খুঁজুন
                               
, ,
           

সীমান্তে ‘জিরো টলারেন্স’, বিজিবিকে আরও কঠোর হওয়ার বার্তা রাষ্ট্রপতির

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৪ অপরাহ্ণ
সীমান্তে ‘জিরো টলারেন্স’, বিজিবিকে আরও কঠোর হওয়ার বার্তা রাষ্ট্রপতির

দেশের সীমান্ত নিরাপত্তাকে আরও কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর করার ওপর জোর দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সীমান্তে চোরাচালান, মাদক ও মানবপাচারের মতো অপরাধের পাশাপাশি ‘পুশ ইন’ এবং সীমান্ত হত্যা বন্ধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর সৌজন্য সাক্ষাতে সীমান্ত নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিজিবি মহাপরিচালক রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করায় তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। এ সময় বিজিবির সামগ্রিক কার্যক্রম, সীমান্তে নজরদারি জোরদার এবং বাহিনীতে অত্যাধুনিক ড্রোনসহ আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের উদ্যোগ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন মহাপরিচালক।

  • চোরাচালান, মাদক ও মানবপাচার ঠেকানোর পাশাপাশি ‘পুশ ইন’ ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের তাগিদ
  • নজরদারিতে অত্যাধুনিক ড্রোন ও প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবরা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালকের বৈঠক থেকে সীমান্ত নিরাপত্তায় আরও সক্রিয় ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার প্রত্যাশাই প্রতিফলিত হয়েছে। এখন এই প্রত্যাশাকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দিতে বিজিবির সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং মাঠপর্যায়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর জোর দেওয়াই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।

শুধু জনবল নয়, প্রযুক্তিনির্ভর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা
সীমান্ত নিরাপত্তার প্রচলিত ধারণা এখন অনেকটাই বদলে গেছে। দুর্গম সীমান্ত এলাকা, রাতের অন্ধকার, নদীপথ এবং সীমান্তবর্তী জনপদে অপরাধীদের গতিবিধি নজরদারিতে শুধু জনবলনির্ভর টহল যথেষ্ট নয়। এ বাস্তবতায় ড্রোন, উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা ও অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বিজিবির সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতে বিজিবির পক্ষ থেকে প্রযুক্তি সংযোজনের যে উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে, তা সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে দুর্গম ও বিস্তৃত এলাকায় আকাশপথে নজরদারি বাড়াতে ড্রোন কার্যকর হতে পারে। সন্দেহজনক গতিবিধি শনাক্তের পাশাপাশি দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষেত্রেও এসব প্রযুক্তি সহায়ক হতে পারে। রাষ্ট্রপতিও সীমান্ত সুরক্ষায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন এবং এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

চোরাচালান ও মাদক: সীমান্ত নিরাপত্তার বড় চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত অন্যতম বড় সমস্যা চোরাচালান ও মাদকপাচার। সীমান্তের বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে অবৈধ পণ্য ও মাদক প্রবেশের সুযোগ তৈরি হলে তা শুধু রাজস্ব ক্ষতিই করে না, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলে। এ কারণে বিজিবির নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন। প্রযুক্তির ব্যবহার এখানে সহায়ক হলেও কার্যকর গোয়েন্দা তথ্য, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় সমান গুরুত্বপূর্ণ।

‘পুশ ইন’ ও সীমান্ত হত্যা: সংবেদনশীল দুই ইস্যু
রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে ‘পুশ ইন’ ও সীমান্ত হত্যার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এসব ঘটনা সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সংবেদনশীল। সীমান্তে যেকোনো প্রাণহানি রোধে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, আন্তর্জাতিক ও দ্বিপক্ষীয় নীতিমালা অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ জরুরি। একই সঙ্গে সীমান্তে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই তা শনাক্ত করে প্রতিরোধের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা থেকে স্পষ্ট, সীমান্ত নিরাপত্তাকে শুধু অপরাধ দমন হিসেবে নয়, বরং মানবিকতা, জাতীয় নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক বাস্তবতার সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে দেখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

সামনে বড় চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়ন
বিজিবির সক্ষমতা বাড়াতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে প্রযুক্তি কেনার পাশাপাশি এর যথাযথ ব্যবহার, প্রশিক্ষিত জনবল, রক্ষণাবেক্ষণ এবং তথ্য বিশ্লেষণের সক্ষমতাও নিশ্চিত করতে হবে। সীমান্তে অপরাধের ধরন ক্রমেই পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই প্রযুক্তি ও জনবলের সমন্বিত ব্যবহার, গোয়েন্দা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক তৈরি—এই তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

কালের আলো/এমএএএমকে

‘মক্কা জোটের’ আত্মপ্রকাশ, নতুন সদস্যের আলোচনায় এগিয়ে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ
‘মক্কা জোটের’ আত্মপ্রকাশ, নতুন সদস্যের আলোচনায় এগিয়ে বাংলাদেশ

ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা করে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করল পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের ত্রিপক্ষীয় সামরিক জোট ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ (Mecca Defence Alliance)।

সোমবার (৩১ আগস্ট) তুরস্কের ইস্তাম্বুলে তিন দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সেনা প্রধানদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জোটের নাম চূড়ান্ত ও এর সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে অন্য মুসলিম দেশগুলোকে এই প্রতিরক্ষা কাঠামোয় যুক্ত করার জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরির বিষয়ে একমত হয়েছে তিন দেশ।

বৈঠকে পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তুরস্কের পক্ষে ছিলেন- পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের ও চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারোগলু। সৌদি আরবের প্রতিনিধিদলে ছিলেন- পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান এবং সামরিক প্রধান ফাইয়াদ আল-রুওয়াইলি।

বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জোটের মূল লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

তিনি জানান, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে জোটের একটি স্থায়ী সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন পাকিস্তানের একজন প্রতিনিধি।

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই চুক্তির মাধ্যমে আমাদের অঞ্চলে একটি নতুন নিরাপত্তা ও সহযোগিতা কাঠামোর পরীক্ষামূলক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই সামরিক জোট সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক আইনের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রাখা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা প্রদর্শনই এই জোটের মূল স্তম্ভ।’

আরও দেশের এই জোটে যোগদান নিয়ে ফিদান স্পষ্ট করেন, ‘সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই এই জোট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে আগ্রহী যেকোনো মুসলিম বা অংশীদার রাষ্ট্রের জন্য এই জোটের দরজা উন্মুক্ত থাকবে। তবে যোগদানের শর্ত, পদ্ধতি এবং মানদণ্ড নিয়ে সম্ভাব্য ও বর্তমান উভয় সদস্যের সঙ্গেই আলোচনার প্রয়োজন হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন সম্ভাব্য নতুন সদস্যের উচিত একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ও কার্যকরভাবে পরিচালিত কাঠামোতে যোগদান করা। আমরা এখন কঠিন অংশটি, অর্থাৎ প্রতিষ্ঠা পর্বটি সম্পন্ন করতে একসঙ্গে কাজ করছি।’

নতুন সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের নাম ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের পরিধি বাড়াতে তিন প্রতিষ্ঠাতা দেশ- পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক অত্যন্ত আগ্রহী।

চলতি মাসেই পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, চুক্তিটি শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে তৈরি এবং এতে অন্য দেশগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিদানও জানিয়েছেন, আঙ্কারা এই কাঠামোটিকে তিনটি প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রের বাইরেও প্রসারিত করতে চায়।

এদিকে জোটের সম্প্রসারণের দৌড়ে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে এসেছে বাংলাদেশের নাম। প্রকাশ্যে আগ্রহ প্রকাশে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ঢাকা।

সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, ঢাকা এই জোটে যোগ দিতে নীতিগত আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, একটি মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে বাংলাদেশের এমন একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়া মোটেও অস্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়।

এরপরই মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের আগ্রহ নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসলামাবাদ।

গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি একটি পরিবর্তনশীল ও ক্রমবিকাশমান নিরাপত্তা কাঠামো। যৌথ দায়বদ্ধতা এবং সাধারণ নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষায় আগ্রহী যেকোনো দেশের জন্যই এই জোট উন্মুক্ত।

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বা অন্য কোনো দেশের পক্ষ থেকে চুক্তিতে যোগদানের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ আসলে তা সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পরামর্শ করে বিবেচনা করা হবে’।

আর কারা যোগ দিতে পারে?
বাংলাদেশ ছাড়াও এই জোটে যোগ দেওয়ার তালিকায় শীর্ষ প্রার্থী হিসেবে রয়েছে মিসর।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাতি জানিয়েছেন, তাদের সরকার অন্যান্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিশ্রুতিগুলো খতিয়ে দেখে জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

এছাড়া পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে কাতার, কুয়েত এবং বাহরাইন এই জোটে যোগ দিতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। কারণ এই দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর একক নিরাপত্তা নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের সামরিক অংশীদারিত্বে বৈচিত্র্য আনতে চায়। তবে এ নিয়ে তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

ইস্তাম্বুলের ইবন খালদুন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ গোকান এরেলি মিশরকে ‘সবচেয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং আরব কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কায়রোর ভূমিকা ও আঙ্কারার সঙ্গে তার সাম্প্রতিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন।

তবে কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের গালফ স্টাডিজ সেন্টারের গবেষক সিনেম চেঙ্গিজ এই জোটে মিসরের যোগদান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

তার মতে, মিসরের পরিবর্তে তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিকট ভবিষ্যতে এই জেটে যোগ দেবে।

কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনের নাম উল্লেখ করে চেঙ্গিজ বলেন, ‘স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর সঙ্গে তাদের আগে থেকেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও তাদের নিরাপত্তা অংশীদারিত্বে বৈচিত্র্য আনতে আগ্রহী।

অন্যদিকে রিয়াদের কিং ফয়সাল সেন্টারের গবেষক উমর করিম বলেছেন, যেকোনো সম্প্রসারণের জন্য তিন প্রতিষ্ঠাতা অংশীদারের মধ্যে নতুন কোনো সদস্যের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য প্রয়োজন হবে, বিশেষ করে যদি সেই রাষ্ট্রটি নিজেই আঞ্চলিক হুমকির মুখে ঝুঁকিপূর্ণ হয়।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ, মিশর বা সিরিয়ার যোগদানের সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু সকল অংশীজনের মধ্যে প্রয়োজনীয় বোঝাপড়া তৈরি হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।’

প্রসঙ্গত, গত ৭ আগস্ট পবিত্র নগরী মক্কায় গুরুত্বপূর্ণ যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি স্বাক্ষর করে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান।

‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে ওই চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। কোনো সদস্য আক্রান্ত হলে বাকি দুই দেশ তাকে সামরিক ও কৌশলগত সহায়তা দিতে বাধ্য থাকবে, যা পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ‘আর্টিকেল-৫’ এর মতো একটি যৌথ প্রতিরোধ ব্যবস্থা।

সূত্র: আলজাজিরা, আনাদোলু

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির শক্তির উৎস: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০৯ অপরাহ্ণ
দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির শক্তির উৎস: তারেক রহমান

দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারম্যন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপির অপর নাম একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম।

আগামীকাল (১ সেপ্টেম্বর) বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার (৩১ আগস্ট) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সাহস, সংগ্রাম, ত্যাগ আর সাফল্যের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনটি বাংলাদেশি মানুষের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার।

বাণীতে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৮ সালের এই দিনে এক শুভ বিকেলে ঢাকার রমনা বটমূলের খোলা চত্বরে (রমনা রেস্তোরাঁ প্রাঙ্গণে) বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে বিএনপির প্রতিষ্ঠা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা।

তিনি বলেন, মানুষের বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি অভিশপ্ত একদলীয় ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে প্রথমেই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় সময়ের প্রয়োজনে নতুন রাজনৈতিক দল বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে, বাংলাদেশে বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের নতুন করে পথচলা শুরু হয়।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে স্বাধীনতার মহান ঘোষক, সফল রাষ্ট্রনায়ক ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন তারেক রহমান।

একই সঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তার সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপিকে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র কিংবা সুশাসন প্রতিষ্ঠাই নয়, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায়ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে। দেশে যতবারই স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন হয়েছে, ততবারই গণতন্ত্রকামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী, শুভার্থী ও সমর্থকগণ অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দেশে গণতন্ত্র এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত যারা প্রাণোৎসর্গ করেছেন, আহত হয়েছেন, তিনি সকল পর্যায়ের সেই নেতাকর্মীর অবদানকেও গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন।

বাণীতে তিনি বলেন, দেশে যতবারই জনগণ নির্ভয়ে অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, ততবারই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে সরকার পরিচালনার সময় দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, নারীশিক্ষার প্রসারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বিএনপি সরকারের আমলে নেওয়া হয়েছে।

দেশে গণতন্ত্র সমুন্নত রাখা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য বিএনপির উদ্যম ও উদ্যোগের ফলে দলটি দেশবাসীর কাছে এখন সর্বাধিক জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল।

তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসানের পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ আবারও বিএনপি-কে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। দেশের জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই বিএনপি জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায়। সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রেখে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভার্থী দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদের নিবেদন করে আগামী দিনগুলোতেও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে, ইনশাআল্লাহ।

বিএনপি বিশ্বাস করে, দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। বিএনপির অপর নাম- একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আমি আবারও গণতন্ত্রকামী, স্বাধীনতাপ্রিয় দেশবাসীকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানাই।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যা আজকের না, দীর্ঘদিনের: বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী

নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০০ অপরাহ্ণ
গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যা আজকের না, দীর্ঘদিনের: বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা আজকে তৈরি হয়নি, এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা বলে মন্তব্য করেছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।

সোমবার (৩১ আগস্ট) নরসিংদী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা আজকে তৈরি হয়নি, এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। গত ১৭ বছর বিভিন্ন জায়গায় সাইনবোর্ড দিয়ে বলা হতো এই এলাকা শতভাগ বিদ্যুতায়ন হয়ে গেছে। আমরা অনেক কিছুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এসবই ছিল শুভঙ্করের ফাঁকি।

শরীফুল আলম বলেন, তারা (পতিত আওয়ামী লীগ সরকার) বিদ্যুতের কোনো স্থায়ী সমাধান না করে কুইকরেন্টালের নামে বিশেষ ব্যক্তিদের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে। আমরা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জনগণের মাঝে বিদ্যুৎ এবং গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার স্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনা তৈরি করছি। সে জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে মাদকের বিষয়টা ওতোপ্রোতভাবে জড়িত হয়ে গেছে। পুলিশের একার পক্ষে মাদক নির্মূলসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এ জন্য সামাজিকভাবে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। অপরাধীদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। অপরাধী যে পরিচয়ই বহন করুক, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের অর্জনগুলোকে নষ্ট করার জন্য একটি মহাল ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছে। তাদের উদ্দেশ্য বুঝতে হবে। তারা যেন কোনো প্রকার অরাজকতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য আমাদের এই সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে।

নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়ার সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী–১ (সদর) আসনের এমপি খায়রুল কবির খোকন, নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনের এমপি মনজুর এলাহী, নরসিংদী–৫ (রায়পুরা) আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ