড়ি, মেহেদি, জিরা, চকলেট, কম্বল, সুপারি, বিস্কুট, মদ, বিয়ারসহ নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত বারকি নৌকা জব্দ করা হয়। এসব পণ্যের আনুমানিক সিজারমূল্য ৫১ লাখ ৯০ হাজার ১০০ টাকা।

বিজিবির সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক মো. নাজমুল হক জানান, সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা সর্বাত্মকভাবে অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এসব চোরাচালানের পণ্য জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত পণ্যের বিষয়ে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ