খুঁজুন
                               
, ,
           

নিয়মিত রোল-অন সুগন্ধি ব্যবহার, নিজের ক্ষতি ডাকছেন না তো?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ
নিয়মিত রোল-অন সুগন্ধি ব্যবহার, নিজের ক্ষতি ডাকছেন না তো?

শীতের পাঠ চুকিয়ে প্রকৃতিতে আসতে চলেছে গ্রীষ্ম। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তাপমাত্রা আর আর্দ্রতা। এসময় শরীরের ঘাম ও দুর্গন্ধ এড়াতে অনেকেই রোল-অন সুগন্ধি ব্যবহার করেন। ছোট হওয়ায় এটি সহজেই ব্যাগে ভরে বহন করা যায়। ব্যবহারে ঝামেলাও কম। কিন্তু নিয়মিত এই পণ্যটি ব্যবহার করার অভ্যাস থাকলে সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে। নয়তো প্রভাব পড়তে পারে ত্বক ও স্বাস্থ্যে।

দীর্ঘ দিন রোল-অন সুগন্ধি ব্যবহার করলে নানাবিধ ক্ষতি এবং সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। চলুন এসম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই-

১. চুলকানি ও অ্যালার্জি
রোল-অন সুগন্ধিতে অ্যালুমিনিয়াম বা অ্যালকোহলযুক্ত উপাদান আছে কি না দেখে নিন। এসব উপাদান দীর্ঘ দিন ব্যবহারের ফলে ত্বকে র‌্যাশ দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি দেখা দিতে পারে চুলকানি ও অ্যালার্জিও।

এর বিশেষ কারণ হলো, রোল-অন ব্যবহার করলে তার অবশিষ্টাংশ বাহুমূলে পড়ে থাকে। সাদা সাদা দাগ হয়ে যায় ত্বকে। এই অবশিষ্টাংশ ত্বকের জন্য মোটেও ভালো নয়। ত্বকের সবচেয়ে বাইরে থাকা এপিডার্মাল স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এর কারণে। উপরন্তু, রোল-অন সুগন্ধি অতিরিক্ত ব্যবহার করলে বাহুমূলে কালচে দাগ হয়ে যেতে পারে।

২. ত্বকে অস্বস্তি
রোল-অন সুগন্ধি ব্যবহার করার পর বাহুমূল বেশ কিছুক্ষণ সিক্ত থাকে। শুকাতে যথেষ্ট সময় নেয়। এই ভিজে ভাবের কারণে অনেকক্ষণ ধরে চটচটে অনুভূতি থাকে, যা ত্বকে অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে গরমকালে বেশি ঘাম হলে অতিরিক্ত ভিজে ভাব সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। সেসময়ে শরীরের দুর্গন্ধও পুরোপুরি কমাতে পারে না রোল-অন ডিওডোরেন্ট।

৩. বৈচিত্র্যের অভাব
বাজারে রকমারি সুগন্ধের রোল-অন পাওয়া যায় না। বাহারি গন্ধের বিকল্প খুবই সীমিত। বাহুমূল পরিচর্যার অন্যান্য পণ্যের তুলনায় রোল-অন-এ বৈচিত্র্য কম। একই পণ্য দীর্ঘ দিন ব্যবহার করতে করতে অনেক সময়ে তার কার্যকারিতাও কম মনে হতে পারে। তাই মাঝেমধ্যে পণ্য বদলানোও ভালো।

কালের আলো/এসআই/এএএন

মদিনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা, হুতিদের দায়ী সৌদি জোট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৫ অপরাহ্ণ
মদিনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা, হুতিদের দায়ী সৌদি জোট

সৌদি আরবের মদিনায় পবিত্র মসজিদে নববির একটি বিদ্যুৎ সরবরাহকেন্দ্রে হামলার জন্য ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। জোটের দাবি, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ড্রোন দিয়ে ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়।

তবে হুতিদের সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, সৌদি জোটের অভিযোগ ভিত্তিহীন।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্রান্সফরমার অচল

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, হামলায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ট্রান্সফরমার অচল হয়ে গেছে। তবে এতে মদিনার বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

জোটের দাবি, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা ও তদন্তের পর তারা নিশ্চিত হয়েছে যে হুতিরাই হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে জড়িত ছিল।

অভিযোগ অস্বীকার হুতিদের

হুতি সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র সৌদি জোটের অভিযোগকে মিথ্যা বলে দাবি করেছে। ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সাবা নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া বক্তব্যে সূত্রটি জানায়, এর আগে সৌদি জোট হুতিদের বিরুদ্ধে পবিত্র মক্কা নগরীতে হামলার চেষ্টা করার অভিযোগ তুলেছিল। কিন্তু সেই অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দিতে পারেনি।

হুতিদের দাবি, ওই ব্যর্থতা আড়াল করতেই এবার মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

মক্কায় ড্রোন হামলার অভিযোগও অস্বীকার

প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সৌদি আরব জানিয়েছিল, মক্কা নগরীর দক্ষিণে একটি হুতি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, ড্রোনটি মক্কার আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয়।

সৌদি জোট তখন দাবি করেছিল, ২০১৭ সালের পর মক্কাকে লক্ষ্য করে এটি হুতিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা। তবে হুতিরা মক্কা কিংবা ইসলামের অন্য কোনো পবিত্র স্থানে হামলার চেষ্টা করার অভিযোগও অস্বীকার করে।

পবিত্র স্থানে হামলার অভিযোগ সৌদি জোটের

মদিনার সাম্প্রতিক ঘটনা প্রসঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযোগ, হুতিরা মসজিদে নববি ও মক্কার মসজিদুল হারামে বারবার হামলার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। মঙ্গলবারের হামলাও সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে দাবি করেছে তারা।

জোটের ভাষ্য, মুসলিমদের উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এসব হামলার চেষ্টা করা হচ্ছে। পবিত্র স্থান ও মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে সৌদি জোট।

সানা ও ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় পাল্টা হামলার দাবি

এদিকে হুতিরা দাবি করেছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও দেশটির অন্যান্য এলাকায় হামলা চালিয়েছে। তবে সৌদি আরব তাৎক্ষণিকভাবে এসব হামলার তথ্য নিশ্চিত করেনি।

ইয়েমেন সরকারের সশস্ত্র বাহিনীর এক মুখপাত্রও জানিয়েছেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সানায় ‘গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালিয়েছে। তবে হামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি।

খামিস মুশাইতে ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি

সৌদি জোট আরও জানিয়েছে, হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের দিকে যাওয়ার সময় শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।

এদিকে স্থানীয় কর্মকর্তারা শুক্রবার ভোরে জানিয়েছেন, হুতিরা এডেনে সৌদি বাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তর লক্ষ্য করে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। তবে এ বিষয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট কিংবা হুতিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

কালের আলো/এসএ

ময়মনসিংহে বাসের সঙ্গে সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৭

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৫ অপরাহ্ণ
ময়মনসিংহে বাসের সঙ্গে সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৭

ময়মনসিংহ নগরীতে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ সাতজন নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে নগরীর বাইপাস সড়কের বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে পূর্বগন্দ্রপা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, রাজীব পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশায় থাকা চালকসহ সাতজন ঘটনাস্থলেই মারা যান।

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. জুলহাস উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে সিএনজি অটোরিকশার চালকও রয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছেন। নিহতদের পরিচয় ও দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

থার্ড টার্মিনালের চাবি কার হাতে?

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
থার্ড টার্মিনালের চাবি কার হাতে?

২২ হাজার ২১৩ কোটি টাকার অবকাঠামো দাঁড়িয়ে আছে। আধুনিক যন্ত্রপাতিও বসানো হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর থেকে ফ্লাইট চালুর লক্ষ্য নিয়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিও চলছে। কিন্তু হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের সামনে এখন সবচেয়ে বড় বাধা কোনো নির্মাণকাজ নয়—কে, কী শর্তে এবং কোন কাঠামোয় টার্মিনালটি চালাবে, সেই চুক্তি।

জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। রাজস্ব ভাগাভাগি, বিমানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং থেকে আয়ের অংশ এবং সেই আয়ের নিশ্চয়তায় রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি—একাধিক শর্তে দুই পক্ষের দরকষাকষি চলছে। বেবিচক ৩১ অক্টোবরের মধ্যে চুক্তি সেরে ফেলতে চাইছে। কারণ চুক্তি যত পিছোবে, ডিসেম্বরের চালুর সময়সূচিও তত অনিশ্চিত হবে।

  • অবকাঠামো প্রস্তুত হলেও পরিচালনা চুক্তিতে অচলাবস্থা
  • জাপানের সঙ্গে রাজস্ব ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং নিয়ে দরকষাকষি
  • সামনে ডিসেম্বরের সময়সীমা

এর মধ্যে প্রকল্পের ব্যয়ও থামছে না। সর্বশেষ ৮৪৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় করা হয়েছে ২২ হাজার ২১৩ কোটি ৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ ব্যয়ের অঙ্ক বাড়ছে, ভবন প্রস্তুত হচ্ছে; কিন্তু যাত্রীসেবা শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় অপারেশনাল কাঠামো এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।

জটের কেন্দ্রে জাপানি কনসোর্টিয়াম

তৃতীয় টার্মিনালের মূল অবকাঠামোর বড় অংশের কাজ শেষ। আধুনিক ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং, বোর্ডিং ব্রিজ, মেকানিক্যাল সার্ভিস ও আইটি নেটওয়ার্কও স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু বিমানবন্দর পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল, সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন ও অপারেশনাল কাঠামো এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। পিপিপি মডেলে টার্মিনালের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব জাপানি কনসোর্টিয়ামের হাতে দেওয়ার কথা। আগস্টে তারা কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব জমা দিয়েছে।

মূল্যায়ন শেষে আলোচনা শুরু হলেও চুক্তির শর্ত নিয়ে এখনো সমঝোতা হয়নি। বেবিচকের একাধিক সূত্রের ভাষ্য, সময়ক্ষেপণের কারণে উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ চুক্তি স্বাক্ষরের পরও জাপানি অপারেটরের জনবল নিয়োগ, প্রযুক্তিগত সিস্টেম স্থাপন এবং ট্রায়াল রান শেষ করতে সময় লাগবে।

৮৫ শতাংশ থেকে নতুন দরকষাকষি

আলোচনার সবচেয়ে স্পর্শকাতর জায়গা রাজস্ব ভাগাভাগি। আগের কাঠামোয় জাপানি অংশীদারের অংশ ছিল ৮৫ শতাংশ, বাংলাদেশের ১৫ শতাংশ। নতুন প্রস্তাব ঘিরে পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, আয়-ব্যয় ও অংশীদারত্বের কাঠামো নিয়ে চলছে দরকষাকষি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবসা।

বিমান তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পরিচালনা করতে পারবে—এমন কাঠামো নিয়ে আলোচনা রয়েছে। কিন্তু এই খাতের আয় থেকেও অংশ চাচ্ছে জাপানি প্রতিষ্ঠান। বিমানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, টার্মিনাল দ্রুত চালুর স্বার্থে এ বিষয়ে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা রয়েছে। তবে জাপানি পক্ষ আয় ভাগাভাগির পাশাপাশি রাষ্ট্রের কাছ থেকে লিখিত গ্যারান্টি চাইছে। ফলে একটি টার্মিনাল চালুর চুক্তি এখন শুধু অপারেশনাল বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব ও রাষ্ট্রীয় দায়ের প্রশ্নও।

চুক্তি হলেও সময় থাকবে মাত্র কয়েক সপ্তাহ

বেবিচক ৩১ অক্টোবরের মধ্যে চুক্তি করতে চাইছে। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরই শেষ ধাপ নয়। অপারেটরকে জনবল নিয়োগ, নিজস্ব সিস্টেম স্থাপন, প্রশিক্ষণ ও ট্রায়াল রান করতে হবে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থার ছাড়পত্র, নিরাপত্তা মহড়া এবং গ্রাউন্ড অপারেশনের সক্ষমতা যাচাইও প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, টার্মিনালের সামগ্রিক প্রকল্পের প্রায় ১০ শতাংশ কাজ এখনো বাকি। এর মধ্যে রয়েছে শেষ মুহূর্তের অভ্যন্তরীণ কাজ, সফটওয়্যার ও ডেটা ইন্টিগ্রেশন, কাস্টমস-ইমিগ্রেশনের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কিছু যন্ত্রপাতি স্থাপন। ফলে অক্টোবরের শেষে চুক্তি হলেও ডিসেম্বরের মাঝামাঝি ফ্লাইট চালু করতে প্রস্তুতির জন্য সময় থাকবে খুবই সীমিত।

ব্যয় বাড়ছে, সময়ও গড়াচ্ছে

প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা দিয়ে শুরু হয়েছিল তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্প। কয়েক দফা সংশোধনের পর ব্যয় ২১ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকার বেশি হয়। সর্বশেষ আরও ৮৪৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা যোগ হয়েছে। এতে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ২১৩ কোটি ৯ লাখ টাকা। এখন তাই প্রকল্পের সাফল্যের মাপকাঠি শুধু নির্মাণ শেষ হওয়া নয়। এত বড় বিনিয়োগের অবকাঠামো কত দ্রুত পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবহার করা যাচ্ছে, সেটিই হয়ে উঠেছে মূল প্রশ্ন।

কক্সবাজারে নতুন টার্মিনাল, ঢাকায় পুরোনো জট

থার্ড টার্মিনালের জটিলতার বিপরীতে কক্সবাজারে এগিয়েছে নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনালের কার্যক্রম। পরীক্ষামূলক যাত্রীসেবা শুরু হয়েছে। চলতি মাসেই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর কথা। নতুন টার্মিনালে রয়েছে সাতটি স্ক্যানার, ১৪টি চেক-ইন কাউন্টার এবং ১০টি ইমিগ্রেশন ডেস্ক। হোল্ড ও কেবিন ব্যাগেজ স্ক্যানিংয়ের পাশাপাশি রয়েছে আধুনিক ব্যাগেজ কন্ট্রোল ও নিরাপত্তাব্যবস্থা। কক্সবাজার বিমানবন্দরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) গোলাম মোর্তজা হোসেন জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য তারা প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় জনবলও রয়েছে।

এখন প্রশ্ন একটাই

শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালকে দেশের এভিয়েশন খাতের ‘গেম চেঞ্জার’ বলা হচ্ছে। কিন্তু ১৬ ডিসেম্বরের লক্ষ্য পূরণ এখন নির্ভর করছে কয়েকটি শর্তের ওপর—চুক্তি, অপারেটরের প্রস্তুতি, ট্রায়াল রান, নিরাপত্তা মহড়া এবং প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দরজাটি এখনো খোলেনি। ২২ হাজার কোটি টাকার টার্মিনাল দাঁড়িয়ে আছে; এখন দেখার বিষয়, ৩১ অক্টোবরের মধ্যে চুক্তির তালা খুলে ১৬ ডিসেম্বর সত্যিই আকাশে ওঠে কি না প্রথম ফ্লাইট।

কালের আলো/টিইকে/এমকে