খুঁজুন
                               
, ,
           

বায়তুল মোকাররমে ঈদুল ফিতরের ৫ জামাত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ১২:৪৪ অপরাহ্ণ
বায়তুল মোকাররমে ঈদুল ফিতরের ৫ জামাত

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী শুক্রবার বা শনিবার (২০ বা ২১ মার্চ) দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার (১৮ মার্চ) ইসলামিক ফাউন্ডেশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে দেশের প্রধান ঈদ জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হবে। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক জাতীয় ঈদগাহে ইমামতি করবেন। বিকল্প ইমাম হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফাসসির ড. মাওলানা মো. আবু ছালেহ পাটোয়ারী প্রস্তুত থাকবেন। ঈদুল ফিতরে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে ৫টি ঈদ জামাত সকাল ৭টা, সকাল ৮টা, সকাল ৯টা, সকাল ১০টা ও সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

প্রথম জামাতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান, দ্বিতীয় জামাতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী, তৃতীয় জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মাওলানা মো. জাকির হোসেন, চতুর্থ জামাতে ইমাম প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমির ধর্মীয় প্রশিক্ষক মাওলানা যোবায়ের আহমেদ আল আযহারী এবং পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ইমামতি করবেন।

এ সময় বিকল্প ইমাম হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী লাইব্রেরিয়ান মাওলানা শহীদুল ইসলাম প্রস্তুত থাকবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

কালের আলো/এসএকে

ইউআইইউতে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতা নিয়ে কর্মশালা

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
ইউআইইউতে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতা নিয়ে কর্মশালা

অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, সাইবার হয়রানি ও প্রযুক্তিনির্ভর লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বাড়াতে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার অনুষ্ঠিত ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতাবিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালা’ শীর্ষক আয়োজনে শিক্ষার্থীদের অনলাইন নিরাপত্তা সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা দেওয়া হয়। প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে সংঘটিত বিভিন্ন ধরনের লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা নিয়েও আলোচনা করা হয়।

কাশফুল ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় কর্মশালাটির আয়োজন করে ইউআইইউর ডিরেক্টরেট অব ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং অ্যান্ড স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স (ডিসিসিএসএ)।

কর্মশালায় বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তবে একই সঙ্গে বাড়ছে ভুয়া অ্যাকাউন্ট, অনলাইন প্রতারণা, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার, অ্যাকাউন্ট চুরি, সাইবার নিপীড়ন ও হয়রানির ঝুঁকি। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যক্তিগত তথ্য ও অনলাইন পরিচয় সুরক্ষিত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আলোচনায় ভুয়া প্রোফাইল ও প্রতারণা শনাক্তের উপায়, ব্যক্তিগত তথ্য ও গোপনীয়তা রক্ষার কৌশল এবং অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে তাৎক্ষণিক করণীয় সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়।

আয়োজকেরা জানান, শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হওয়াই যথেষ্ট নয়; নিরাপদ ও দায়িত্বশীল অনলাইন আচরণ গড়ে তোলাও জরুরি। শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অনলাইন ঝুঁকি মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত প্রস্তুতি তৈরিই কর্মশালাটির মূল লক্ষ্য।

কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মানবসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (এইচআরডিআই) সহকারী পরিচালক আমীর হামজা, কাশফুল ফাউন্ডেশনের কর্মসূচি ও যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক তনিমা তাবাসসুম, ইউআইইউর ডিসিসিএসএর পরিচালক নাহিদ হাসান খান, ইউআইইউএলডাব্লিউএফের সভাপতি লুৎফুল খবীর ও সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এসএ

সন্তান প্রতিপালনে ইসলামের শিক্ষা

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৪ অপরাহ্ণ
সন্তান প্রতিপালনে ইসলামের শিক্ষা

সন্তান প্রতিপালনে অতিরিক্ত কঠোরতা যেমন ক্ষতিকর, তেমনি অতিরিক্ত প্রশ্রয়ও শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে বাধা তৈরি করতে পারে। ইসলাম সন্তান লালন-পালনে ভালোবাসা, শাসন, ধৈর্য ও নৈতিক শিক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আপনি আপনার রবের পথে আহ্বান করুন প্রজ্ঞা এবং উত্তম উপদেশের মাধ্যমে।’ (সুরা নাহল, আয়াত: ১২৫) পরিবারে সন্তানের ক্ষেত্রেও প্রজ্ঞা ও কোমলতার এই নীতি গুরুত্বপূর্ণ।

আল্লাহ আরও বলেন, ‘আল্লাহর দয়াতেই আপনি তাদের প্রতি কোমল হৃদয় হয়েছেন; যদি আপনি রূঢ়ভাষী ও কঠিন মনের হতেন, তবে তারা সবাই আপনার চারপাশ থেকে দূরে সরে যেত।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৫৯)

তবে সন্তানকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ছেড়ে দেওয়াও ইসলামের শিক্ষা নয়। কোরআনে পরিবারকে নৈতিকভাবে সুরক্ষিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবারবর্গকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।’ (সুরা তাহরিম, আয়াত: ৬)

নবীজির আচরণে ছিল স্নেহ ও কোমলতা

রাসুলুল্লাহ (সা.) শিশুদের প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রদর্শন করতেন। তিনি তাঁর দৌহিত্র হাসান (রা.)-কে ভালোবাসতেন এবং তাঁর জন্য দোয়া করতেন। শিশুদের আদর না করা প্রসঙ্গে তিনি দয়া ও মমতার গুরুত্বও তুলে ধরেছেন।

হাদিসে এসেছে, ‘যেকোনো বিষয়ের সঙ্গে যখন কোমলতা যুক্ত হয়, তখন তা সেই বিষয়কে সুন্দর ও পূর্ণাঙ্গ করে তোলে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৯৪)

হজরত আনাস (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, পরিবার ও শিশুদের প্রতি নবীজি (সা.)-এর মতো অধিক দয়ালু মানুষ তিনি দেখেননি।

বয়স অনুযায়ী শিক্ষা দেওয়ার গুরুত্ব

সন্তানকে কোনো ভালো কাজে অভ্যস্ত করতে ধৈর্য ও ধারাবাহিকতার প্রয়োজন। নামাজের বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) সন্তানদের সাত বছর বয়স থেকে নির্দেশ দিতে এবং ধীরে ধীরে অভ্যাস করানোর কথা বলেছেন। এতে বোঝা যায়, গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা একদিনে চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে ছোটবেলা থেকেই ধীরে ধীরে গড়ে তোলা উচিত।

শারীরিক শাসনে সতর্কতা

সন্তানকে শাসনের ক্ষেত্রে রাগ বা প্রতিশোধের মনোভাব ইসলাম সমর্থন করে না। শাসনের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সংশোধন। শিশুর মুখ বা সংবেদনশীল অঙ্গে আঘাত করা এবং এমনভাবে শাসন করা যাতে শরীরে ক্ষত বা দাগ সৃষ্টি হয়—এসব বিষয়ে ইসলামি শিক্ষায় কঠোর সতর্কতা রয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিজের আচরণও ছিল কোমলতার উদাহরণ। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, নবীজি (সা.) নিজের হাতে কোনো নারী বা সেবককে আঘাত করেননি।

গালমন্দ ও বদদোয়া নয়

শুধু শারীরিক আঘাত নয়, কটু কথা, অপমান, গালমন্দ কিংবা সন্তানের প্রতি বদদোয়াও শিশুর মনে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) মুমিনকে কটুভাষী, অভিশাপকারী ও অশ্লীলভাষী হতে নিষেধ করেছেন।

সন্তানদের ওপর বদদোয়া করতেও নিষেধ করেছেন তিনি। তাই ভুল করলে অপমান না করে বোঝানো, সংশোধনের সুযোগ দেওয়া এবং ভালো আচরণের মাধ্যমে দিকনির্দেশনা দেওয়াই ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সন্তান মা-বাবার জন্য একটি আমানত। তাকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শুধু কঠোর শাসন বা সীমাহীন প্রশ্রয় নয়—ভালোবাসা, ধৈর্য, নৈতিক শিক্ষা, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং মা-বাবার নিজেদের উত্তম আচরণই গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এসএ

নজরুলের মাদারীপুর আগমন: মৎস্যজীবীদের অধিকার থেকে ‘ধীবরদের গান’

সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১৯ অপরাহ্ণ
নজরুলের মাদারীপুর আগমন: মৎস্যজীবীদের অধিকার থেকে ‘ধীবরদের গান’

১৯২৬ সালের মার্চ। মাদারীপুর তখন ব্রিটিশবিরোধী রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সেই সময় নিখিল বঙ্গীয় ও আসাম প্রাদেশিক মৎস্যজীবী সম্মিলনীর তৃতীয় অধিবেশনকে ঘিরে শহরে তৈরি হয়েছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। মৎস্যজীবীদের অধিকার ও স্বার্থ নিয়ে আয়োজিত সেই সম্মেলনে অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম। শুধু অতিথি হিসেবেই নয়, তাঁর গান ও উপস্থিতি সম্মেলনের আবহকে দিয়েছিল ভিন্ন মাত্রা।

১৯২৬ সালের ১০ মার্চ সন্ধ্যায় স্টিমারযোগে মাদারীপুরে পৌঁছান নজরুল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সম্মেলনের সভাপতি হেমন্ত কুমার সরকার, বসন্ত কুমার মজুমদার ও হেমপ্রভা মজুমদার। তাঁদের স্বাগত জানাতে মাদারীপুর স্টিমারঘাটে জড়ো হয়েছিলেন প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ। স্থানীয় অভ্যর্থনা কমিটির সভাপতি ছিলেন ড. প্রতাপচন্দ্র গুহরায় এবং সম্পাদক কার্তিকচন্দ্র মল্ল বর্মণ।

পরদিন ১১ মার্চ সকালে শুরু হয় সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন। নজরুল স্বরচিত উদ্দীপনামূলক গান ‘জেলেদের গান’ পরিবেশনের মাধ্যমে অধিবেশনের সূচনা করেন। পরে গানটি তাঁর ‘সর্বহারা’ কাব্যগ্রন্থে ‘ধীবরদের গান’ নামে সংকলিত হয়।

গানটির সূচনাই ছিল জাগরণের আহ্বান—

‘শোন্ রে ও ভাই জেলে,
এবার উঠ্‌ব রে সব ঠেলে।’

মৎস্যজীবীদের জীবনসংগ্রাম, শোষণ ও অধিকারবঞ্চনার বাস্তবতা গানটির মূল বিষয়। মুটে-মজুর, কৃষকসহ অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষ যখন নিজেদের অধিকার আদায়ে সংগঠিত হচ্ছে, তখন মৎস্যজীবীরাও কেন পিছিয়ে থাকবে—এই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে নজরুল তাঁদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

‘লাঙল’ পত্রিকার দ্বাদশ সংখ্যায় গানটি প্রকাশিত হওয়ার সময় এর নিচে উল্লেখ করা হয়েছিল যে এটি মাদারীপুরে অনুষ্ঠিত মৎস্যজীবী সম্মেলনের উদ্বোধনী সংগীত। ফলে গানটির সঙ্গে মাদারীপুরের ঐতিহাসিক সম্পর্কটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট।

বিপ্লবী মাদারীপুর ও প্রতাপচন্দ্র গুহরায়

নজরুলের মাদারীপুর সফরের পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। স্বদেশী আন্দোলনের সময় থেকেই মাদারীপুর বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে। অনুশীলন সমিতি ও যুগান্তর সমিতির কার্যক্রমের পাশাপাশি স্থানীয় বিপ্লবী সংগঠনগুলোও সেখানে সক্রিয় ছিল।

পূর্ণচন্দ্র দাস ১৯২১ সালে গড়ে তোলেন ‘মাদারীপুর শান্তি সেনা সমিতি’। ড. প্রতাপচন্দ্র গুহরায়ও একসময় এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি গান্ধীর জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে যুক্ত হন এবং দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের নেতৃত্বে স্বরাজ্য দলে যোগ দেন।

১৯২৬ সালের মৎস্যজীবী সম্মেলনের অভ্যর্থনা কমিটির সভাপতি হিসেবে প্রতাপচন্দ্র গুহরায়ের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী, মৎস্যজীবী প্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে সম্মেলনটি বড় জনসমাবেশে পরিণত হয়েছিল।

উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নজরুলের গান

সম্মেলনের একটি পর্যায়ে উদ্যোক্তা ও প্রতিনিধিদের মধ্যে মতপার্থক্য থেকে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেই সময় নজরুল হারমোনিয়াম হাতে গান শুরু করেন। তাঁর সংগীত পরিবেশনের ফলে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে। পরে শ্রোতাদের অনুরোধে তিনি আরও গান পরিবেশন করেন।

এই ঘটনাটি নজরুলের সংগীতকে কেবল সাংস্কৃতিক বিনোদন হিসেবে নয়, জনসমাবেশে মানুষের আবেগ ও মনোভাবকে প্রভাবিত করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের দৃষ্টান্ত হিসেবেও বিবেচনা করা যায়।

মাদারীপুরেই ‘হেমপ্রভা’

সম্মেলন শেষ হওয়ার পরও নজরুল মাদারীপুরে ছিলেন। ২৯ ফাল্গুন ১৩৩২ বঙ্গাব্দে, অর্থাৎ সম্মেলনের পরদিন, তিনি মাদারীপুরে বসেই রচনা করেন ‘হেমপ্রভা’।

গানটির নিচে কবি স্থান ও তারিখ হিসেবে লিখেছিলেন—‘মাদারীপুর, ২৯শে ফাল্গুন, ১৩৩২’। হেমপ্রভা মজুমদারের রাজনৈতিক তেজ, দেশপ্রেম ও ব্যক্তিত্বে অনুপ্রাণিত হয়েই এই গীতিকবিতা রচিত হয়েছিল বলে এর বিষয়বস্তু থেকে বোঝা যায়।

গানের শুরু—

‘এসো বাংলার চাঁদ-সুলতানা
বীর-মাতা বীর-জায়া গো।’

এখানে নজরুল একজন নারী রাজনৈতিক নেত্রীর মধ্যে দেশমাতৃকার মুক্তির আকাঙ্ক্ষা ও সংগ্রামী চেতনাকে দেখতে পেয়েছেন। নারীজাগরণ, দেশপ্রেম এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা গানটির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

শতবর্ষে ফিরে দেখা

নজরুলের মাদারীপুর সফরের শতবর্ষ পূর্তি কেবল একটি ঐতিহাসিক তারিখ স্মরণ করার উপলক্ষ নয়; এটি মাদারীপুরের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও শ্রমজীবী মানুষের ইতিহাসকে নতুন করে সামনে আনার সুযোগ।

এই ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণে কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। ১৯২৬ সালের স্টিমারঘাট বা মৎস্যজীবী সম্মেলনের স্থান শনাক্ত করে সেখানে স্মৃতিফলক স্থাপন করা যেতে পারে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ কোনো সড়ক, মিলনায়তন বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম নজরুলের নামে রাখা যেতে পারে।

জেলা শিল্পকলা একাডেমি বা পাবলিক লাইব্রেরিতে একটি ‘নজরুল কর্নার’ স্থাপন করে তাঁর বই, পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত লেখা এবং মাদারীপুর সফরসংক্রান্ত ঐতিহাসিক দলিল সংরক্ষণ করা যেতে পারে।

একই সঙ্গে ‘ধীবরদের গান’, ‘হেমপ্রভা’সহ মাদারীপুরে নজরুলের অবস্থান ও সৃষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য জনসাধারণের কাছে তুলে ধরা যেতে পারে। আড়িয়াল খাঁ নদের তীরবর্তী কোনো এলাকায় মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের ইতিহাস ও নজরুলের সাম্যবাদী চেতনা তুলে ধরে একটি স্মারক স্থাপনও করা যেতে পারে।

সবশেষে, নজরুলের মাদারীপুর আগমনের শতবর্ষ উপলক্ষে সেমিনার, নজরুলসংগীত পরিবেশনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গবেষণাভিত্তিক আলোচনা এবং একটি মানসম্মত স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করা যেতে পারে।

১৯২৬ সালে মাদারীপুরে নজরুলের আগমন ছিল একটি নির্দিষ্ট সম্মেলনকে কেন্দ্র করে। কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া গান ও স্মৃতি সেই ঘটনাকে ছাড়িয়ে গেছে। মৎস্যজীবীদের অধিকার, শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম, সাম্য এবং স্বাধীনতার যে চেতনা তাঁর সৃষ্টিতে প্রতিফলিত হয়েছিল, শত বছর পরও তা মাদারীপুরের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।

কালের আলো/এসএ