খুঁজুন
                               
, ,
           

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী: সাহস ও পেশাদারিত্বের এক ঐতিহ্য

ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন:
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩০ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী: সাহস ও পেশাদারিত্বের এক ঐতিহ্য

সম্প্রতি স্পেনের ভবিষ্যৎ রানী, ক্রাউন প্রিন্সেস লিওনর, সর্বাধিনায়ক হিসেবে তার ভূমিকার জন্য প্রস্তুত হতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান ও মহাকাশ বাহিনী জুড়ে তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। এই প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্যের পর, তিনি এখন রাজতন্ত্রের জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ের সূচনা করছেন।

তথ্য ও গণমাধ্যমের এই যুগে, উপরোক্ত সংবাদটি বিশ্বজুড়ে প্রশংসাসূচক মন্তব্যসহ প্রচারিত হয়েছে, যা দেশে ও বিদেশের অনেক সামরিক কর্মকর্তা মহলে শেয়ার করা হয়েছে। জানা গেছে, পরবর্তী পর্যায়ে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে তার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা গ্রহণ করবেন। আমার অনেক ছাত্রছাত্রী এবং কিছু শিশুও কৌতূহলী ছিল যে, কেন এবং কীভাবে একজন ভবিষ্যৎ রানীর এমন কঠিন সামরিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হলো। আমি “সামরিক কায়দায়” উত্তর দিয়েছিলাম এবং আমার উত্তরের সারমর্ম ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দৃষ্টিকোণ থেকে।

প্রত্যেক সার্বভৌম রাষ্ট্র তার স্বাধীনতা, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়ন রক্ষার জন্য জাতীয় শক্তির বিভিন্ন উপকরণের উপর নির্ভর করে। এই উপাদানগুলোর মধ্যে সাধারণত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কূটনৈতিক শক্তি, তথ্যগত শক্তি, সামরিক শক্তি এবং অর্থনৈতিক শক্তি—সংক্ষেপে ডাইম (DIME)। শীতল যুদ্ধ এবং শীতল যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক কৌশলগত পরিকল্পনা থেকে ডাইম (DIME) ধারণাটির উদ্ভব হয়। সামরিক বাহিনী জাতীয় শক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য এবং সাংবিধানিক শৃঙ্খলার প্রতীক হিসেবে কাজ করে।

১৯৭১ সালের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ জনগণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্ম হয়। বিগত দশকগুলোতে, শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে সেনাবাহিনী শুধু দেশের সার্বভৌমত্বই রক্ষা করেনি, বরং জাতি গঠন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষায়ও উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী: সাহস ও পেশাদারিত্বের এক ঐতিহ্য
১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের বিষয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নথি অনুযায়ী, সবচেয়ে ধারাবাহিকভাবে উল্লিখিত তথ্যটি হলো, তৎকালীন ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমান (পরবর্তীতে মেজর জেনারেল ও রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান) পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন এবং যুদ্ধের সময় খেম করণ সেক্টরে যুদ্ধ করেছিলেন। আজকের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পূর্বসূরি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় পদাতিক বাহিনীর মধ্যে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক সম্মাননা লাভ করে অসাধারণ স্বীকৃতি অর্জন করেছিল। এই গৌরবময় কীর্তি স্বাধীন বাংলাদেশের আবির্ভাবের অনেক আগেই বাঙালি সৈন্যদের সাহস, শৃঙ্খলা এবং যুদ্ধ করার মানসিকতার পরিচয় দিয়েছিল।

জাতীয় সংকটকালে একটি স্থিতিশীলকারী শক্তি
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, জাতীয় অনিশ্চয়তা ও সংকটের সময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বারবার একটি স্থিতিশীলকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করেছে। ১৯৯০-৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৬, ২০০৭-০৯ এবং ২০২৪-২৬ সালের রাজনৈতিক পালাবদল ও জরুরি অবস্থার সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আরও অস্থিতিশীলতা প্রতিরোধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নাগরিকদের দ্বারা ব্যাপকভাবে স্বীকৃত হয়েছে।
এই সময়গুলোর অনেকগুলোতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলো সংকট সমাধানে উল্লেখযোগ্য বাধার সম্মুখীন হয়েছিল। সেনাবাহিনী, আইনানুগ কর্তৃত্ব এবং জাতীয় প্রয়োজনে, প্রায়শই স্থিতিশীলতা রক্ষা, জীবন ও সম্পত্তি সুরক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ পালাবদল সহজতর করতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করেছে। প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধ ও আদর্শে অনুপ্রাণিত কঠোর প্রশিক্ষণের কারণে সামরিক কর্মীদের জন্য কঠিন কাজও সহজ হয়ে ওঠে।

সেনাবাহিনীর মূল্যবোধ ও আদর্শের ভিত্তি
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শক্তি শুধু অস্ত্র বা সরঞ্জামের মধ্যে নিহিত নয়, বরং এর প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধ ও আদর্শের মধ্যে নিহিত, যা ২০১০-১২ সালে উদ্ভূত হয়েছিল, যেখানে আমার অবদান ছিল । এই মূল্যবোধগুলোর মধ্যে রয়েছে সম্মান ও গর্ব, সততা ও নিষ্ঠা, আনুগত্য, দেশপ্রেম, বিশ্বাস ও আস্থা, শ্রদ্ধা, ন্যায়পরায়ণতা, আত্মত্যাগের আগে সেবা এবং সাহস। একইভাবে, সেনাবাহিনীর আদর্শ দেশের প্রতি নিষ্ঠা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি অঙ্গীকার, সংবিধানের প্রতি আনুগত্য, পেশাগত উৎকর্ষ এবং দেশ রক্ষায় সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের প্রস্তুতির ওপর জোর দেয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সকল সদস্য ২০২৪ সালের জুলাই/আগস্ট বিপ্লবের চেতনাকে মূল্য দেয়, যেখানে সৈন্যরা সংকটময় মুহূর্তে জনগণকে সমর্থন করেছিল, যার জন্য সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বকে অবশ্যই কৃতিত্ব দিতে হবে। অন্যথায়, একটি বড় বিপর্যয় ঘটতে পারত।

আমরা “জনগণের সেনাবাহিনী”
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যথার্থই জনগণের সেনাবাহিনী নামে পরিচিত, কারণ এর শক্তি শুধু এর পেশাদারিত্ব ও সামরিক সক্ষমতা থেকেই আসে না, বরং এর সেবায় নিয়োজিত নাগরিকদের আস্থা, বিশ্বাস ও সমর্থন থেকেও আসে। একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য জনগণ ও তাদের সেনাবাহিনীর মধ্যকার স্থায়ী অংশীদারিত্ব অপরিহার্য। তাই মাও জেদুং বলেছেন, “জনগণ ছাড়া সেনাবাহিনী শক্তিশালী হতে পারে না”। এবং একটি পেশাদার সেনাবাহিনী তার কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর কারণে জনগণের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং সামাজিক ঋণে দায়বদ্ধ হয়ে ওঠে। সকল প্রশিক্ষণার্থীকে প্রথমে তার সহকর্মী/সহযোদ্ধার (বন্ধু) যত্ন নিতে শেখানো হয়, যারা প্রতীকীভাবে এবং সম্মিলিতভাবে নিজেদের নাগরিক/দেশবাসী/জনগণে পরিণত হয়।

স্প্যানিশ রাজকুমারী লিওনরের বিষয়টি প্রতীকী এবং এটি উন্নয়নশীল বাংলাদেশের জন্য বিশাল শিক্ষা বহন করে। সকল সেনাবাহিনী একই নীতিতে প্রশিক্ষণ নেয়: “কঠোর প্রশিক্ষণ, সহজ যুদ্ধ”। আমাদের সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণের মান অত্যন্ত উঁচু, কারণ ১৯৭৬ সাল থেকে এটি আমাদের বিদ্রোহ দমনে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে, জাতিসংঘে ভূমিকা রেখেছে এবং বিদেশে প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) একটি অনন্য এবং বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, কারণ আমার একটি প্রথম বিশ্বের সেনাবাহিনীর এই প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করার সুযোগ হয়েছিল। ৮০-এর দশক এবং ৯০-এর দশকের শুরুতে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বিএমএ থেকে প্রশিক্ষণ নিতে হতো। পরবর্তীতে, কথিত আছে যে “স্বস্তিদায়ক পরিবেশ”-এর সন্ধানে এটি বন্ধ হয়ে যায় এবং এটি ছিল বেসামরিক-সামরিক সম্পর্কের অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ। গত দশকে সামরিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের অন্যান্য কারণগুলো ছিল সামাজিক-রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিপজ্জনক ধরনের বাহ্যিক প্রভাব। এখন আমাদের লাগাম আরও শক্ত করার সময় এসেছে, যার মধ্যে বিসিএস অফিসারদের বিএমএ-তে যথাযথ প্রশিক্ষণের জন্য পুনরায় পাঠানোও অন্তর্ভুক্ত। অন্যথায় আরও বহুমাত্রিক বিপর্যয় অপেক্ষা করছে।

পরিশেষে, আমাদের সকলকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, সারা বিশ্বের সৈন্যরা একটি কঠোর কমান্ড শৃঙ্খলের মাধ্যমে কাজ করে এবং সরকারের আইনানুগ কর্তৃত্বের অধীনে, সংবিধান ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীসহ নির্ধারিত বেসামরিক নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য রেখে পরিচালিত হয়। চূড়ান্তভাবে, সেনাবাহিনী সর্বদা একটি বেসামরিক নেতৃত্বের দ্বারা পরিচালিত হয়—সাধারণত শাসক দলের প্রধান। গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং বিশ্লেষকরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা ব্যবসায়ীদের দ্বারা প্রভাবিত। একাদশ সংসদে ব্যবসায়ীরা ছিলেন ৬১-৬৩% এবং দ্বাদশ সংসদে তা এখন ৬৫-৭০%। এবং ঐতিহ্যগতভাবে পুঁজিবাদী মডেলে “ব্যবসায়ীরা মুনাফা/অর্থের (দ্বিতীয় ঈশ্বর) উপর মনোযোগ দেয় এবং রাজনীতিবিদদের ক্ষমতার প্রয়োজন হয়”। এখানে, সৎ নাগরিকরা—সে রাজনীতিবিদ, আমলা, সরকারি কর্মকর্তা বা জেন “জি” যেই হোক না কেন—একমাত্র তারাই সেই শক্তিকে প্রতিহত করতে পারে। আমাদের সকলকেই মানতে হবে যে, প্রকৃত শক্তি নিহিত রয়েছে কঠোর প্রশিক্ষণ এবং ব্যাপক সামরিক দক্ষতা অর্জনের মধ্যে, এবং এই বিষয়গুলোই স্পেনের ভবিষ্যৎ তরুণী রানী/সর্বাধিনায়ককে শুধুমাত্র একজন নেতা হয়ে ওঠার জন্য তাঁর মূল্যবান সময় প্রশিক্ষণে ব্যয় করতে বাধ্য করেছিল। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রকৃত পেশাদারিত্ব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে ওঠে, যা দীর্ঘমেয়াদে একটি রাষ্ট্র এবং/অথবা সংস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে, এবং আমরা এ থেকে অনেক পিছিয়ে আছি। সম্ভবত এটি আমাদের চোখ খুলে দেবে ‘তাদের (স্পেন) এবং আমাদের (বাংলাদেশ)’ মধ্যকার পার্থক্য খুঁজে বের করার জন্য। কিন্তু আমরা ভবিষ্যতের জন্য সবসময় শিখতে পারি—ভবিষ্যতের জন্য শিখুন।

লেখকঃ অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল।

মহাসড়কে এআইয়ের অটো-ফাইন, ২৪ ঘণ্টায় ৪৪৬ জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৩:১০ অপরাহ্ণ
মহাসড়কে এআইয়ের অটো-ফাইন, ২৪ ঘণ্টায় ৪৪৬ জরিমানা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সড়ক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে চালু হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো-ফাইন সিস্টেম’। চালুর পর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ৪৪৬টি প্রসিকিউশন দেওয়া হয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশনস) মুনতাসিরুল ইসলাম বুধবার (১৯ আগস্ট) এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অটো-ফাইন সিস্টেমের উদ্বোধন করেন। এরপর থেকেই সিস্টেমটির কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ৪৪৬টি প্রসিকিউশন দেওয়া হয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাসড়কে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো ও উল্টো পথে চলাচলের মতো ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করা হচ্ছে। এরপর ক্যামেরার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট গাড়ির নম্বর শনাক্ত করে মালিকের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে জরিমানার তথ্য পাঠানো হচ্ছে।

নতুন এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা মহাসড়কে ট্রাফিক আইন মানতে চালকদের আরও সতর্ক করবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

যুদ্ধের মধ্যেই ইউক্রেনে নির্বাচন চান সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফেদোরভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
যুদ্ধের মধ্যেই ইউক্রেনে নির্বাচন চান সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফেদোরভ

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চলমান থাকলেও ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ। তাঁর এই দাবিকে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নেতৃত্বের জন্য রুশ আগ্রাসন শুরুর পর অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার ইউটিউবে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ৩৫ বছর বয়সী ফেদোরভ বলেন, ‘রাশিয়ার হাতে আমাদের গণতন্ত্রকে জিম্মি করে রাখা যায় না।’ তাঁর মতে, ইউক্রেন যে স্বাধীন ইউরোপীয় রাষ্ট্র হিসেবে থাকতে চায়, যুদ্ধের অন্যতম কারণ সেটিই।

২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেনে সামরিক আইন জারি রয়েছে। দেশটির আইনে সামরিক আইন চলাকালে নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ নেই। জেলেনস্কির পাঁচ বছরের প্রেসিডেন্ট মেয়াদও ২০২৪ সালের মে মাসে শেষ হয়েছে। তবে সামরিক আইন বহাল থাকায় নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

ফেদোরভ তাঁর ভিডিওতে সরাসরি জেলেনস্কির নাম উল্লেখ করেননি। তবে তিনি ইউক্রেনকে ‘শাসনব্যবস্থার একটি পদ্ধতিগত সংকটের’ মুখোমুখি বলে মন্তব্য করেন এবং বলেন, দেশটি পরিবর্তনকে ভয় পাচ্ছে।

তিনি যুদ্ধের মধ্যেও নির্বাচন আয়োজনের জন্য একটি ‘আইনসম্মত, নিরাপদ ও বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা’ তৈরির আহ্বান জানান, যাতে ইউক্রেন পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরতে পারে।

তবে ফেদোরভ নিজের কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনার কথা জানাননি।

গত মাসে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় অপ্রত্যাশিতভাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় ফেদোরভকে। তাঁর অপসারণের পেছনে সেনাবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ ওলেক্সান্দর সিরস্কির সঙ্গে মতবিরোধকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়।

ফেদোরভকে সরকারের অন্য পদে যাওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে সামরিক উদ্ভাবনবিষয়ক উপপ্রধানমন্ত্রীর পদও ছিল। তবে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবেই ফিরতে চান বলে জানিয়েছিলেন।

ফেদোরভকে সরানোর পর তাঁর সমর্থনে ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভও হয়। এর কয়েক দিনের মধ্যে সিরস্কিকেও তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হওয়ার আগে ইউক্রেনের ডিজিটাল রূপান্তরবিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন ফেদোরভ। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের শুরুর দিকে তিনি ‘আইটি আর্মি অব ইউক্রেন’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ গড়ে তোলেন।

পরবর্তীতে ‘আর্মি অব ড্রোনস’ কর্মসূচির মাধ্যমে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর জন্য তহবিল সংগ্রহেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী থাকাকালে ড্রোন, প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধব্যবস্থা এবং সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহে বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি।

এমনকি রাশিয়ার ড্রোন হামলায় স্টারলিংক স্যাটেলাইট ব্যবহারের অভিযোগের পর স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের কাছেও ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন ফেদোরভ।

ফেদোরভের নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান ইউক্রেনের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি সংসদ নির্বাচনও সামরিক আইন চলাকালে আয়োজন করা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।

রুশ হামলার ঝুঁকি, বাস্তুচ্যুত লাখো ভোটার এবং বিদেশে থাকা ইউক্রেনীয় নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাসহ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নানা বিষয় নির্বাচন আয়োজনকে জটিল করে তুলতে পারে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে যুদ্ধকে নির্বাচনের পথে বাধা হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছিলেন। জেলেনস্কি তখন জানিয়েছিলেন, মিত্ররা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলে ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের জন্য ইউক্রেন প্রস্তুত।

এদিকে ফেদোরভের নির্বাচনের দাবির মধ্যেই ইউক্রেনে রুশ হামলা ও পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে মঙ্গলবারের রুশ হামলায় ইউক্রেনে ১৭ জন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

ফলে যুদ্ধের মধ্যেই ফেদোরভের নির্বাচন দাবির বিষয়টি এখন ইউক্রেনের গণতন্ত্র, নিরাপত্তা ও জেলেনস্কির নেতৃত্ব নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

কালের আলো/এসএ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে এবার আপিল বিভাগে আবেদন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩০ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে এবার আপিল বিভাগে আবেদন

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে করা রিট আবেদন হাইকোর্টে খারিজ হওয়ার পর এবার আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) আবেদনকারী আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদন করার কথা জানান।

এর আগে গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটটি খারিজ করে আদেশ দেন।

গত ১৩ আগস্ট জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। আদালতে রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী ও আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব।

রিটকারী আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দের দাবি, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন না, যা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে ব্যাহত করে। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হয়ে যায়।

এদিকে পূর্বনির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এবারের নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি পদে লড়ছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, এই নির্বাচনে ভোটার হিসেবে ভোট দেবেন জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য। চট্টগ্রাম-৪ আসনটি বর্তমানে শূন্য থাকায় ভোটার সংখ্যা একজন কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪৯-এ।

ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, ব্যালট পেপারে প্রার্থীদের নাম থাকবে। সংসদ সদস্যরা পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে স্বাক্ষর করে ব্যালট নির্ধারিত বাক্সে জমা দেবেন।

ভোটগ্রহণ শেষে সংসদ কক্ষেই ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা করা হবে। ভোটগ্রহণের শুরুর অংশ সরাসরি সম্প্রচার করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর পদটি শূন্য হয়।

পরবর্তীতে ২০ আগস্ট ভোটের তারিখ নির্ধারণ করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ