খুঁজুন
                               
, ,
           

আধুনিক কবিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কবি টি এস এলিয়ট এর প্রেম, বিচ্ছেদ ও শেষ বয়স

সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
আধুনিক কবিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কবি টি এস এলিয়ট এর  প্রেম, বিচ্ছেদ ও শেষ বয়স

আধুনিক কবিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কবি টি এস এলিয়ট। ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’, ‘দ্য হলো মেন’, ‘অ্যাশ-ওয়েডনেসডে’ কিংবা ‘ফোর কোয়ার্টেটস’—তাঁর কবিতায় বারবার ফিরে এসেছে আধুনিক মানুষের নিঃসঙ্গতা, সভ্যতার ভাঙন, সময়, মৃত্যু, বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার প্রশ্ন। কিন্তু এই গম্ভীর কবির আরেকটি দিকও ছিল। বিড়াল নিয়ে লিখেছিলেন মজার সব ছড়া, যা বহু বছর পর অ্যান্ড্রু লয়েড ওয়েবারের বিখ্যাত সংগীতনাট্য ‘ক্যাটস’-এর ভিত্তি হয়ে ওঠে।

১৮৮৮ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মিজৌরি অঙ্গরাজ্যের সেন্ট লুইসে জন্ম নেওয়া টমাস স্টার্নস এলিয়ট সাহিত্যজগতে পরিচিত হন টি এস এলিয়ট নামে। কবি হিসেবে খ্যাতির পাশাপাশি তিনি ছিলেন সাহিত্য সমালোচক, সম্পাদক ও প্রকাশক। হার্ভার্ডে পড়াশোনার পর প্যারিস ও অক্সফোর্ডে দর্শন নিয়ে পড়েন। ১৯১৪ সালে ইংল্যান্ডে স্থায়ী হন এবং ১৯২৭ সালে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। আধুনিক কবিতায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৪৮ সালে পান সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার।

দর্শনের ছাত্র থেকে আধুনিক কবি

কবি হওয়ার আগে দর্শনের প্রতি এলিয়টের গভীর আগ্রহ ছিল। হার্ভার্ডে পড়ার সময় ফরাসি প্রতীকবাদী কবিদের লেখায় প্রভাবিত হন তিনি। ১৯১০ ও ১৯১১ সালের দিকে লেখা তাঁর কয়েকটি কবিতা পরবর্তী সময়ে আধুনিক কবিতার গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হয়ে ওঠে।

এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ‘দ্য লাভ সং অব জে. আলফ্রেড প্রুফ্রক’। কবিতার কেন্দ্রীয় চরিত্র একজন আত্মসংশয়ে ভোগা ও দ্বিধাগ্রস্ত নগরবাসী। মানুষের কাছে যেতে চাইলেও প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয় তাকে আটকে রাখে। সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে—এই অনুভূতিও তাকে তাড়া করে।

১৯১৫ সালে কবিতাটি প্রকাশিত হলে সাহিত্যজগতে এলিয়টের পরিচিতি দ্রুত বাড়তে থাকে। এ সময় এজরা পাউন্ডের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পাউন্ড এলিয়টের প্রতিভায় আস্থা রাখতেন এবং সমকালীন সাহিত্যিক মহলে তাঁর পরিচিতি তৈরিতে ভূমিকা রাখেন।

১৯২২ সালে প্রকাশিত ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’-এর পাণ্ডুলিপি সম্পাদনাতেও পাউন্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এলিয়ট কবিতাটি তাঁকে উৎসর্গ করেছিলেন ‘ইল মিগলিয়র ফাব্রো’ নামে, যা দান্তের একটি পঙ্‌ক্তি থেকে নেওয়া এবং অর্থ ‘শ্রেষ্ঠ কারিগর’।

প্রথম স্ত্রী ভিভিয়েন, অস্থির দাম্পত্য

১৯১৫ সালে এলিয়ট বিয়ে করেন ভিভিয়েন হেইগ-উডকে। বিয়ের শুরু থেকেই তাঁদের সম্পর্ক ছিল জটিল। ভিভিয়েনের শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা সময়ের সঙ্গে গুরুতর হয়ে ওঠে।

১৯৩৩ সালের পর তাঁরা আলাদা বসবাস করতে শুরু করেন। ১৯৩৮ সালে ভিভিয়েনকে একটি মানসিক চিকিৎসাকেন্দ্রে রাখা হয়। ১৯৪৭ সালে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

এলিয়টের ব্যক্তিজীবন ও ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’-এর মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হয়েছে। তাঁর দাম্পত্যের অস্থিরতা কবিতাটির কিছু অংশের পটভূমি বুঝতে সহায়ক হতে পারে। তবে ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’-কে শুধু একটি অসুখী দাম্পত্যের প্রতিফলন হিসেবে দেখলে কবিতাটির ব্যাপ্তি অনেকটাই কমিয়ে দেখা হয়।

১৯২২ সালে প্রকাশিত এই কবিতায় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইউরোপের ক্লান্তি, বিচ্ছিন্নতা, বিশ্বাসের সংকট ও সাংস্কৃতিক ভাঙনের ছবি উঠে আসে। পুরাণ, ধর্ম, সাহিত্য, আধুনিক নগরজীবন, যৌনতা, মৃত্যু, স্মৃতি ও একাকিত্ব—সব মিলিয়ে এলিয়ট নির্মাণ করেন এক ভাঙাচোরা অথচ গভীর কাব্যজগৎ।

কবির পাশাপাশি সম্পাদক ও প্রকাশক

এলিয়ট শুধু কবি ছিলেন না। ১৯২২ সালে তিনি ‘দ্য ক্রাইটেরিয়ন’ নামে একটি সাহিত্যপত্র শুরু করেন এবং ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত এর সম্পাদক ছিলেন। ইউরোপীয় সাহিত্য ও চিন্তার জগতে পত্রিকাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

১৯২৫ সালে তিনি ফ্যাবার অ্যান্ড ফ্যাবারে যোগ দেন। পরে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকও হন। সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে বহু নতুন লেখককে সাহিত্যজগতে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল।

সাহিত্য সমালোচক হিসেবেও এলিয়টের প্রভাব ছিল গভীর। ঐতিহ্য ও ব্যক্তিগত প্রতিভার সম্পর্ক, কবির ব্যক্তিগত অনুভূতি ও কবিতার সম্পর্ক এবং সাহিত্যের মূল্যবোধ নিয়ে তাঁর প্রবন্ধগুলো বিশ শতকের ইংরেজি সাহিত্যচিন্তায় দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।

‘ওল্ড পসাম’ ও বিড়ালের জগৎ

এত গম্ভীর সাহিত্যিক পরিচয়ের আড়ালে ছিলেন অন্য এক এলিয়ট। বিড়াল নিয়ে লেখা তাঁর ছড়াগুলো ছিল রসিকতা ও আনন্দে ভরা।

‘ওল্ড পসাম’ ছিল তাঁর ডাকনাম। এজরা পাউন্ড তাঁকে এই নামে ডাকতেন। ১৯৩৯ সালে এই নামেই প্রকাশিত হয় তাঁর বিখ্যাত বই ‘ওল্ড পসামের প্র্যাকটিক্যাল ক্যাটস’।

বইটিতে একের পর এক বিড়াল চরিত্র—জেলিকল, ম্যাকাভিটি, মুংজেরি, রামপেলটিজার ও স্কিম্বলশ্যাঙ্কস—নিজস্ব স্বভাব ও কাণ্ডকারখানা নিয়ে হাজির হয়। এখানে ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’-এর গম্ভীর কবিকে পাওয়া যায় না। বরং দেখা যায় শব্দ, ছন্দ ও প্রাণীর বিচিত্র স্বভাব নিয়ে খেলতে থাকা এক রসিক লেখককে।

আর এই ছড়াগুলোই বহু বছর পর নতুন জীবন পায় মঞ্চে। ১৯৭৮ সালে অ্যান্ড্রু লয়েড ওয়েবার এলিয়টের বিড়ালবিষয়ক কবিতায় সুর বসিয়ে কাজ শুরু করেন। সেখান থেকেই তৈরি হয় বিখ্যাত সংগীতনাট্য ‘ক্যাটস’। ১৯৮১ সালে লন্ডনে প্রথম মঞ্চায়নের পর ১৯৮২ সালে এটি ব্রডওয়েতে যায় এবং ১৯৮৩ সালে সাতটি টনি পুরস্কার জেতে।

ভাঙন থেকে আধ্যাত্মিকতার পথে

এলিয়টের ব্যক্তিজীবন ও কবিতাতেও ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসে। ১৯২৭ সালে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণের পাশাপাশি তিনি অ্যাংলিকান ধর্মমতের সঙ্গে যুক্ত হন। এরপর তাঁর কবিতায় ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতার উপস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

‘অ্যাশ-ওয়েডনেসডে’ এবং ‘ফোর কোয়ার্টেটস’-এ সময়, স্মৃতি, মৃত্যু, ইতিহাস, বিশ্বাস ও আত্মিক অনুসন্ধানের বিষয়গুলো বিশেষভাবে উঠে আসে।

‘ফোর কোয়ার্টেটস’-এর চারটি কবিতা—‘বার্ন্ট নর্টন’, ‘ইস্ট কোকার’, ‘দ্য ড্রাই স্যালভেজেস’ ও ‘লিটল গিডিং’—এলিয়টের পরিণত কাব্যচিন্তার অন্যতম প্রকাশ।

‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’-এ যেখানে ভাঙন ও অনুর্বরতার অনুভূতি প্রবল, ‘ফোর কোয়ার্টেটস’-এ সেখানে সেই ভাঙনের মধ্যেই অর্থের সন্ধান রয়েছে। যেন শূন্যতা থেকে অর্থের দিকে, ভাঙন থেকে বিশ্বাসের দিকে এক দীর্ঘ যাত্রা।

এমিলি হেলের সঙ্গে দীর্ঘ চিঠির সম্পর্ক

এলিয়টের জীবনের আরেক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এমিলি হেলকে ঘিরে। ১৯১০-এর দশকের গোড়ায় তাঁদের পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

১৯৩০ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত এলিয়ট হেলকে এক হাজারের বেশি চিঠি লিখেছিলেন। ২০২০ সালে সেই চিঠিগুলো গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত হলে সাহিত্যজগতে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়।

চিঠিগুলো এলিয়টের ব্যক্তিজীবনের আবেগ, আকাঙ্ক্ষা, অনুশোচনা ও আত্মসংঘাত সম্পর্কে নতুন তথ্যের সুযোগ তৈরি করে। তাঁদের সম্পর্কের প্রকৃতি নিয়ে দীর্ঘদিন নানা ব্যাখ্যা থাকলেও একে সরল প্রেমের গল্পের বদলে দীর্ঘস্থায়ী এক মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পর্ক হিসেবে দেখাই বেশি সংগত।

৬৮ বছর বয়সে নতুন সংসার

ভিভিয়েনের মৃত্যুর এক দশক পর, ১৯৫৭ সালে ৬৮ বছর বয়সে এলিয়ট বিয়ে করেন এস্মে ভ্যালেরি ফ্লেচারকে। ভ্যালেরি তখন ফ্যাবার অ্যান্ড ফ্যাবারে তাঁর সচিব হিসেবে কাজ করছিলেন। তাঁদের বয়সের ব্যবধান ছিল প্রায় ৩৮ বছর।

বিয়েটি ছিল অত্যন্ত ব্যক্তিগত। ঘনিষ্ঠজনেরা পরে তাঁদের দাম্পত্যকে সুখী বলে বর্ণনা করেছেন। জীবনের শেষ পর্বে ভ্যালেরি শুধু এলিয়টের ব্যক্তিগত সঙ্গীই ছিলেন না, তাঁর সাহিত্যিক উত্তরাধিকার সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

১৯৬৫ সালে এলিয়টের মৃত্যুর পর বহু বছর ধরে তাঁর লেখা, চিঠি ও অন্যান্য সাহিত্যিক সম্পদ সংরক্ষণের কাজ করেন ভ্যালেরি।

নোবেল পুরস্কার ও বিতর্ক

১৯৪৮ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান টি এস এলিয়ট। আধুনিক কবিতায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

তবে এলিয়টের সাহিত্যিক পরিচয়ের পাশাপাশি তাঁর কিছু লেখা নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। তাঁর কয়েকটি কবিতা ও গদ্যে ইহুদিদের সম্পর্কে এমন ভাষা ও ধারণা পাওয়া যায়, যেগুলো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ উঠেছে। এসব লেখার ব্যাখ্যা নিয়েও সাহিত্য সমালোচকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

তাই এলিয়টকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তাঁর অসাধারণ সাহিত্যিক অবদানের পাশাপাশি তাঁর লেখার বিতর্কিত দিকগুলোও আলোচনায় এসেছে। একজন বড় সাহিত্যিকের জীবন ও কাজ সব সময় একরৈখিক হয় না—প্রতিভা, সীমাবদ্ধতা, সময়ের প্রভাব ও ব্যক্তিগত বিশ্বাস সেখানে পাশাপাশি থাকে।

শেষ জীবনে কিছুটা স্থিরতা

১৯৬৫ সালের ৪ জানুয়ারি লন্ডনে ৭৬ বছর বয়সে মারা যান টি এস এলিয়ট।

পেছন ফিরে তাঁর জীবন দেখলে একাধিক বৈপরীত্য চোখে পড়ে। একদিকে ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’, ‘দ্য হলো মেন’, ‘অ্যাশ-ওয়েডনেসডে’ ও ‘ফোর কোয়ার্টেটস’; অন্যদিকে বিড়ালদের নিয়ে মজার ছড়া। একদিকে দর্শনের ছাত্র ও কঠিন সাহিত্য সমালোচক, অন্যদিকে ব্যাংকার, সম্পাদক ও প্রকাশক। একদিকে অস্থির দাম্পত্য, অন্যদিকে জীবনের শেষ দিকে পাওয়া ব্যক্তিগত শান্তি।

তাঁর কবিতার দীর্ঘ যাত্রাটিও কম বিস্ময়কর নয়। শুরুতে আছে নিঃসঙ্গতা, আত্মসংশয় ও যুদ্ধোত্তর সভ্যতার ক্লান্তি। এরপর ধীরে ধীরে আসে ধর্ম, সময়, স্মৃতি ও আধ্যাত্মিকতার অনুসন্ধান।

সম্ভবত এখানেই টি এস এলিয়টের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। তিনি শুধু একটি ভেঙে পড়া পৃথিবীর কবি নন; সেই ভাঙনের মধ্যেও অর্থ খুঁজতে থাকা মানুষের কবি।

‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’-এর অনুর্বর ভূমি থেকে ‘ফোর কোয়ার্টেটস’-এর আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান পর্যন্ত তাঁর পথচলা তাই শুধু একজন কবির সাহিত্যিক বিবর্তনের ইতিহাস নয়, নিজের ভেতরে অর্থ খুঁজে ফেরারও এক দীর্ঘ যাত্রা।

যে কবি অনুর্বরতার কথা লিখেছিলেন, তাঁর জীবনের শেষ পর্বে এসে যেন কিছুটা স্থিরতাও ফিরে এসেছিল। আর তাঁর সাহিত্যিক উত্তরাধিকার মনে করিয়ে দেয়—একজন কবিকে বুঝতে হলে শুধু তাঁর বিখ্যাত কবিতাগুলো নয়, তাঁর জীবনের বৈপরীত্যগুলোর দিকেও তাকাতে হয়। সেখানে ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’-এর কবির পাশে হঠাৎ দেখা যায় কয়েকটি বিড়ালকে—আর সেই দৃশ্যটিই হয়তো টি এস এলিয়টকে আরও মানবিক করে তোলে।

কালের আলো/এসএ

হুতিদের নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত লড়াইয়ের আহ্বান সৌদি গ্র্যান্ড মুফতির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৯ অপরাহ্ণ
হুতিদের নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত লড়াইয়ের আহ্বান সৌদি গ্র্যান্ড মুফতির

আনইয়েমেনের হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার মধ্যেই সেনাদের কঠোর বার্তা দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা গ্র্যান্ড মুফতি শেখ সালেহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান। প্রয়োজনে দেশ রক্ষায় জীবন উৎসর্গের জন্য প্রস্তুত থাকতে সৌদি সেনাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

হুতিদের ক্ষমতা থেকে সরানো এবং ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন গ্র্যান্ড মুফতি। বৃহস্পতিবার রাতে সৌদি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থায় তার এই বার্তা প্রকাশ করা হয়।

সেনাদের প্রতি কঠোর বার্তা

সৌদি আরবের সীমান্তে মোতায়েন সেনাদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় গ্র্যান্ড মুফতি কুরআনের বিভিন্ন আয়াত এবং আত্মত্যাগ ও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সংগ্রামসংক্রান্ত মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণী উদ্ধৃত করেন।

তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও ভূখণ্ড রক্ষা করা এবং দেশের কোনো অংশে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনে জীবন ও প্রাণ উৎসর্গ করা যেতে পারে।

গ্র্যান্ড মুফতির ভাষায়, ‘এই মহান দেশকে রক্ষা করা এবং এই ভূখণ্ডের এক ইঞ্চি জায়গাতেও হাত দেওয়ার চেষ্টা করা যে কাউকে শাস্তি দেওয়া—এগুলোর জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে জীবন ও প্রাণ উৎসর্গ করা যায়।’

হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদারের ইঙ্গিত

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সৌদি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগ রয়েছে।

জবাবে সৌদি আরবও ইয়েমেনে বিমান হামলা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব তাদের সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর সঙ্গে মিলে হুতিদের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা করছে।

এই পরিস্থিতিতে গ্র্যান্ড মুফতির এমন বক্তব্যকে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের অবস্থান আরও কঠোর হওয়ার একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

‘দায়িত্ব পালনে সবসময় প্রস্তুত থাকুন’

সামনের সারিতে দায়িত্ব পালনরত সৌদি সেনাদের উদ্দেশে গ্র্যান্ড মুফতি দায়িত্ব পালনে সর্বদা প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সম্মুখসারিতে দায়িত্বরত ভাইয়েরা, আপনাদের ওপর আবশ্যিক কর্তব্য হলো—সর্বদা নিজেদের দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত থাকা, শাসক ও মাঠপর্যায়ের কমান্ডারদের আদেশ মেনে চলা এবং অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নির্দেশাবলি বাস্তবায়ন করা।’

তিনি আরও বলেন, সৌদি সেনারা মহানবী (সা.)-এর সাহাবিদের পথ অনুসরণ করছেন এবং মুসলমানদের পবিত্র স্থানগুলো রক্ষার দায়িত্ব পালন করছেন।

ইয়েমেনে বড় ধাক্কা সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর

হুতিদের সঙ্গে চলমান সংঘাতে সম্প্রতি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে হুতিদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব নৌপথের নিয়ন্ত্রণ হারায় তারা।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ হারানো সৌদি আরবের জন্যও বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ ইয়েমেনে হুতিদের মোকাবিলায় দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরব দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে।

২০১৫ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা থেকে হুতিদের উৎখাতের লক্ষ্যে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযান শুরু হয়। তবে সেই অভিযান প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়েছে।

আবারও উত্তপ্ত ইয়েমেন

ইয়েমেনের সাম্প্রতিক লড়াই দেশটির দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় ১২ বছর ধরে চলা এই সংঘাত ২০২২ সালের পর কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছিল।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে আবারও লড়াই তীব্র হয়েছে। এর সঙ্গে ইরানকে ঘিরে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতেরও যোগসূত্র তৈরি হয়েছে।

ফলে ইয়েমেনের পরিস্থিতি শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গেও তা ক্রমেই যুক্ত হয়ে পড়ছে।

হুতিদের পরাজয়ের জন্য প্রার্থনা

গ্র্যান্ড মুফতি তার বক্তব্যে সৌদি সেনাদের জন্য আল্লাহর সহায়তা কামনা করেন। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও ইয়েমেনকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করার জন্য প্রার্থনা করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আপনাদের সকলকে তার সহায়তা প্রদান করেন এবং আমাদের দেশ ও প্রিয় ইয়েমেনকে সকল প্রকার ক্ষতি থেকে রক্ষা করেন।’

হুতি গোষ্ঠী এবং তাদের সহায়তা ও সমর্থনকারীদের সম্পূর্ণ পরাজয়ের জন্যও প্রার্থনা করেন তিনি।

ধর্মীয় আবহে হুতিবিরোধী অবস্থান জোরদার

সৌদি আরবের এই শীর্ষ ধর্মীয় নেতার বক্তব্য দেশটির রক্ষণশীল সুন্নি মুসলিম সমাজে হুতিদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিরূপ অবস্থান আরও জোরদার করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একটি মসজিদে হুতিদের হামলার ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। পাশাপাশি পবিত্র নগরী মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিরা হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

সব মিলিয়ে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যকার উত্তেজনা এখন সামরিক ক্ষেত্রের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিসরেও আরও গভীর হচ্ছে। গ্র্যান্ড মুফতির সর্বশেষ বক্তব্য সেই উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি সেনাদের মনোবল ধরে রাখা এবং হুতিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানকে আরও জোরালো করার বার্তা হিসেবে সামনে এসেছে।

কালের আলো/জেএন

বদলে যাচ্ছে পুলিশের কাঠামো, পুরস্কার-শাস্তির কঠোর বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৫ অপরাহ্ণ
বদলে যাচ্ছে পুলিশের কাঠামো, পুরস্কার-শাস্তির কঠোর বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

এক হাতে পুরস্কার, অন্য হাতে শাস্তির বার্তা। পুলিশের সামনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নতুন প্রত্যাশার রেখাচিত্রটা যেন এমনই—অপরাধীকে আইনের আওতায় আনলে স্বীকৃতি, দায়িত্বে অবহেলা করলে জবাবদিহি, আর অপরাধ করলে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি ফৌজদারি বিচার। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পুলিশের কাজে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না থাকার ঘোষণা, জনআস্থা পুনর্গঠনের তাগিদ এবং আগামী সপ্তাহে স্বতন্ত্র সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট চালুর সিদ্ধান্ত। ফলে রাজারবাগে পুলিশ পদক বিতরণের অনুষ্ঠানটি শুধু কৃতিত্বের স্বীকৃতিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং বদলে যাওয়া অপরাধের ধরন ও বদলে যাওয়া প্রত্যাশার সঙ্গে পুলিশের কাঠামো কতটা বদলাবে, তার একটি নকশাও সামনে এসেছে।

  • দোসর ধরলে পুরস্কার, অপরাধে ফৌজদারি ব্যবস্থা
  • রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নয়, জনআস্থা ফেরানোর বার্তা
  • সাইবার অপরাধ ঠেকাতে আগামী সপ্তাহেই নতুন ইউনিট

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’-এর পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) খন্দকার রফিকুল ইসলাম। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন।

দোসর ধরলে পুরস্কার, ভেতরের সহযোগিতায় কঠোর বার্তা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশগুলোর একটি পুলিশের ভেতরে রাজনৈতিক যোগাযোগ ও দায়িত্ব পালনের প্রশ্নে। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পুলিশের কেউ কেউ গোপনে সংবাদ দিয়ে বা অন্যভাবে সহযোগিতা করছে বলে তাঁদের কাছে তথ্য রয়েছে। মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন না করা, দায়িত্বে অবহেলা করার ঘটনাও আছে। ধীরে ধীরে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং পুলিশ সদস্যদের সংশোধনের সুযোগও দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শক্তির দোসরদের আইনের আওতায় আনতে পারলে পুরস্কারের ঘোষণা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শক্তির দোষরদের আইনের আওতায় আনতে পারবে তাদের আমরা পুরস্কৃত করবো।’ তাঁর এই বক্তব্যের মধ্যে পুলিশের জন্য দুটি আলাদা নির্দেশনা রয়েছে। একদিকে অপরাধী শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে সক্রিয় হওয়ার প্রণোদনা, অন্যদিকে পুলিশের নিজস্ব কাঠামোর ভেতরে কারা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ বা রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট—তা চিহ্নিত করার তাগিদ। অর্থাৎ পুলিশকে শুধু আইন প্রয়োগকারী বাহিনী হিসেবে নয়, নিজের ভেতরের শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বও নিশ্চিত করার প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চাইছে সরকার।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশের মধ্যে কেউ কেউ এখনো ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে, তাদের নানা ধরনের সংবাদ দিচ্ছে।’ এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি। প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্যের এই অংশে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে ব্যবস্থার সতর্কতার কথাও এসেছে।

বিভাগীয় শাস্তির বাইরে যাবে অপরাধ
পুলিশের শৃঙ্খলা রক্ষায় মন্ত্রীর অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থাকে পাশাপাশি রাখার ঘোষণায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘শুধু বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রমের মধ্যে আমরা সীমাবদ্ধ থাকবো না। সঙ্গে যদি কোনও ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে, তাহলে সেটির জন্যও একইসঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ‘গুড ফেইথ’ বা সৎ উদ্দেশ্যে ছোটখাটো ভুল হলে সেটি সেই বিবেচনায় দেখা হবে। তবে ইচ্ছাকৃত অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা বা অপরাধের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলামূলক ও আইনগত- এই দুই ধরনের ব্যবস্থাই নেওয়া হবে।’

এখানে মন্ত্রীর বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য লক্ষণীয়। দায়িত্ব পালনের সময় সৎ উদ্দেশ্যে হওয়া অনিচ্ছাকৃত ভুল আর ইচ্ছাকৃত অনিয়মকে একই চোখে দেখা হবে না। কিন্তু কোনো কর্মকাণ্ডে ফৌজদারি অপরাধের উপাদান থাকলে সেটিকে শুধু বিভাগীয় তদন্তের মধ্যে আটকে না রেখে প্রচলিত আইনে নেওয়ার কথাই বলেছেন তিনি।

পুলিশের জবাবদিহির ক্ষেত্রে এই দ্বিস্তরীয় ব্যবস্থা কার্যকর হলে বিভাগীয় শাস্তি ও ফৌজদারি বিচারের সীমারেখা আরও স্পষ্ট হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কোনও পুলিশ কর্মকর্তা, তিনি যে পদমর্যাদারই হোন না কেন, জনপ্রত্যাশা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হলে তার পরিণতি ভালো হবে না।’

রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নয়, ‘রাজাবাদশা’ও নয়
পুলিশের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার প্রশ্নেও সরাসরি বার্তা দিয়েছেন মন্ত্রী। পুলিশকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্তভাবে আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাজে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না।’

তবে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্তির সঙ্গে জনবান্ধব আচরণকেও একই গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। জনগণ পুলিশকে রাজাবাদশার মতো দেখতে চায় না উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ জনবান্ধব পুলিশ দেখতে চায়। কোনো জায়গায় গিয়ে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এমন কোনো কর্মকাণ্ড করবেন না, যা জনগণের চোখে অস্বাভাবিক বা অগণতান্ত্রিক মনে হয়। অধস্তনদেরও এমন আচরণের অনুমতি বা প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।’

সরকার ‘রিওয়ার্ড অ্যান্ড পানিশমেন্ট’ নীতি অনুসরণ করবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘হয়তো শতভাগ ন্যায়বিচার আমরা প্রত্যেকের কাছে পালন করতে পারছি না, বাস্তবায়ন করতে পারছি না। মেসেজ একটাই। আশা করি, মেসেজটা পেয়েছেন।’ এই বার্তার তাৎপর্য হলো—পুলিশের সংস্কারকে শুধু ওপরের সারির কর্মকর্তাদের আচরণ পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে না। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা থেকে মাঠপর্যায়ের সদস্য—পুরো কমান্ড কাঠামোর আচরণকেই জনপ্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার কথা বলা হচ্ছে।

৩১ ডিসেম্বরের আগেই পরিবর্তনের সময়সীমা
পুলিশের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনকে শুধু সাংগঠনিক নয়, মানসিক পরিবর্তনের সঙ্গেও যুক্ত করেছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সমাজে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আনতে হলে আগে পুলিশ সদস্যদের নিজেদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। সততা, ন্যায়নিষ্ঠা, কর্তব্যপরায়ণতা ও দেশপ্রেমের সমন্বয় ঘটাতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে পুলিশের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। আমরা যদি নিজেদের পরিবর্তন করতে পারি, তাহলে সমাজ পরিবর্তনেও ভূমিকা রাখতে পারবো।’

এরপরই সময়সীমা বেঁধে দেন তিনি—‘২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর আসার আগেই আপনাদের সেই পরিবর্তন দেখাতে হবে।’ অর্থাৎ পরিবর্তনের ঘোষণা শুধু নীতিগত বক্তব্যে সীমাবদ্ধ রাখার বদলে একটি সময়সীমার মধ্যে দৃশ্যমান ফল দেখতে চাইছেন মন্ত্রী। এখন সেই পরিবর্তনের মাপকাঠি হবে মাঠপর্যায়ের আচরণ, অপরাধ দমন, তদন্তের মান, নাগরিকসেবা এবং পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা।

অপরাধের ধরন বদলেছে, বদলাবে পুলিশের কাঠামোও
রাজারবাগের অনুষ্ঠানে পুলিশের আধুনিকায়নের সবচেয়ে বড় ঘোষণাগুলোর একটি এসেছে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায়। আগামী সপ্তাহে স্বতন্ত্র ‘সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট’ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ইউনিটটির নেতৃত্বে একজন অতিরিক্ত আইজিপি থাকবেন। পদটি না থাকলে নতুন করে তা সৃষ্টির কথাও বলেছেন তিনি। মহানগর, বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে থাকবে শাখা। থানা ও জেলা পর্যায়ে থাকবে আধুনিক সরঞ্জাম; সদরদপ্তর ও বিভাগীয় পর্যায়ে থাকবে বড় ফরেনসিক ল্যাব ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে একটি আলাদা সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট চালু করা হবে। এর সদর দফতরে একজন অতিরিক্ত আইজিপির পদ থাকবে। পদটি না থাকলে আমরা সৃষ্টি করবো। মহানগর, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে এর শাখা থাকবে।’

ইউনিটের কাজের পরিধি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘জটিল সাইবার অপরাধের তদন্ত ও বিশ্লেষণ কেন্দ্রীয় পর্যায়ে হবে। তবে থানা, জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ে যেসব অপরাধ বিশ্লেষণ করা সম্ভব, সেগুলো স্থানীয় পর্যায়েই সম্পন্ন করার সক্ষমতা তৈরি করা হবে।’

আরও বলেন, ‘সমস্ত মেট্রো, ডিভিশন ও ডিস্ট্রিক্ট পর্যায়ে তার শাখা থাকবে। থানা ও জেলা পর্যায়ে সাইবার সিকিউরিটি ইউনিটের আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকবে। বড় আকারের ফরেনসিক ল্যাব ও যে সাপোর্ট দরকার-সেগুলো হেডকোয়ার্টার ও ডিভিশন পর্যায়ে থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘সেটা প্রকল্প প্রণয়নের জন্য আমি গত কয়েক সপ্তাহ আগে নির্দেশ দিয়েছি। যেগুলো জটিল হবে সেগুলো কেন্দ্রে আসবে। যেগুলো থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে অ্যানালাইসিস করা সম্ভব সেগুলো সেখানেই হবে। আমরা দেখেছি, সাইবার স্পেস ক্রিয়েট করে যেসব ক্রাইম হচ্ছে সেটা আধুনিক ক্রাইম প্রবণতার একটা ক্যারেক্টার। কোনও কোনও রাষ্ট্রে ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত ক্রাইম হচ্ছে এই সাইবার বা স্ক্যাম ভিত্তিক। সেজন্য এটা আমাদেরকে গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।’

সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে পাঠানো চিঠিতে বর্তমান জনবল ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে ইউনিটটির কার্যক্রম শুরুর কথা বলা হয়েছে।

এখানে কাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এতদিন সাইবার অপরাধের জটিলতা বাড়লেও তদন্ত ও ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতা অনেকাংশে কেন্দ্রনির্ভর ছিল। নতুন পরিকল্পনায় স্থানীয় পর্যায়ে প্রাথমিক বিশ্লেষণ এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে জটিল অপরাধের তদন্ত—দুই স্তরের সক্ষমতা তৈরির কথা বলা হয়েছে। ফলে দ্রুততা ও বিশেষায়িত দক্ষতা—দুটিই একসঙ্গে অর্জনের চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।

প্রযুক্তি বাড়বে তবে আসল শক্তি ‘আস্থা’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে প্রযুক্তির পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে জনআস্থা। তিনি বলেছেন, ‘প্রযুক্তি যতই আধুনিক হোক, পুলিশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মানুষের আস্থা। জনগণের আস্থা ছাড়া কোনও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে না।’

পুলিশের প্রতি জনআস্থা আগের একটি সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত সাত মাসে প্রাতিষ্ঠানিক, আইনগত ও প্রশাসনিক সহায়তার মাধ্যমে পুলিশের ভাবমূর্তি ও জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে।’ পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা কতটা সফল হয়েছেন, কতটা মানুষের আস্থা অর্জন করতে পেরেছেন, নিজেরা বিচার করুন।’

তিনি বলেন, ‘জনগণের সঙ্গে সম্মানজনক ও মানবিক আচরণ করতে হবে, মানুষের কথা শুনতে হবে এবং সমস্যাকে গুরুত্ব দিতে হবে। আইনের মধ্যে থেকে দ্রুততম সময়ে প্রত্যাশিত সেবা দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।’

অর্থাৎ পুলিশের আধুনিকায়নকে মন্ত্রী কেবল প্রযুক্তি, অস্ত্র বা জনবল বৃদ্ধির প্রকল্প হিসেবে দেখছেন না। নাগরিকের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্কও তাঁর ঘোষিত সংস্কারের কেন্দ্রে। কারণ একটি পুলিশ বাহিনীর হাতে যত আধুনিক সরঞ্জামই থাকুক, নাগরিক সহযোগিতা ও আস্থা না থাকলে অপরাধ দমন, তদন্ত ও আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা সীমিত হয়ে পড়ে।

‘জুলাই বিপ্লব’ নয়, ‘জুলাই ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান’
অনুষ্ঠানে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ঘটনাকে ‘জুলাই ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান’ হিসেবে অভিহিত করার পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমদ। লিখিত বক্তব্যে ‘জুলাই বিপ্লব’ শব্দ থাকার প্রসঙ্গেও তিনি কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘বিপ্লব সংঘটিত হয় সমাজ, অর্থনৈতিক কাঠামো ও মৌলিক সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য।

আমাদের এখানে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা, নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার এবং গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার দাবিতে।’ এই ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে মন্ত্রী ২০২৪ সালের ঘটনাপ্রবাহকে কীভাবে রাষ্ট্রীয়ভাবে বর্ণনা করা হবে, সে বিষয়ে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। একই অনুষ্ঠানে পুলিশের মানসিকতা পরিবর্তনের আহ্বানের সঙ্গে জুলাইয়ের প্রসঙ্গ যুক্ত হওয়ায় পুলিশ সংস্কারের আলোচনায় রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক—দুই মাত্রাই সামনে এসেছে।

ফরেনসিক থেকে নতুন বাহিনী—বদলাচ্ছে অবকাঠামো
পুলিশের প্রয়োজন অনুযায়ী স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ে নতুন কর্মকর্তা ও সদস্য নিয়োগের কথাও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রয়োজন হলে পুলিশের জনবল, সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে ফরেনসিক ও কেমিক্যাল পরীক্ষার সুবিধা বিকেন্দ্রীকরণের কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রাম বিভাগে শিগগিরই একটি বিভাগীয় ফরেনসিক সুবিধা চালুর কথাও জানান তিনি। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগেও এ ধরনের প্রযুক্তিগত সুবিধা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। র‌্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠন এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নকে (এপিবিএন) তদন্তের ক্ষমতা দেওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন বিশেষায়িত বাহিনীতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি জবাবদিহির কাঠামো রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। আইন প্রয়োগের অভিজ্ঞতায় কোনও ত্রুটি ধরা পড়লে ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধনের সুযোগ থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পুলিশ পদকের প্রবর্তক শহীদ জিয়া
এবার ৯২ জন পুলিশ সদস্যকে চার ক্যাটাগরিতে পদক দেওয়া হয়। সাহসিকতা, বীরত্ব, সেবায় অনন্য অবদান, গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের এই পদক দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী জানান, প্রয়াত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালে পুলিশ পদকের প্রবর্তন করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে এর পরিধি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এবার ৯২ জনকে পুলিশ পদকের জন্য নির্বাচিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর আগে আরও ছয়জনকে পদক দেওয়ার বিষয়ে প্রজ্ঞাপন হয়েছিল।’ সিনিয়র সচিব বলেন, ‘আমি এই অনুষ্ঠানে পদকপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

অন্যদিকে, পদকপ্রাপ্তদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পদক শুধু কৃতিত্বের স্বীকৃতি নয়, এটি আরও বড় দায়িত্বের অঙ্গীকার। পুলিশকে আধুনিক প্রযুক্তিতে সক্ষম, পেশাদারত্বে সমৃদ্ধ, মানবিক এবং জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।’

এই বক্তব্যে পদক আর কেবল অতীতের ভালো কাজের স্বীকৃতি থাকছে না; ভবিষ্যৎ দায়িত্ব পালনেরও অঙ্গীকার হয়ে উঠছে। অর্থাৎ পুরস্কার ও শাস্তির যে কাঠামোর কথা মন্ত্রী বলেছেন, তার ইতিবাচক দিকের প্রতীক পদকপ্রাপ্তির এই স্বীকৃতি।

রাজারবাগের অনুষ্ঠানে পুলিশের জন্য যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তার কেন্দ্রে রয়েছে—ভালো কাজের পুরস্কার, অপরাধে শাস্তি, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত দায়িত্ব, প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত, জনআস্থা পুনর্গঠন এবং অভ্যন্তরীণ মানসিকতার পরিবর্তন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাইবার ইউনিট, ফরেনসিক সুবিধা, নতুন বিশেষায়িত বাহিনী এবং জনবল বৃদ্ধির পরিকল্পনা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বলেন, ‘২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর আসার আগেই আপনাদের সেই পরিবর্তন দেখাতে হবে’, তখন ঘোষণাগুলোর সামনে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাও তৈরি হয়। ফলে রাজারবাগের মঞ্চে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর পরবর্তী অধ্যায় হবে বাস্তবায়ন—কত দ্রুত সাইবার ইউনিট কার্যকর হয়, কতটা দক্ষ হয় স্থানীয় ফরেনসিক ব্যবস্থা, পুলিশ কতটা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে কাজ করতে পারে এবং নাগরিকের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক কতটা বদলায়। পদকের মঞ্চে তাই একই সঙ্গে অতীতের কৃতিত্বের স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যতের পুলিশের জন্য নতুন মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।

কালের আলো/এমএএএমকে

গুলিস্তানে জাসদ কার্যালয় তালাবদ্ধ, আটক ২০০-এর বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ
গুলিস্তানে জাসদ কার্যালয় তালাবদ্ধ, আটক ২০০-এর বেশি

রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। অভিযান শেষে কার্যালয়টিতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় কার্যালয়ে অবস্থানরত দুই শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে বাংলানিউজকে এ তথ্য জানান পল্টন মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর ইসলাম।

পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানান, জাসদ কার্যালয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্দেহজনকভাবে কিছু লোকজনের অবস্থান ও বৈঠকের খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়।

অভিযান শেষে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে আনুমানিক দুই শতাধিককে আটক করা হতে পারে বলে জানান ওসি আরিফুর ইসলাম।

আটকদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এবং তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি