খুঁজুন
                               
, ,
           

ঐতিহ্য আছে, জিআই স্বীকৃতিও আছে; নেই মান রক্ষার উদ্যোগ

নাটোর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৩ অপরাহ্ণ
ঐতিহ্য আছে, জিআই স্বীকৃতিও আছে; নেই মান রক্ষার উদ্যোগ

প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি নাটোরের কাঁচাগোল্লা। স্বাদ ও ঐতিহ্যের কারণে দেশজুড়ে রয়েছে এর ব্যাপক চাহিদা। ২০২৩ সালের ৮ আগস্ট দেশের ১৭তম জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায় নাটোরের কাঁচাগোল্লা। তবে জিআই স্বীকৃতির পরও এই মিষ্টির মান সংরক্ষণ ও উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। এ সুযোগে নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তৈরি ভেজাল মিষ্টিকে কাঁচাগোল্লা নামে বিক্রির অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রশাসনের কার্যক্রম মূলত বছরে এক দিনের উদ্বুদ্ধকরণ সভা ও বিচ্ছিন্ন কিছু অভিযানের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার আশায় কাঁচাগোল্লার নামে নিম্নমানের মিষ্টি বাজারজাত করছেন। বিশেষ করে নাটোর বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও বিভিন্ন পরিবহনে ময়দার তৈরি লাড্ডুকে কাঁচাগোল্লা হিসেবে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রকৃত কাঁচাগোল্লার স্বাদ থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা।

ঐতিহ্যের দীর্ঘ ইতিহাস

জনশ্রুতি অনুযায়ী, সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি নাটোরের লালবাজারে মধুসূদন পালের দোকানে কাঁচাগোল্লার উৎপত্তি। ১৭৫৭ সাল থেকে এটি ব্যাপক পরিচিতি পেতে শুরু করে। একদিন কারিগর না আসায় বিপুল পরিমাণ ছানা নষ্ট হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে চিনির রসে বেশি সময় জ্বাল দেওয়ার পর ভিন্ন স্বাদের যে মিষ্টি তৈরি হয়, সেখান থেকেই কাঁচাগোল্লার প্রচলন বলে স্থানীয়দের ধারণা।

কাঁচা ছানা দিয়ে তৈরি হওয়ায় এর নাম হয় ‘কাঁচাগোল্লা’। প্রচলিত গোলাকার মিষ্টির মতো দেখতে না হলেও ঝরঝরে ও হালকা রসাল হওয়াই এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। রানী ভবানীর শাসনামলে নাটোরের এই মিষ্টির সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলে। রাজপরিবারের অতিথিদেরও কাঁচাগোল্লা দিয়ে আপ্যায়ন করা হতো বলে জানা যায়।

কমছে বিক্রি, বাড়ছে ভেজালের অভিযোগ

ঐতিহ্যবাহী জয়কালী বাড়ি মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী রবীন্দ্র নাথ কুন্ডু বলেন, ‘১৯৮০ সাল থেকে আমি দোকানে বসছি। একসময় আমরা প্রতিদিন কয়েক মণ মিষ্টি বিক্রি করেছি। এখন দিনে এক মণও হয় না। মানসম্পন্ন কারিগরের অভাব এবং বাজারের বর্তমান অবস্থায় আমরা শুধু বাপ-দাদার আমলের সুনাম ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রকৃত কাঁচাগোল্লার সঙ্গে নিম্নমানের মিষ্টির পার্থক্য না জানায় অনেক ক্রেতাই প্রতারিত হচ্ছেন। এতে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী পণ্যটির সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

জড়িত শত শত পরিবার

কাঁচাগোল্লাকে ঘিরে নাটোরের স্থানীয় অর্থনীতিতেও রয়েছে বড় ধরনের কর্মসংস্থান। জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক দোকানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক হাজার কেজি কাঁচাগোল্লা বিক্রি হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা।

নিচাবাজারের মৌচাক মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, লালবাজারের জয়কালী বাড়ি এবং নাটোর রেলস্টেশনের ঘোষ মিষ্টান্ন দোকানে কাঁচাগোল্লার বেচাকেনা বেশি। খামারি ও দুধ বিক্রেতা থেকে শুরু করে ছানা প্রস্তুতকারী, কারিগর, দোকানি ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে এই ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শত শত পরিবার যুক্ত।

রপ্তানির উদ্যোগ নেই

দেশজুড়ে পরিচিতি থাকলেও কাঁচাগোল্লাকে আন্তর্জাতিক বাজারে নেওয়া কিংবা বিদেশে রপ্তানির জন্য এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ।

নাটোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মো. আব্দুল মান্নাফ বলেন, ‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আমাদের দেশে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রশাসন এগিয়ে না এলে কোনো কাজ সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব নয়। ব্যক্তি উদ্যোগে এটি সম্ভব নয়। রপ্তানিমুখী বাজারজাত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ প্রয়োজন।’

ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাঁচাগোল্লার ঐতিহ্য ও মান ধরে রাখতে নিয়মিত বাজার তদারকি, মান নিয়ন্ত্রণ, দক্ষ কারিগর তৈরি এবং উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জিআই পণ্যের স্বীকৃত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী কাঁচাগোল্লা উৎপাদন ও বাজারজাত নিশ্চিত করা গেলে এই খাত আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এসব বিষয়ে নাটোরের জেলা প্রশাসক মোছা. সুমনী আক্তারের মন্তব্য জানতে ফোন করা হলে তিনি ব্যস্ত থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

কালের আলো/এমএসআইপি 

এলএনজি ট্রান্সফার শুরু, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
এলএনজি ট্রান্সফার শুরু, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি

কক্সবাজারের মহেশখালী ভাসমান টার্মিনালে কার্গো থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থানান্তর শুরু হওয়ায় দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহেশখালী ভাসমান টার্মিনালে কার্গো থেকে এলএনজি স্থানান্তর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর ফলে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে এবং স্বাভাবিক সরবরাহ ফিরতে শুরু করেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মহেশখালী এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আমদানিকৃত এলএনজি কার্গো থেকে ভাসমান টার্মিনালে গ্যাস স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় বিঘ্নের কথা জানিয়েছিল পেট্রোবাংলা। এর প্রভাবে সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কিছুটা কমে যায়।

পেট্রোবাংলা জানিয়েছিল, বঙ্গোপসাগরের আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। আবহাওয়ার উন্নতির পর এখন এলএনজি স্থানান্তর কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ায় সরবরাহ পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হওয়ার পথে রয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

জাতিসংঘকে ভবিষ্যৎ উপযোগী করতে সংস্কারের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১০ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘকে ভবিষ্যৎ উপযোগী করতে সংস্কারের আহ্বান

জাতিসংঘ নিখুঁত নয়, তবে এটি অপরিহার্য এবং এর কোনো বিকল্প অকল্পনীয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পোস্টে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, জাতিসংঘের কোথায় কোথায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তা চিহ্নিত করতে হবে। যেসব বিষয় বর্তমানে কার্যকর নয়, সেগুলোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনতে হবে।

তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের আলোচনায় শিল্পখাতের নেতা থেকে শুরু করে তরুণ পরিবর্তনকারীদের মতো আরও বেশি কণ্ঠকে যুক্ত করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে জাতিসংঘের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি বলেন, ‘আস্থা চাওয়া যায় না, এটি অর্জন করতে হয়।’

তিনি আরও বলেন, এবারের অধিবেশন এমন একটি জাতিসংঘ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করেছে, যা কঠিন বাস্তবতা মোকাবিলায় যথেষ্ট বাস্তববাদী, সংস্কারের জন্য সাহসী এবং প্রয়োজনীয় অংশীজনদের অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে উন্মুক্ত।

ড. খলিলুর রহমানের মতে, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও বৃহত্তর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই জাতিসংঘকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও উপযোগী করে তোলা সম্ভব।

কালের আলো/এমএসআইপি 

১০০ কোটির প্রকল্প, ৯৮% টাকা খরচ—তবু ঘাটতি সেবায়

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০৭ অপরাহ্ণ
১০০ কোটির প্রকল্প, ৯৮%  টাকা খরচ—তবু ঘাটতি সেবায়

প্রকল্প শেষ। বরাদ্দের প্রায় পুরো টাকাও খরচ। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে গেছে সেবার ফলাফল নিয়ে। সুবিধাবঞ্চিত নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবা নিশ্চিত করতে নেওয়া প্রায় ১০০ কোটি টাকার প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৯৫ কোটি ২ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। অর্থাৎ সংশোধিত বরাদ্দের ৯৭ দশমিক ৮ শতাংশই খরচ হয়েছে। অথচ সব সেবা পৌঁছেনি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায়।

  • ২১ জেলার নারী-শিশুর স্বাস্থ্য প্রকল্পে পুষ্টি ও শিশুসেবার কয়েকটি সূচক ৭০–৮৬ শতাংশে
  • পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা ও সরঞ্জাম ব্যবহারে উঠে এসেছে দুর্বলতা

বিশেষ করে শিশু ও পুষ্টিসেবার কয়েকটি সূচকে প্রকল্পের অর্জন নেমে এসেছে ৮৫ দশমিক ৬, ৭৬ দশমিক ৮ ও ৬৯ দশমিক ৬ শতাংশে। বিপরীতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার কিছু সূচকে অর্জন ৯৯ শতাংশ ছাড়িয়েছে। ফলে প্রকল্পের আর্থিক বাস্তবায়ন প্রায় পূর্ণ হলেও সেবার ফলাফলে তৈরি হয়েছে স্পষ্ট বৈষম্য।

৫০ লাখ মানুষের জন্য, ফল একরকম নয়
২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত চলা ‘২১টি জেলার সুবিধাবঞ্চিত নারী ও শিশুর প্রাথমিক স্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবা প্রদান’ প্রকল্পের আওতায় আট বিভাগের ২১ জেলার প্রায় ৫০ লাখ মানুষকে সেবা দেওয়ার লক্ষ্য ছিল।

আইএমইডির প্রভাব মূল্যায়নে দেখা গেছে, গর্ভকালীন সেবা গ্রহণের হার ৮৯ দশমিক ৮ শতাংশ এবং প্রসব-পরবর্তী সেবা গ্রহণের হার ৮৭ দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থাৎ নারীস্বাস্থ্যসেবার কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি থাকলেও শিশু ও পুষ্টির ক্ষেত্রে একই গতি ধরে রাখা যায়নি।

মূল্যায়নে ৭২০ জনের ওপর জরিপ করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৪৮০ জন ছিলেন প্রকল্পের সেবাগ্রহীতা এবং ২৪০ জন তুলনামূলক গোষ্ঠীর সদস্য। পাশাপাশি নেওয়া হয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যদাতার সাক্ষাৎকার, দলীয় আলোচনা ও কেস স্টাডি।

অর্থনৈতিক লাভ আছে, ব্যবস্থাপনায় ফাঁকও আছে
প্রকল্পের অর্থনৈতিক হিসাবে অবশ্য চিত্র ইতিবাচক। অর্থনৈতিক সুবিধা-ব্যয় অনুপাত ৩ দশমিক ৭০ এবং অর্থনৈতিক অভ্যন্তরীণ মুনাফার হার ৭৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। আর্থিক সুবিধা-ব্যয় অনুপাত ১ দশমিক ২৩২ এবং আর্থিক অভ্যন্তরীণ মুনাফার হার ১৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

কিন্তু আইএমইডির মূল্যায়নে অর্থের বাইরে উঠে এসেছে প্রকল্প ব্যবস্থাপনার একাধিক দুর্বলতা। অনুমোদনের আগে যথাযথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা হয়নি। বড় প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালকও শুরু থেকে পাওয়া যায়নি।

দুই বছর অতিরিক্ত দায়িত্বে প্রকল্প পরিচালক
২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত উপসচিব ড. আবুল হোসেন অতিরিক্ত দায়িত্বে প্রকল্প পরিচালকের কাজ করেন। পরে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত একই দায়িত্ব পালন করেন যুগ্ম সচিব মো. মাহমুদ আলী।

৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রকল্পে পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের সরকারি নির্দেশনা থাকলেও এই প্রকল্পে দীর্ঘ সময় তা হয়নি। আইএমইডির মতে, এতে প্রকল্প পরিচালনায় প্রয়োজনীয় মনোযোগ ও সমন্বয় ব্যাহত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

পরিকল্পনায় সেপ্টেম্বর, দরপত্রে মার্চ
প্রকল্পের ক্রয় পরিকল্পনায় ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে দরপত্র আহ্বানের কথা ছিল। বাস্তবে তা করা হয় ২০১৯ সালের মার্চে। ছয় মাসের এই বিলম্বের প্রভাব পড়ে পরবর্তী ক্রয় ও বাস্তবায়ন কার্যক্রমেও। চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার সরঞ্জাম কিনতে ব্যয় হয় ১৫ কোটি ১২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। কেনা হয় ৪ হাজার ৫০৮টি সরঞ্জাম। ১২টি জেলার জন্য ১২টি অ্যাম্বুলেন্স কিনতে খরচ হয় আরও ৫ কোটি ৪ লাখ টাকা।

তবু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় কিছু এক্স-রে মেশিনসহ সরঞ্জাম পুরোপুরি স্থাপন ও চালু করা যায়নি। অবকাঠামো ও কারিগরি প্রস্তুতির ঘাটতিকেই এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অডিট আপত্তিতেও প্রায় ২৮ লাখ টাকা
প্রকল্পের শেষ অর্থবছর ২০২০-২১-এ ২৮ লাখ ২১ হাজার ৫৬২ টাকার চারটি অডিট আপত্তি ওঠে। এর মধ্যে করোনাকালে স্যাটেলাইট ক্যাম্পে যাতায়াত বাবদ ১২ লাখ ১৭ হাজার ৯৬০ টাকা এবং প্রশিক্ষণের নামে ১২ লাখ ৪৪ হাজার ৯৩২ টাকা ব্যয়ের হিসাব নিয়ে আপত্তি রয়েছে।

এ ছাড়া নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি ভাড়ায় হলরুম ও সাউন্ড সিস্টেম বাবদ ১ লাখ ৯ হাজার ৬২০ টাকা এবং আর্থিক ক্ষমতার বাইরে মোটরগাড়ি মেরামতে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৫০ টাকা ব্যয়ের বিষয়েও প্রশ্ন ওঠে।

এর আগে ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে আরও আটটি অডিট আপত্তি উঠেছিল। সেগুলো পরে নিষ্পত্তি হলেও শেষ অর্থবছরের চারটি আপত্তি মূল্যায়নের সময়ও নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় ছিল।

এখন নজর পরিকল্পনার গলদে
প্রকল্প গ্রহণের আগে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ সম্ভাব্যতা সমীক্ষার সুপারিশ করেছে আইএমইডি। শুরু থেকেই পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালক, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা এবং শক্তিশালী তদারকি কাঠামো নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।

চিকিৎসা সরঞ্জাম যাতে কেনার পর পড়ে না থাকে, সে জন্য রক্ষণাবেক্ষণ ও জরুরি প্রতিস্থাপনে আলাদা তহবিল গঠনের সুপারিশ রয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের সেবাকে বিদ্যমান প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা এবং তথ্য ব্যবস্থাপনা, ওষুধ সরবরাহ ও স্বাস্থ্য তথ্য ব্যবস্থায় সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

আসল সাফল্য টাকা খরচে নয়
স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হকের মতে, স্বাস্থ্য প্রকল্পের দুর্বলতা অনেক সময় শুরু হয় প্রকল্প তৈরির সময়ই। পর্যাপ্ত দক্ষতা ছাড়া প্রকল্প প্রণয়ন হলে পরিকল্পনা, বাজেট ও বাস্তবায়নের মধ্যে অসামঞ্জস্য তৈরি হয়। এর সঙ্গে বাজেট অনুমোদনে বিলম্ব ও প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তনের মতো বিষয় যুক্ত হলে বাস্তবায়ন আরও ধীর হয়।

এই প্রকল্পের হিসাব তাই সরল নয়। ৯৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে—এটি এক দিক। অন্যদিকে শিশু ও পুষ্টিসেবার কয়েকটি সূচক ৭০ থেকে ৮০ শতাংশের ঘরে আটকে থাকা আরেক বাস্তবতা। স্বাস্থ্য খাতে প্রকল্পের সাফল্যের শেষ মাপকাঠি অর্থব্যয়ের হার নয়; নির্ধারিত মানুষের কাছে কতটা মানসম্মত সেবা পৌঁছেছে, সেটিই বড় প্রশ্ন।

কালের আলো/এম/এএইচ